lifocyte.com

ক্যালকেরিয়া ফসফরিকাম

ক্যালকেরিয়া ফসফরিকাম – বায়োকেমিক এর লক্ষণ ভিত্তিক শক্তি ও মাত্রা

ক্যালকেরিয়া ফসফরিকাম

Calcarea Phosphoricum (C.P) ১২টি বায়োকেমিক ঔষধের মধ্যে একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ  ঔষধ। ক্যালকেরিয়া ফসফরিকাম    ঔষধটি  ক্যালসিয়াম ফসফেটে লবণের অভাব মিটাতে সক্ষম । এটি দাত,হাড় ও রক্ত কনিকার  উপর এর গভীর ক্রিয়া দেখা যায় । এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে নেই আমার এই লেখাটি মেটেরিয়া মেডিকা নয় যে এতুটুকুতেই ঔষধের পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে উঠবে । ক্যালকেরিয়া ফসফরিকাম   ঔষধটিকে  সহজে চানার কৌশল মাত্র। যিনি চিকিৎসক তিনি কলেজেই ক্লাসে ও পরীক্ষায় এর বিস্তারিত পড়েছেন । এখানে ঔষধটিকে সর্টিং করার সহজ উপায় ও কোন রোগে কোন শক্তি অধিক প্রয়োজন তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ।

ক্যালকেরিয়া ফস  এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়

  • বিশেষ পরিচায়ক লক্ষণঃ  অণ্ডলালাবৎ   গাঢ়, চটচটে ও স্বচ্ছ স্রাবই C.Pএর বিশেষ লক্ষণ। যেকোনো রোগেই এই প্রকার স্রাব দেখলে দ্বিধা না করিয়া এই ঔষধ প্রয়োগ করিবেন।
  • মায়াজমঃ সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার।
  • কাতরতাঃ শীতকাতর।                                     
  • আক্রান্তের দিকঃ  ডানপাশ, ডানপাশ হতে বামপাশে, বামপাশ হতে ডানপাশ।
  • ক্রিয়াস্থলঃ অপুষ্টে, ব্রেইন, স্নায়ু, অস্হি, গ্রন্থি, দাঁত, ডান দিকে ও রক্তের ওপরে, মাথার ূঊধ্বভাগ, বক্ষ।  
  • অনুভূতিঃ অনুভূতি যেনো সে বাতকর্ম করবে কিন্তু পারে না। অনুভূতি যেনো  “পাছা ও পিঠ যেনো নিথর ”
  • প্রয়োগঃ করোটির সম্মুখ হাড়ের ক্যাল্ক- কার্ব এবং সম্মুখ ও পেছনে উভয় দিকের হাড়ের পীড়ায় ক্যাল-ফস ক্রিয়াশীল।
  • < বৃদ্ধিঃ প্রাত ৬টায়, অপরাহ্ন ৪টায়, ভোরে ও সন্ধ্যায়, বায়ু প্রবাহে, ঠাণ্ডা বাতাসে, খোলা বাতাসে, সাধারণভাবে ঠাণ্ডায়, ঠাণ্ডা লাগার পরে, আর্দ্র আবহাওয়ায়, আবহাওয়া পরিবর্তনে, পূর্ব বায়ুতে, ভেজা ঠাণ্ডায়, লস অফ ফ্লুইডস, রসালো ফল ভক্ষণে, সঞ্চালনে, দাঁতওঠার ও প্রথম ঋতুদর্শনের সময়, ঠাণ্ডা বাতাসের ঝাপটা, গর্ভাবস্হায়, মানসিক পরিশ্রমে, পীড়ার কথা ভাবলে, টুপির চাপে, রাতের খাবারের পর শুয়ে পড়লে, দৈহিক পরিশ্রমে, তুষারযুক্ত বাতাসে, খাদ্য: আহারের পরে ঋতুস্রাবের আগে ও প্রারম্ভে, শীতল পানীয়ে, ঠাণ্ডা খাদ্যে, বরফ জমানো খাদ্যে ।
  • > হ্রাসঃ গ্রীষ্মকালে, গরমে, শুকনো আবহাওয়ায়, শুয়ে থাকলে, একপাশে চেপে শুলে, বিছানায় শুলে, চুম্বক শক্তিতে, গরম খাদ্যে।
  • ইচ্ছাঃ চুরুট,লবণাক্ত অথবা ধুমায়িত মাংস পছন্দ, কাঁচা খাদ্য, কুটু খাদ্য।
  • অনিচ্ছাঃ ধূমপান।  খোলা বাতাসে।

পীড়া উৎপত্তির কারণ

 শরীর অতিবৃদ্ধি, কোনো দ্রব্য উত্তোলনে, ওপরে ওঠা, দুঃখ, প্রেমে ব্যর্থতা, পানিতে ভেজা, বিরক্তিকর বিষন্ন, ভালোবাসায় বঞ্চিত, একুইট রোগের পর রক্ত স্বল্পতা এবং দুর্বলতা, অতিরিক্ত পড়াশুনা, অতিরিক্ত যৌনক্রিয়া, দুঃসংবাদ, ভগন্দরের অস্ত্রক্রিয়া ইত্যাদির কারণে যেকোনো প্রকার পীড়া হোকনা কেন তার জন্য ক্যালকেরিয়া ফসফরিকাম অব্যার্থ । 

 

পীড়ার লক্ষণভেদে ঔষধের শক্তি ও মাত্রা

অভিজ্ঞ চিকিৎসকগন সাধারণত বভিন্ন পীড়ায় যে সকল শক্তি ব্যবহার করে থাকেন তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো ।যদিও সকল শক্তি কাজ করে তার পরেও  দেখা যায় কিছু বিশেষ শক্তি কিছু বিশেষ পীড়ায় অধিক কার্যকর । ক্যালকেরিয়া ফসফরিকাম এর  লক্ষণ ও  চিকিৎসায় কিরুপ শক্তি অধিক ক্রিয়াশীল তার একটি  ছক নিচে উপস্থাপন করলাম । মনে রাখবেন বায়কেমিক চিকিৎসায়  একটি পীড়ায় একাধিক ঔষধের প্রয়োজন পরে তাই পর্যায়ক্রমে বা মিশ্রন পদ্ধতিতে একধিক বায়কেমিক মেডিসিন লাগতে পারে । ইনশা-আল্লাহ ১২টি বায়োকেমিকের একটি পূর্ণাঙ্গ পিডিএফ কপি অল্পদিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন  । 

পীড়ার বিশেষ লক্ষণ

শক্তি

মাত্রা

ডিজিনেস পীড়ায়( খাওয়ার পরপর সেব্য) 1x,3x ২/৪ বড়ি করে দিনে ২ বার সেব্য ।

ঔষধ সেবনের পর গরম  পানীয় পান করা উত্তম ।

 

*প্রাপ্ত বয়স্কদের ঘন ঘন প্রয়োগ করা উচিত নয়।

 

 

*শিশু ২ বড়ি পূর্ণবয়স্ক ৪ বড়ি

শিশুদের ভয় পাইয়া ক্রন্দন(বালিকাদের), 3x
এনিমিয়া বা রক্তাল্পতা(নতুন রক্তকনিকা বা হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধিতে) 3x
স্বপ্নদোষ পীড়ায় রাত্রে শয়ন কালে সেব্য 3x
দন্তোদগমকালীন পীড়ায় দুধসহ সেব্য 3x
স্ত্রীলোকদের স্তনে দুগ্ধ কম হইলে (4x উত্তম) 3x,6x
তামক খাওয়ার ইচ্ছে দূর করতে 5x
টনসিল বিবৃদ্ধির জন্য প্রথমে ৩এক্স পরে ১২এক্স 3x,12x
ব্রেন ফ্যাগ (মস্তিস্ক খালি বোধ) ,শারিরীকদুর্বলতায় 6x
শিশুদের ব্রহ্মতালু জোড়া না লাগলে 12x
স্নায়ুবিক অবসাদ ও স্নায়ুশূল পীড়ায় (K.P -12x সাথে পর্যায়ক্রমে 12x
হুপিং কাশি ক্রপে , পুরাতন উদারময়ে(N.S-12x সাথে পর্যায়ক্রমে) 12x
শিশুর দাঁত উঠার সময় আক্ষেপ বা আক্ষেপ ও বমন হইলে 12x
রক্তস্বল্পতাজনিত শিরঃপীড়া (N.M: K.P,Silicea) 12x,30x,200x 200x কয়েক দিন পর পর দিতে হয়

সতর্কতা

ক্যালকেরিয়া ফস -পুনঃপুনঃ অধিকদিন প্রয়োগ করা যায় না। দির্ঘদিন ব্যবহারের ফলে উহা দ্বারা ক্ষয়রোগ হওয়ার সম্ভবনা থকে।শিশুদের ঘন ঘন  প্রয়োগ করা গেলেও শিশুদের হাড় পূর্ণতা প্রাপ্ত হলে বা পূর্ণ বয়স্কদের বেলায় এর ব্যবহারে সংযত হতে হবে। একান্তই দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে হলে ১২ এক্স শক্তির নিম্নে ব্যবহার করা অনুচিত ।

মেটেরিয়া মেডিয়া দেখে নিশ্চিত হয়ে নিবেন রোগীর মাঝে ক্যালকেরিয়া ফসের  এর অভাব আছে কিনা । লক্ষণ মিললে বায়কেমিক ঔষধের কয়েকমাত্রাতেই রোগী উপশম বোধকরে । এই ঔষধগুলো হোমিওপ্যথির সম্পুরক ঔষধ । তাই এর সাথে হোমিওপ্যাথির তেমন কোনো সংঘর্ষ হয় না বিধেয় বহুকাল থেকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগন বায়োকেমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছেন । যারা এর বিরোধিতা করেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন তাহলে ডিএইচএমএস কর্সে এর সংযুক্তি কেন ?

মনে রাখবেন বায়কেমিক চিকিৎসায়  একটি পীড়ায় একাধিক ঔষধের প্রয়োজন পরে তাই পর্যায়ক্রমে বা মিশ্রন পদ্ধতিতে একধিক বায়কেমিক মেডিসিন লাগতে পারে ।

 

বায়োকেমিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে বিস্তারিত পড়ুন ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *