lifocyte.com

কোষ্ঠকাঠিন্যের

কোষ্ঠকাঠিন্যের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

কোষ্ঠকাঠিন্যের  পরিচয়

সরলান্ত্র আবদ্ধ থাকে এবং পায়খানা পরিষ্কার হয় না অর্থাৎ পায়খানা করিয়ে স্বস্তি বোধ না হওয়া এই লক্ষ্মণকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা জটিলতা রুপ নিলে অন্ত্র অবোরোধ, হেপাটাইটিস, লিভার সিরোসিস, এন্টারিক ফিভার এবং এনিমিয়া হতে পারে। এজন্য কোষ্ঠকাঠিন্যের পীড়াকে হালকা মনে না করা।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো হয়।

কারণ

উপযুক্ত খাবারের অভাব, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস। নিয়মিত মলত্যাগ না করা। অলস জীবন যাপন করা, মাদকসেবন করা, হজমের জন্য অতিরিক্ত ঔষধ সেবন করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও অর্শ, উদর ও অন্ত্র পেশির দুর্বলতা, স্নায়বিক বিকৃত, কোলনের ক্রিয়ার বিকলতা, যকৃত,অগ্নাশয়ের নিঃসৃত গ্রন্থিরসের অভাব ইত্যাদি কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের পীড়া হতে পারে। তাই এই পীড়া নির্মূলে কিছু অধিক সময় ধৈর্য্যধরে চিকিৎসা করতে হয়।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

নাক্স ভুমিকা [Nux vomica]:দিনরাতের বেশীর ভাগ সময় শুয়েবসে ( কায়িক অলস)কাটায় কিন্তু মানসিক শ্রমে বিশেষ করে রাত্রি জাগরনে অভ্যস্ত।শীতকাতর , ভয়ঙ্কর বদমেজাজী, প্রতিবাদী, কথার বিরোধীতা সহ্য করতে পারে না । বিশেষত যারা দীর্ঘদিন পায়খানা নরম করার জন্য বা এসিডিটি বা বিভিন্ন পীড়ায় সবসময় ইউনানি বা এলোপ্যাথিক ঔষধে আসক্ত , তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশী কার্যকর। পুনঃপুন বৃথা মলতাগের চেস্টা, প্রতিবারে সামান্য মলত্যাগ। প্রাতকালে মলবেগ, জিহ্বার সামনের অংশ পরুস্কার শেষের দিকে অর্ধকন্টকে পূর্ণ, ধারগুলো সাদা, হরিদ্রাবর্ণ, ফাটাফাটা ইত্যাদি নাক্সের পরিচায়ক লক্ষণ মিললে নাক্স ভুমিকা কিছুদিন সেবনে উপকৃত হয়। পাইলসের রোগীদের  সকালে সালফার এবং সন্ধ্যায় নাক্স ভুমিকা খুবই কার্যকর। 

নাক্স ভুমিকা -মেটেরিয়া মেডিকার পরশমণি -একডোজের অবিশ্বাস্য ক্রিয়া

এলুমিনা [Alumina]:

পায়খানা নরম কিন্তু বের করতে কষ্ট হয়। কখনও পায়খানার বেগ থাকে তবে অনেক সময় বেগ  থাকে না। মুখ শুকিয়ে থাকে, মলদ্বার লাল হয়ে যায়, ব্যথায় চীৎকার করতে থাকে, পায়খানা করার সময় বসার সিট অথবা সামনে যা থাকে তাকে খুব শক্ত করে ধরে এবং মাঝে মাঝে পায়খানার সাথে রক্ত পরে।

এলুমিনার একটি রোগী বিশ্লেষণ

কিছুদিন  আগে আমি একরোগীতে নাক্সে এর লক্ষণ থাকতেও আশানুরূপ কোনো ফল না পেয়ে তাকে অপিয়াম দিয়ে হালকা উপকৃত হতে দেখ। কিন্তু কয়েকদিন পর যে সেই অবস্থা। অবশেষে তাকে এলুমিনা ৩০ দিয়ে কিছু দিন চিকিৎসা দেওয়ায় এখন স্বাভাবিক আছে। উল্লেখ্য তিনি ৬ বছর ধরে এক হোমিও চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা করে অবশেষে আমার নিকট এসেছিলেন। রোগীর আলুর প্রতি মারাত্মক আকর্ষণ আছে, খাইতে বসলে আলুর তরকারি লাগবেই অথচ এলুমিনিয়াম বলা আছে আলু মোটেই সহ্য হয় না। আলু সহ্য হয় না অথচ আলুপ্রিতী এই বিষেশ লক্ষণটি দেখে এলুমিনা দিতেই রোগী আরোগ্য লাভ করে। 

ওপিয়ম [Opium ]:

পায়খানার বেগ হয় । পায়খানা হয় ছাগল নাদির ন্যায় ছোট ছোট, গোল গোল, কালো, শক্ত মল । যদি আঙুল দিয়ে পায়খানা বের করতে হয়,তবে ওপিয়মকে স্মরণ করবেন ।

সাইলেসিয়া [Silicea]:

