lifocyte.com

কষ্টকর ঋতুস্রাব এর কারণ ,লক্ষণ ও হোমিওপ্যাথিক  চিকিৎসা

কষ্টকর ঋতুস্রাব

মাসিক কিংবা ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের তলপেটে এবং কোমরে একপ্রকার কষ্টকর ব্যথা অনুভূত হয় একে  বাধক বেদনা বা কষ্টকর ঋতুস্রাব বলে।  ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় ৮০% মেয়ে লজ্জা কিংবা ভয়ে কষ্টের কথা শেয়ার করে না । ফলে তারা বিনা চিকিৎসা কষ্ট করেন এবং ভবিষ্যতে  বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। কষ্টকর ঋতুস্রাব চিকিৎসা না করলে একদিন বন্ধ্যাত্ব ,জরায়ুটিউমার , ক্যন্সারের সহ নানা প্রকার যৌন সমস্যার  দিকে চলে যেতে পারে ।

Dysmenorrhoea এর কারণ

  • মাসিকের সময় বেদনার বা কষ্টকর ঋতুস্রাব বিভিন্ন কারণ রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলোঃ
  • পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন তা ও সচেতনতার অভাব
  • জরায়ুর গ্রীবা পথের সংকোচন
  • ঠান্ডা লাগা।
  • কোন কারনে জরায়ুতে আঘাত পাওয়া
  • জরায়ুর বিভিন্ন ধরনের রোগ
  • ডিম্বকোষের প্রদাহ।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • অতিরিক্ত লিউকোরিয়া বা সাদাস্রাব হওয়া
  • জরায়ুর টিউমার
  • যোনি প্রদেশে ক্ষত
  • অতিরিক্ত যৌনানুভূতি বা অনুভূতিহীনতার জন্য হতে পারে ।
  • কৃত্রিম উপায়ে যৌনতৃপ্তি নেয়া ।
  • শরীরের অন্যান্য রোগ সহ অরো কিছু অজানা কারণ।

 

কষ্টকর ঋতুস্রাব এর  লক্ষণ

  • ঋতুস্রাবের পূর্বে তলপেটে মারাত্মক ব্যথা।
  • মাথা ঘোরা ও হাত পা ভীষণ জ্বালা পোড়া।
  • কোমরে ব্যথা ও ব্যথা সহ্য করতে না পারা।
  • জরায়ুতে ব্যথা
  • ঋতু নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে কিংবা পরে আরাম্ভ হওয়া।
  • অল্প সময় স্থায়ী হওয়া ও স্রাব কম হওয়া কিংবা অতিরিক্ত বেশী হওয়া।
  • ঋতুস্রাব কালীন বা শুরুর পূর্বেই বুক ধড়ফড় করা,ক্ষুধাহীনতা
  • বমি বমি ভাব বা বমি করা ও মাথায় যন্ত্রনা সহ নানা প্রকার কষ্টকর লক্ষণ।

 

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

আমাদের দেশে ছেলেদের স্বপ্নদোষ আর মেয়েদের ঋতুস্রাব এর কথা সাধারণত অভীভাবকের সাথে শেয়ার করা হয় না । লাজুকতা এর অন্যতম কারণ । এই সমস্যাদুইটা  অন্যান্য অসুস্থতাতে থেকে কোনও অংশে কম নয় বরং এর পরিণতি ভয়নক হতে পারে । প্রারম্ভিক অবস্থায় চিকিৎসা নিতে পারলে এনেক ভয়ানক সমস্যার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায় । এর পরিণতি  বন্ধ্যাত্ব পর্যন্ত গড়াতে  পারে ।  বর্তমানে মেয়ের মা বা বোর বোনের সহায়তা নেয় এটা অনেক ভালো । কিন্তু কষ্টকর ঋতুস্রাব এর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা অনেক সহজ হলেও অনেক সময় ঔষধ নির্বাচন করা কঠিন হয়ে পড়ে  ।

পালসেটিলা , সিকেলি , সিপিয়া , কলোফাইলাম, থুজা , মেডোরিনাম এর লক্ষণ বিবেচনা করে ঔষধ দিলে খুব দ্রুতই ব্যাথা বা ঋতুস্রাব জনিত কষ্টকর লক্ষণগুলো  নির্মূল হয়ে যায় । মেটেরিয়া মেডিকা অনুসারে উক্ত ঔষধ গুলোর উপযুক্ত লক্ষণ মিলাতে হবে ।

সাধারণত সকল হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগণ পালসেটিলা,সালফার,সিপিয়া,কোনিয়াম,বোরাক্স,গ্রাফাইটিস, আর্সেনিক, আর্নিকা, থুজা,ক্যালকেরিয়া কার্ব, ক্যামোমিলা, কলোফাইলাম, ল্যাকেসিস,সিকেলি কর, টিউবারকুলিনাম  ইত্যাদি ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন ।

এই সকল ঔষধের বিস্তারিত বিবরণ লিখে লেখার কলেবর বাড়ালাম না । এখানে আমি আমার কিছু অভিজ্ঞতা বর্ণনা করব হয়তো কারো উপকার হবে ।

ক্রিয়োজটঃ

২০০১ সালে এক রগীনির লক্ষণ পেলাম মাসিক শুরু হলে আর বন্ধ হয় না বন্ধ হলেও কিছু দিন পরে আবার চালু হয় । চেহার পাতলা ,খাটো ফর্সা ।নির্বাচিত অনেক হোমিও চিকিৎসা দিয়ে অভিজ্ঞ অনেক চিকিৎসক হাপিয়ে উঠেছেন ।  তার এই সমস্যা ১৫বছর বয়স থেকে চলে আসছে । বিয়ের পড়ে সহবাসে কষ্ট হয় যোনীর শুষ্কতা জনিত কারণে ব্লেডিং শুরু হয়ে যায় আর বন্ধ হচ্ছে না । তার দাঁতে সমস্যা ছিল ইত্যাদি কিছু লক্ষণ নিয়ে তাকে ক্রিয়জট ২০০ (দেশি) ৩ বা ৪ বার খাওয়ানোর পরই ব্লাড বন্ধ হয়ে যায় । এর পর থেকে  আর কোনোদিন তার ঋতুস্রাব জনিত সমস্যা দেখা যায় নি ।

কিছুদিন আগে  তার মেয়ের প্রথম ঋতুস্রাব কালিক কষ্টকর নয় কিন্তু অনেক রক্ত যাচ্ছে  বন্ধ হচ্ছে না ,আমাকে বলায় এবারো কয়েক মাত্রা ক্রিয়োজট দিলে মেয়েটি স্বাভাবিক হয় ।  তাই ঋতুস্রাব জনিত সমস্যায় ক্রিয়োজটকে স্মরণ করা কর্তব্য ।

চায়নাঃ

আমি নতুন প্রাকটিস করার সময় এক মহিলার স্বামি এসে বলল স্রাব শুর হচ্ছে আর বন্ধ হচ্ছে না রোগী দূর্বল হয়ে নেতিয়ে পড়ছে । অনেক ঘেটেঘুটে সিকেলি কর , স্যাবাইনা , হ্যামামেলিস ,ইত্যাদি দিয়েও কোন কাজ হয়নি । ফলে তিনি একজ প্রবিণ হোমিও চিকিৎসকের নিকট যান ( তিনি হোমিও এলপ্যাথ, আয়ুর্বেদ সব কিছুই বিক্রি করেন ) । তার নিকট থেকে একড্রাম হোমিও ঔষধ নিয়ে খেয়ে মহিলা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে । আমি কথাটা শুনে খুব লজ্জ্বা পেলাম । কিন্তু কি এমন ঔষধ দিল যে তাঁর দ্বারা কাজ হল আর আমারটা হলো না ? কৌতুহল বসত আমি সেই চিকিৎসকে জিজ্ঞাসা করলাম ,তিনি বললেন যে তিনি চায়না ৩০ দিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন । এবার বুঝলাম দুর্বলতার জন্য হয়ত তাকে চায়না দিয়েছিল । তাই  রোগ লক্ষণ নয় রোগীর লক্ষণ দিয়ে হোমিও চিকিৎসা দিতে হবে 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *