lifocyte.com

কোনিয়াম -(ইউরিন ইনফেকশনে) এর একডোজের অবিশ্বাস্য ক্রিয়া

কোনিয়াম

একডোজ কোনিয়াম দিয়ে প্রস্রাবের সময় মূত্রনালীর জ্বলা নিরাময়ে অমি বিস্মিত হয়ে যাই। এজন্য যে কোনো প্রকার রেপার্টরি বা কেইস টেকিং বা মেটেরিয়া মেডিকা জ্ঞান নয় সামন্য একটি মাত্র লক্ষণ বিবেচনায় কোনিয়াম -২০০ কয়েক ডোজ দেই। এক ডোজেই জ্বালা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যায়। যারা একটি লক্ষণ বিবেচনায় চিকিৎসা দেয়ার ঘোর বিরোধী তাদের জন্য এখানে কিছু উপহার আছে।নিচে একজন রোগীর রোগ বর্ণনার মাঝেই কোনিয়ামের ক্রিয়া ফুটে তোলা হয়েছে।

প্রারম্ভিকা

 একজন রোগী( শিক্ষক)  আসল প্রায় ১৫ দিন থেকে খুবই দুর্গন্ধ যুক্ত পানির ন্যায় পাতলা পায়খানা করছেন। মেট্রোনিডাজল গ্রুপ সহ অনেক এলোপ্যাথি দিয়ে কোনো প্রকার কাজ হয় নি। এর মাঝে হোমিও চিকিৎসাও করেছেন, অপরিবর্তনীয়। আমি সামন্য কিছু কেইস টেকিং নিয়ে তাকে মার্কসল -২০০ কয়েক ডোজ দিলাম। পরদিন থেকে দিনে দুইবার স্বাভাবিক পায়খানা হয়েছে।সেদিন প্রস্রাবের জ্বালার কথা বলেছিলেন কিন্তু জোরালো ভাবে কিছু বলেননি তাই সেদিকে গুরত্ব দেয়া হয়নি। 

ইউরিন ইনফেকশন

৪/৫ দিন পর এসে বলতেছে বহুদিন থেকে প্রস্রাবের সময় ডান নালী থেকে জ্বালা করে। এক অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন দেখালেন। তিনি অনেক দিন থেকেই তার চিকিৎসা করাচ্ছেন, মাঝ খানে পায়খানার সমস্য হওয়ায় ঔষধ সেবন বন্ধ আছে। প্রেসক্রিপশন দেখলাম  বার্বেরিস ভল্গ -১০ ও ক্যান্থারিস -২০০ দিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন। কিন্তু রোগীর পীড়ার  কোনো পরিবর্তন হয় নি।

কেইস টেকিং নিয়ে বা রেপার্টরি অনুযায়ী চিকিৎসা দিলে তার লক্ষণে উক্ত মেডিসিন দুইটা নির্বাচন করতে চিকিৎসক মহোদয় সম্পূর্ণ সঠিক চিকিৎসা দিয়েছে।প্রশ্ন হলো এতো নিখুঁত নির্বাচনেও কেন ঔষধ কাজ করল না?

কোনিয়াম এর অবিশ্বাস্য ক্রিয়া

যেহেতু উক্ত ওষুধ দুইটি দিয়ে কোনো ফল আসে নি তাই আমি তাকে উক্ত দুইটি মেডিসিন না দিয়ে কোনিয়াম -২০০ কয়েক ডোজ দেই। তিন দিন পর রোগী তার ফ্যামিলির চিকিৎসা নিতে আসেন ও নিজের শুধু এসিডিটির অভিযোগ করেন।  আমি উপযাজক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার প্রস্রাবের জ্বালা কি ভালো হইছে? তিনি তার ছেলের দিকে তাকিয়ে বলতেছেন জ্বালা…. কই, মনে হয় জ্বালা নাই…  হতবাক হয়ে উত্তর দিচ্ছেন । আমিই বললাম আরে জ্বালা থাকলে তো বলতেই পারতেন, নয় কি?  উত্তরে তিনি বললেন  আসলে জ্বালার কথা তার মনেই নাই। কখন সেরেছে তাও মনে করতে পারছেন না। উনি এতোটাই স্বাভাবিক প্রস্রাব করছেন যে তার পূর্বের রোগের কথাও ভুলে গেছেন।

কেন কোনিয়াম নির্বাচন করলাম?

রোগী প্রস্রাবের যন্ত্রণার বর্ণনা কালে একভাব বলছেন প্রস্রাবের সময় শরীরটা ঝাকি দিয়ে উঠে। আমি মৃদু হেসে বললাম ইনশাল্লাহ রোগ সেরে যাবে। কয়েক ডোজ কোনিয়াম -২০০ দিয়ে দিলাম। আলহামদুলিল্লাহ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ।

কেইস টেকিং এর আবশ্যকতা কতটুকু?

অবশ্যই কেইস টেকিং করতে হবে। অদ্ভুত ও দূর্লভ লক্ষ্মণগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা। রোগীর বয়স ছিল প্রায় ৫৫ বছর, আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাকে ১৫ বছর থেকে জানি। তার মানসিক লক্ষণে কোনিয়ামের অনেক বৈশিষ্ট্য আছে। তবে এই একটি লক্ষণ প্রস্রাবের সময় ঝাকি দেয়া লক্ষণ থেকেই সিদ্ধান্ত নেই যে তার কোনিয়াম লাগবে।

একক লক্ষণ গুলো অগণিত ঔষধ সমূহের মধ্য থেকে সঠিক ঔষধ নির্বাচনের একটা সহজ উপায়।তাই প্রতিটি ঔষধের অনন্য ( অদ্ভুত, বিরল) লক্ষণের জ্ঞান থাকা জরুরি। যা রেপার্টরিতে মজুদ আছ। মাটেরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরির  জ্ঞানের মিথস্ক্রিয়তাই হোমিওপ্যাথ।

Lycopodium লাইকোপোডিয়াম একডোজের আশ্চর্য ক্রিয়া

ক্যান্থারিস – এক ডোজের অবিশ্বাস্য ক্রিয়া [আমার অভিজ্ঞতা ]

হোমিওপ্যাথিক ঔষধের সপ খুলতে ফ্রি রেজিষ্ট্রেশন করুন 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *