lifocyte.com

অটোপাশ

অটোপাশ – লক্ষ্যহীন ভর্তিযুদ্ধ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

অটোপাশ

অটোপাশ শব্দটা শুনতে অনেকের নিকট খারাপ লাগে । কিন্তু কি করার, মাহামারী কভিড-১৯  এর কারণে নিরুপায় হয়ে সারা বিশ্বে প্রায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অটোপাশ দিতে বাধ্য । সমস্যা হচ্ছে এসএসসি তে জিপিএ-৫ পাওয়া ছেলেটি এইচএসসিতে-অটো-জিপিএ-৫ পেয়ে গেল । কিন্তু আসলে কি সে তার  উচ্চতর শিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে বা কোন বিষয়ে পড়ার উপযুক্ত ? অনেক অভীভাবকের চেয়ে শিক্ষার্থী নিজেই বিপাকে পড়ে গেছে । সে কি নিয়ে পড়বে ,কেননা সে সব কিছুতে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে । যদিও কিছুদিন আগে তার ভার্সিটি কচিং করারা মানসিকতাও ছিল না (পাশ করবে কি না )। এখন সে মেডিকেল বা বুয়েটের ফরম নিতে বাধ্য হচ্ছে ( অভিভাবকের চাপে) কেননা অটোপাশ এর  জন্য সে এখন অতিমেধাবি । এবার সুরু হয়ে যাচ্ছে লক্ষ্যহীন ভর্তি যুদ্ধ

লক্ষ্যহীন_ভর্তিযুদ্ধ

নিজেকে আমার লেখার সাথে মিলিয়ে দেখ তুমি আসলে কোন বিষয়ে পড়ার উপযুক্ত । অন্যথা লক্ষ্যহীন ভাবে ভর্তিপরীক্ষা দিয়ে অবশেষে ব্যর্থমনোরথে ফিরতে হতে পারে ।

মেডিকেলে_ইঞ্জিনিয়ারিং :

মায়ের আশা ছেলে ডাক্টার হবে, বাবার কথা ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে। ছেলের টা নাইবা বললাম।ভর্তিযুদ্ধে নামার পূর্বে নিজের অবস্থাটা যাচাই কর। যদি ম্যাথে উইক হয়ে থাক ইঞ্জিনিয়ারিং ভূতটা তাড়িয়ে দাও।যদি বায়োলজি পড়তে ভালো না লাগে আর রসায়নে রস না লাগে ডাক্টারি পড়তে গিয়ে রুগী হয়ে মেডিকেলে ভর্তিহওয়ার কোনো দরকার নাই।

ইউনিভার্সিটি ভর্তিযুদ্ধ

তুমিতো জানো যে সাইন্স ভালো বুঝো না, কেন অন্যের কথা ভেবে সাইন্সের সাব্জেক্টে ভর্তির প্রিপারেশন নাও?
বাংলা,ইংলিশ, কলা বিভাগ , বি এস এস এগুলো কি কম দামি? কখনই না। আমাদের মানসিকতার অভাব, কিছু অর্ধশিক্ষিত লোকের সমালোচনাকে ভয় করে নিজের উপযুক্ত সাবজেক্ট নির্বাচন করতে না পারায় এতো বিড়ম্বনা।
তুমি বল, যে ছেলেটা DU এ, ‘ক ও ঘ’ ইউনিট প্রিপারেশন নিল আর যে শুধু ‘ক বা ঘ’ ‘নিল কার চান্সের সম্ভবনা বেশি? তাই কিরকম পরীক্ষা দিয়েছো কোন বিষয়ে উইকনেস আছে তা তুমি নিজে যতটা ভালো জানো তোমার অভিভাবক ততটা জানে না। তাই তোমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এবার দেখ তুমি কি বিষয় নিয়ে পড়ার উপযুক্ত :

১.মেডিকেলে বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার উপযুক্ত যোগ্যতা ও মানসিকতা থাকলে এবং তদানুসারে শ্রম দিয়েও যদি চান্স না হয় তবে যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইন্সের সাবজেক্ট নিয়ে পাড়াই উত্তম।
বিশেষ করে মেডিকেলে না হলে এগ্রিকালচার ইউনিভারসিটি ও ইঞ্জি. না হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিশ্ব.গুলোর নতুন নতুন সাবজেক্ট নিয়ে পড়াই উত্তম হবে।
২.শুধু সাইন্সের প্রিপারেশন নেওয়ার অর্থই তুমি দুর্বল তাই সাইন্স বাদ দিয়ে কলা বিভাগের প্রস্তুতি নাও দেখবে অনেক ভালো বিষয়ে চান্স পেয়ে যাবে।

৩.গতানুগতিক সাবজেক্ট যেমন গণিত,পদার্থ,রসায়ন,ইতিহাস,রাষ্টবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি বিষয় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, কলেজে অনেক সীট থাকায় ক্যারিয়ার গঠনে অনেক বেগ পেতে হয়। তাই নতুন বিষয় গুলোতে ভর্তি হওয়াই ভালো।অবশ্য অনেক সুধি বলে থাকবে যে পাশ করে চাকুরি নেই ইত্যাদি।অথচ তুমি পাশ করে বের হতে হতেই দেখবে যে ক্ষেত্র তৈরি হয়ে গেছে। বর্তমানের যে বিষয় গুলো অনেকে পড়তে চায় না অথচ ফিউচার অনেক উন্নত তা হল :স্বাস্থ্য অর্থনীতি, দূর্যোগ ব্যাস্থাপনা, খাদ্য পুষ্টি, ইত্যাদি।
আমি অনেক দেখলাম যে ফসলে দাম কমে যায় বাঙ্গালী সেটা চাষ বন্ধ করে দেয় আর যার দাম বেশি দেখে সকলেই এতো চাষ করে যে পরবর্তি বছরে চাহিদাই থাকে না। বি বিএ এর চাহিদা শেষ প্রায় ১০ বছর পূর্বে আজও হুজুগেই চলছে বাঙ্গালী। কম্পিউটার সাইন্স,ট্রিপল ই, ফার্মেসি, বুটেক্স, চার্টার্ড একাউন্টিং বিষয়গুলোকে অনেকে ফ্যাশন হিসাবে নিয়েছে। এটা অতিমেধাবিদের জন্য। নরমাল পেটে ঘি হজম হয় না।


৪. সাবজেক্ট যাই হোক যদি রেজাল্ট ভালো হয় এবং শ্রম দিতে পারো দেখবে সফলতা পাবে ইংশা আল্লাহ।আর যত ভালো সাবজেক্টে পড় না কেন ভালো না জানলে কিছুই লাভ নেই। তাই নিজ মেধা, যোগ্যতা অনুসারে ভর্তিযুদ্ধ অংশ নাও লক্ষ্যহীন তীরছুরে কিছুই ফল পাবে না। লক্ষ্য স্থীর করে ভর্তির প্রস্তুতি নাও।
৫.যদি ভাব যে তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপযুক্ত নও তবে  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভূক্ত কলেজ সমূহে ভর্তি  প্রস্তুতি নাও ।

 

প্রাইভেট_বিশ্ববিদ্যালয়ে_ভর্তি 

যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর অধিভুক্ত কলেজেও চান্স না পাও তবে তুমিই বলো কেন পেলে না? আমার সাফ কথা জেনে নাও তোমার লেখাপড়ায় রুচি নাই। অবশ্য অনেক মেধাবিও আটকে যায় যার সংখ্যা অতি নগন্য। তাই বলে কি লেখাপড়া বাদ দেওয়া যায়। বিয়ের বাজার বলে কথা আছে না? বাবা মায়ের আদর্শ সন্তানের একটা উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেট চাই। চাওয়া থেকে ঝটপট হাজির হয়ে গেলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। তোমার মেধা কিরুপ তা তুমি আমার থেকেও ভালো জানো। দুর্ভাগ্যক্রমে ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেলে চান্স না হলে সাহস ও মেধা থাকলে প্রাইভেটে পড়তে পারো। কিন্তু শখের বসে হলে ১০০০ মাইল দুরে থাক। বাবার টাকা আছে বলেই ভাব না নিয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী সাবজেক্ট নির্বাচন কর। আমি মনে করি বি.এস.এস. এর সাবজেক্ট গুলো, ল’, বাংলা, ইংলিশ, কৃষি তোমার উপযুক্ত সাবজেক্ট। প্রগ্রাম না বুঝলে কম্পিউটার সাইন্সনিয়ে পড়া, আর ইংরেজিতে দুর্বলতা সত্যেও আই আর পড়া সত্যিই বুদ্ধির ঢেঁকির পরিচায়ক।

যদি তোমার বাবা মায়ের মাসিক আয় ৪০,০০০/- টাকার কম হয় এবং যদি জমি বিক্রয় করে লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয় তবে আমি বলব পাস কোর্সে ভর্তি হয়ে যাও ডিগ্রী পাশের পর মাস্টার্স করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
যদি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়তেই হয় তবে নিম্নোক্ত বিষয়াবলী বিবেচনা করে নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নাও।

সাবজেক্ট নির্বাচন

#ইংরেজিতে তুখড় না হলে ইংলিশ,আই আর, গণযোগাযোগ, লোকপ্রশাসন না নেওয়াই উত্তম।
পদার্থ ও গণিতে পারদর্শিতা না থাকলে কম্পিউটার, ট্রিপল ই, সিভিল,আই টি অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াটাই বোকামি।
#রসায়ন_বায়োলজিতে দুর্বলতা থাকলে ফার্মেসী, বায়ো কেমিস্ট্রি, টেক্সটাইল, মেডিকেল, এগ্রিকালচার,ভেটার অর্থাৎ বায়োলজিক্যাল সাইন্সে না পড়াই উত্তম।
#সাইন্সে ও ইংলিশে দুর্বলতা থাকলে বেসরকারি ইউনিভার্সিটিতে পদার্থ, রসায়ন, জীব ইত্যাদি জেনারেল সাবজেক্টে না পড়ে, সমাজ বিজ্ঞান, সমাজকর্ম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বিবিএ,আইন, অর্থনীতি, ভূগোল, বাংলা, ইতিহাস,দর্শন নিয়ে অধ্যায়ন করাই উত্তম।
অনান্য বিষয়গুলো আলোচনায় না নেওয়ার কারন হলো ফ্যাশনেবল সাবজেক্টে পড়ার চাইতে ডিগ্রী পাস করে চাকুরী কর কিংবা কোনো বাহিনীতে চাকুরি নাও এটাই তোমার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।
অনেক ভুলের মাসুল হচ্ছে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়া। অতএব ভালোকরে লেখাপড়া করোএখান থেকেও গেইন করতে পারবে। আর সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য হলে পুরোটাই বৃথা এই টাকা দিয়ে ব্যাবসা করলেই বেশি ফায়দা হতো।

ধন্যবাদান্তে
ডা.শাহ মো: মাহাবুবার রহমান।
বি.এস-সি(আনার্স),এম.এস-সি(ফলিত গণিত) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
ডি এইচ এম এস ( বিএইচবি)।

( অটোপাশ ) ( অটোপাশ )

1 thought on “অটোপাশ – লক্ষ্যহীন ভর্তিযুদ্ধ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *