lifocyte.com

আমড়া কলা খেজুর

আমড়া ,কলা ও খেজুর এর পুষ্টিগুন এবং রোগ নিরাময়ে ভূমিকা

আমড়া ,কলা খেজুর

এই তিনটি ফল আমাদের সকলের পরিচিত এবং সহজলভ্য । আমড়া  সিজেনাল ফল হলেও কলা ও খেজুর সারা বছর পাওয়া যায় । শরীর সুস্থ্ রাখতে ঔষধ নয় পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহন করুন । খাদ্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা । আমড়া ,কলা ও খেজুর এর পুস্টিগুন জেনে নিয়মিত  পরিমান মত  খান সুস্থদেহ সুস্থমন  নিয়ে জীবন ধারন করুন ।

কেন প্রতিদিন কলা খাবেন ?

“‘”””””””‘””””””””””””””””””””””””””’

কলা

কলার মধ্যে রয়েছে আঁশ, যা হ্জম প্রক্রিয়াকে ভালো করে। নিয়মিত কলা খেলে হজম ক্ষমতা ভালো হয়। এ ছাড়া এর মধ্যে রয়েছে আরো অনেক পুষ্টিগুণ।
লাইফস্টাইল-বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতার কথা।
১. শরীরে হিমোগ্লোবিন ও ইনসুলিনের জন্য প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-বি৬ প্রয়োজন। এই পুষ্টি শরীরের অনেক উপকারে আসে।
২. গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন তিনটি কলা খাওয়া রক্তচাপে প্রভাব ফেলে। যাঁরা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা প্রতিদিন কলা খেলে ভালো বোধ করেন।
৩. কলার মধ্যে আয়রন রয়েছে। এটি নিয়মিত খেলে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ হয়।
৪. কিছু গবেষণায় বলা হয়, কলা খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভব হয়, যা অন্যান্য খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে কাজে দেয়।
৫. সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়, আঁশ কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমায়। তাই নিয়মিত কলা খান, তবে হার্ট ভালো থাকে।
৬. শরীরের পেশির জন্যও কলা ভালো। এর কারণে দৌড়বিদরা নিয়মিত কলা খান।
৭. অনেকে ভাবেন, কেবল লেবু বা কমলার মধ্যে ভিটামিন-সি রয়েছে। তবে এই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানটি কলার মধ্যেও রয়েছে।
৮. কলার মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম। কলার মধ্যে থাকা উপাদান ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে।

আমড়ার উপকারিতা

“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

আমড়া

দেশি ফলের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ও পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল হলো আমড়া। সহজলভ্য মজার এই ফল ছোট-বড় সবার কাছেই প্রিয়।
আমড়া বছরজুড়েই বাজারে পাওয়া যায়, তবে বেশি পাওয়া যায় বর্ষা ঋতুতে। আমাদের দেশে আগস্ট মাসে এই ফল বাজারে আসে আর থাকে অক্টোবর পর্যন্ত। পেরু, আফ্রিকার কিছু অংশ এবং ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া আমড়া চাষের জন্য বিখ্যাত। আমাদের দেশে পিরোজপুর জেলায় এর উৎপাদন বেশি হয়ে থাকে। অম্লস্বাদযুক্ত বরিশালের আমড়া বছরে একবার ফলন দিলেও থাইল্যান্ড থেকে আমদানীকৃত আমড়ার গাছ বারো মাস ফল দেয়। কাঁচা আমড়া টক বা টকমিষ্টি হয়, তবে পাকলে টক ভাব কমে আসে এবং মিষ্টি হয়ে যায়।

আমড়ার পুষ্টি উপাদানঃ

আমড়াতে ৯০ শতাংশ পানি। আমড়ায় যথেষ্ট পরিমাণ পেকাটনজাতীয় ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান থাকে।
প্রতি ১০০ গ্রাম আমড়াতে শর্করা ৪ থেকে ৫ শতাংশ, আমিষ ১ দশমিক ১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৬ মিলিগ্রাম, লৌহ চার মিলিগ্রাম।
ক্যারোটিন ২৭০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন-বি ১০ দশমিক ২৮ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন-সি ২০ মিলিগ্রাম পাওয়া যায়।

ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আমড়া প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তথা ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল। এই ভিটামিন-সি আমাদের বার্ধক্যকে প্রতিহত করে, ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, মাড়ি ও দাঁতের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। আমড়ার গুণে ত্বক, নখ ও চুল সুন্দর থাকে। সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে এটি বেশ উপকারী।

রক্তস্বল্পতা দূর করতে

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আমাদের দেহের সর্বত্র অক্সিজেন সরবরাহকারী হিমোগ্লোবিন ও মায়োগ্লোবিনের মূল উপাদান লৌহ। তাই দেহের সুস্থতা রক্ষায় লৌহ প্রয়োজন এবং দৈনিক একটি আমড়া গ্রহণে ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ লৌহের দৈনিক চাহিদা পূরণ সম্ভব। লৌহ আমাদের রক্তস্বল্পতা দূর করতে বেশ কার্যকর।

ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আমড়া শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমাদের শরীরের অতিরিক্ত উত্তাপকে নিষ্কাশনে সাহায্য করে আমড়া। আমড়া রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে আমড়া

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””
বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধে আমড়ার আঁশ উপকারী।   খিঁচুনি রোধে খিঁচুনি ও পিত্তনাশক হিসেবে আমড়ার ব্যবহার বহুল প্রচলিত।
অরুচি ভাব দূর করে
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আমড়া গ্রহণে মুখের অরুচি ভাব দূর হয়। এক কাপ পানিতে আমড়ার শাঁস ভিজিয়ে রেখে পরদিন তাতে সামান্য চিনি মিশিয়ে খেলে খাওয়ার অরুচি কমে যায়।
প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে আমড়া
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আমড়াগাছের বাকল, পাতা, ফল, ফুল ও শেকড় ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। যেমন—দক্ষিণ আমেরিকায় ধাত্রী রোগের চিকিৎসায় আমড়াগাছের পাতা ও বাকল ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সন্তান প্রসবের ব্যথা দূর করতে, প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে, মায়ের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে ও জরায়ুমুখের যেকোনো সংক্রমণ দূর করতে এগুলো ব্যবহৃত হয়।

পাতাও উপকারী

“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””
আমড়াগাছের পাতা ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, পেটব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া অণুজীবঘটিত সর্দি-জ্বর, গলাব্যথায় এটি উপকারী।
যেকোনো ধরনের পোড়া, ক্ষত, আঘাতে পাতার প্রলেপ দেওয়া যায়। আমড়াগাছের পাতার মতো এর বাকলও যেকোনো বাহ্যিক ক্ষতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

প্রতিদিন ইফতারে খেজুরের স্বাস্থ্য উপকারিতাখেজুর


#খেজুর মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে উৎপাদিত একটি ফল হলেও মুসলমানদের কাছে খেজুর একটি তাৎপর্যপূর্ণ একটি ফল। ইসলামের ইতিহাসে অনেক নবী-রাসূলগণ খেজুর দিয়ে সেহেরি ও ইফতার করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় মরুর এই ফলটি ইফতারিতে থাকাটা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু নিয়মের জন্যই নয়, রোজায় প্রতিদিন খেজুর খেলে পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি উপাদান এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা।
#রোজায় দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার কারণে দেহে গ্লুকোজের ঘাটতি দেখা দেয়। শরীরের এই প্রয়োজনীয় গ্লুকোজের ঘাটতি পূরণ করে ইনস্ট্যান্ট শক্তি যোগায় খেজুর। তাই প্রতিদিন ইফতার শুরু করা উচিত খেজুর দিয়ে।
খেজুরের পুষ্টিগুন
চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি খাদ্যশক্তি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মি.লি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবার, পানি ।
আয়রণ, ভিটামিন ‘বি-১’, ভিটামিন ‘বি-২’ ও সামান্য পরিমাণ ভিটামিন ‘সি, ফলিক অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সালফার।
এছাড়া খেজুরের রয়েছে আরও অনেক উপকারী গুণ। সেগুলো হলো-
# যকৃৎ ও পাকস্থলীর শক্তিবর্ধক,যকৃতের সংক্রমণ প্রতিরোধে খেজুর উপকারী।
#খেজুরে থাকা গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে, দুর্বলতা দূর করে, ইন্সট্যান্ট কর্মশক্তি প্রদান করে
#খেজুর শরীরে রক্ত উৎপাদন করে, যা নিয়মিত খেলে আয়রনের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি রক্তাল্পতা দূর করে।
#প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকার কারণে নিয়মিত খেজুর হজমে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর পাশাপাশি এতে বদ-হজম, কোলাইটিস এবং হেমোরয়েডের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।
# খেজুরে প্রচুর পরিমানে এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
# রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, এছাড়া গলাব্যথা এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বর, সর্দি ও ঠাণ্ডায় বেশ কাজ দেয়।
#খেজুর বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য সমৃদ্ধ এক খাবার। যা মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ আরও বাড়িয়ে দেয় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
#খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে রাতকানা প্রতিরোধেও সহায়ক।খেজুরের মধ্যে রয়েছে জিক্সাথিন ও লিউটেইন। এই উপাদানগুলো চোখের ম্যাকুলার ও রেটিনার ভালো রাখে।
#ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যান্সার রোধ করে
#খেজুরে থাকা ভিটামিন সি ও ডি ত্বক ভালো রাখে।
#খেজুরে থাকা সালফার অ্যালার্জির মতো রোগ থেকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
#অন্ত্রের কৃমি ও ক্ষতিকারক পরজীবী প্রতিরোধে খেজুর বেশ সহায়ক। অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে।
প্রতিদিন ইফতারে ও সেহেরিতে খেজুর হতে পারে একটি আদর্শ ফল