রোগী বলে পায়খানা অর্ধেকটা বের হওয়ার পরে পুণরায় ভিতরে ঢুকে যায়।এই ধরণের কোষ্টকাঠিন্যে ,শরীর বা মনের জোর কমে যাওয়া, আঙুলের মাথায় শুকনা শুকনা লাগা, আলো অসহ্য লাগা, ঘনঘন মাথা ব্যথা হওয়া, চোখ থেকে পানি পড়া, মুখের স্বাদ নষ্ট হওয়া,মাংসে অরুচি পাতলা চুল, অপুষ্টি ইত্যাদি।

সাইলেসিয়া [ Silicea ]-হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শতগুণ

ব্রায়োনিয়া এলব [Bryonia album]:

পায়খানা  শুকনা, শক্ত এবং দেখতে পোড়াপোড়া। লম্বা লম্বা সাইজের পায়খানাা।  শিশুদের, বদমেজাজী লোকদের এবং বাতের রোগীদের কোষ্ন্যকোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায়  এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।সবসময় জিহ্বা শুকিয়ে থাকে, সাদা ময়লার প্রলে,তিক্তস্বাদ  এবং প্রচুর পানি পিপাসা থাকে,চুপচাপ থকতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে ইত্যাদি ব্র‍্যায়োনিয়ার লক্ষণ মিললে খুব দ্রুত আরোগ্য লাভকরে। শক্তি ও মাত্রাঃ ৩০, দিনে তিন বার সেব্য। 

লাইকোপডিয়াম [Lycopodium ]:

এটি একটি বহুপরিচিত ঔষধ যা প্রায় সকল রোগেই কাজকরে  শর্ত এর লক্ষণ মেলাতে হবে। যেকোনো রোগের বৃদ্ধি বিকেল ৪-৮টার সময়  , পেটে প্রচুর গ্যাস হয়।সারা বৎসর প্রস্রাবের, হজমের সমস্যা লেগেই থাকে, এদের দেখতে তাদের বয়সের চাইতেও বেশী বয়ষ্ক মনে হয়, স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপ কিন্তু ব্রেন খুব ভালো, এরা খুবই সেনসিটিভ,গরম পানাহার প্রিয়,কৃপন স্বভাবের। বিস্তারিত পড়তে নিচে ক্লিক করুন। শক্তি ও মাত্রাঃ ৩০, দিনে দুই বার সেব্য। 

হাইড্রাসটিস ক্যান[ Hydrastis can ]: মলত্যাগকালে মলদ্বারে খোচামাড়া ব্যথা। হলদে রঙের পায়খানা এবং উপরের পেটে খালিখালি ভাব। রোগী অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতির। মুত্রে পচা দুর্গন্ধ। জিহ্বা সাদা ময়লা প্রলেপ, থলথলে, দাতের দাগ পরে। তিক্ত স্বাদ

গ্রাফাইটিস [Graphites]: অলসতা, দিনদিন কেবল মোটা হওয়া, মাসিকের রক্তক্ষরণ খুবই কম হওয়া, চর্মরোগ বেশী হওয়া এবং তা থেকে মধুর মতো আঠালো তরল পদার্থ বের হওয়া, ঘনঘন মাথাব্যথা হওয়া, নাক থেকে রক্তক্ষরণ হওয়া, আলো অসহ্য লাগা ইত্যাদি। উপরের লক্ষণগুলোর দু’তিনটিও যদি কোন রোগীর মধ্যে থাকে, তবে গ্র্যাফাইটিস তার কোষ্টকাঠিন্য সারিয়ে দেবে।

ল্যাক ডিল্ফোর[Lac defloratum ]:পায়খানা করার সময় প্রসব ব্যথ্যার ন্যায় তীব্র ব্যথ্যা হওয়া, পায়খানার রাস্তায় ছিঁড়ে যায়, মল বড় বড় ন্যার হয় শুকনো।

প্লাম্বাম মেট[plumbum met ]: কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য এটি একটি চমৎকার ঔষধ। মল স্বল্প, কষ্টে নির্গত, কাদার ন্যায় চটচটে মল হলে একে একবার স্মরণ করবেন। মেটেরিয়া মেডিকা থেকে প্লাম্বানের লক্ষণ মিলিয়ে দেখবেন।

এছাড়াও অন্যান্য যে সকল ঔষধ ব্যবহার হয়ে থাকে

Ambra grisea যে সব শিশু খুবই লাজুক, কেউ সামনে থাকলে পায়খানা করতে পারে না, তাদের কোষ্টকাঠিন্যের জন্য এটি প্রযোজ্য । Arnica montana ব্যথা পাওয়া বা আঘাত পাওয়ার ইতিহাস থকলে  কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় আর্নিকা খেতে হবে।Conium শক্ত পায়খানা ত্যাগ করার পর যদি কেউ দুর্বল-ক্লান্ত হয়ে একেবারে বিছানায় শুয়ে পড়তে বাধ্য হয় তার জন্য কোনিয়ামকে স্মরণ করবেন। Collinsonia can পেট ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং পাইলস থাকে।Caobo anima রোগী মনে করে পায়খানা হবে কিন্তু পায়খানা করতে গেলে শুধু বাতাস বের হয়।

স্বাভাবিক জীবন যাপন ও ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ থকতে নিচের আর্টিকেল পড়ুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সহজ উপায় [ঘরোয়া চিকিৎসা]

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *