lifocyte.com

Tuberculinum

টিউবারকুলিনাম ( Tuberculinum )-এর পরিচায়ক লক্ষণসমূহ

টিউবারকুলিনাম  ( Tuberculinum )

টিউবারকুলিনাম ( Tuberculinum)-নাম শুনলেই অনেক হোমিও চিকিৎসক কে আতকে উঠতে দেখেছি । মনে হয় এই একটামাত্র মেডিসিন প্রয়োগে ভুল হলে রোগীর সর্বনাশ হয়ে যাবে । হোমিওপ্যাথিক প্রতিটি মেডিসিন যথেষ্ট কার্যক্ষতা রাখে তবে দুই একমাত্রা ঔষধ প্রয়োগে কখনই তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না । বরং না বুঝে একাধিক ঔষধ প্রয়োগের ফলে কৃত্রিম লক্ষণের সৃষ্টি হয়ে থাকে যা নিরাময় করা অসাদ্ধ হয়ে পরে ।

যেমন রাসটক্সের পরে এপিস মেল  বা  এপিস মেলের  পরে  রাসটক্স মারাত্মক ক্ষতি কর । সাইলেসিয়ার আগে বা পড়ে মার্কসল ব্যবহার নিষিদ্ধ ।  তাই হোমিওপ্যাথিতে পরবর্তি ঔষধ , কিরিয়া নাশক , ক্রিয়া ব্যাঘাতক , অনুপরক , সম্পুরক ঔষদের জ্ঞান অতীব জরুরী।  অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথগনের মত – যখন নির্বাচিত কোনো ঔষধে কাজ হয় না তখন ধতুগত লক্ষণ মিলিয়ে দুই একমাত্রা , টিউবারকুলিনাম ( Tuberculinum)- , এব্রোটেনাম , মেডোরিনাম, সিফিলিনাম, ভ্যাক্সিনিনাম ইত্যাদি দিলে অনেক সময় রোগের প্রকৃত পরিচয় ফুটে ওঠে ।

Tuberculinum এর প্রকারভেদ

টিবারকুলিনাম , টিউবারকুলিনাম বোভিনাম , টিউবারকুলিনাম ব্যসিলিনাম  কে অনেকেই একই ভেবে থাকেন । আসলে উৎপাদনে এরা ভিন্ন অতএব,প্রয়োগের ক্ষেত্র ভিন্ন হতেই হবে। তবে অনেকটা সিমিলার ক্রিয়া প্রকাশ করে থাকে । তাহলে টিউবারকুলিনাম ,বোভিনাম , এবং  ব্যসিলিনাম  এর মধ্যে পার্থক্য কোথায়? আচার্য এ্যালেন তাঁর কি নোটে- টিবারকুলিনাম ও ব্যসিলিনাম কে একই ঔষধ বলেছেন ।

কেননা টিবি আক্রান্ত রোগীর থুথু থেক Tuberculinum , আর ফুসফুস থেকে  ব্যসিলিনাম । অন্য দিকে টিবি আক্রান্ত গরুর গ্লান্ড থেকে টিউবারকুলিনাম ভবিনাম প্রস্তুত করা হয় ।  শিশুদের অস্থি ও অন্ত্রের ক্ষয়দোষে বোভিনাম বেশি ফলপ্রদ এবং ফুসফুসের ক্ষয়দোষে ব্যাসিলিনাম বেশি ফলপ্রদ হবে –ডাঃ নরেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ফয়দোষে বোভিনাম বেশি ফলপ্রদ এবং িহক

পরিচায়ক লক্ষণঃ

উপযুক্ত ঔষধের ব্যর্থতাঃ

দিন দিন মানুষের চরিত্র যত জটিল ও কুটিল হয়ে পড়ছে তেমনি রোগগুলোও অত্যন্ত জটিল রুপে আত্মপ্রকাশ করছে । তাই রোগীলিপি নিয়েও  একক মেডসিন নির্ধারণ করা  দূরহ হয়ে পড়েছে । এজন্য টিউবারকুলিনাম ( Tuberculinum), সোরিনাম , এব্রোটেনাম , মেডোরিনাম, সিফিলিনাম, ভ্যাক্সিনিনাম ইত্যাদি মেডিসিনের প্রয়োগ আবশ্যক হয়ে পড়ছে ।  দুই একমাত্র দিলে রোগের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ হয়ে পড়ে । ফলে পরবর্তী ঔষধ দিয়ে  আরোগ্য করা সহজ হয় ।

বংশগত ক্ষয়দোষঃ

বংশে তথা বাবা-মা , ভাই-বোনের মধ্যে যক্ষ্মা , অর্শ, ভগন্দর , ডায়াবেটিস ,উন্মাদ , হিষ্টিরিয়া ,অতিঃরজ, অতি-স্তন্য, অতি-প্রদর, বিষন্নতা বা ডিপ্রেশন,অতি বুদ্ধি বা খর্ব বুদ্ধি  থাকলে । দদ্রু বা দাদ , ছুলি ইত্যাদি অনেক চর্মরোগ – ক্ষয় রোগের ইংগিত বহন করে থাকে । বর্তমান যুগে  দুর্দমনীয় হস্থমৈথুন প্রবনতা , ক্ষয়রোগের রোগীর মধ্যে এই ইচ্ছা প্রবল থাকে ।

রোগ ও রোগীর পরিবর্তনশীলতাঃ

এই বিষয়টা হোমিওপ্যাথমাত্রই অবগত , রোগি আজ এক ডাক্তার কাল অন্য , যখনই রোগি বলবে আমি এদেশের বড় বড় সব  ডাক্তার দেখায়েছি , বুঝে নিবেন তার মাঝে ক্ষয়দোষ থাকার সমূহ সম্ভবনা আছে । কোনরোগ স্থির নয় , আজ একলক্ষণ , কয়েকদিন পরা আর একলক্ষণ নিয়ে হাজির হবে এমন রোগির জন্য টিউবারকুলিনাম স্মরণ করা উচিৎ।

দুর্বলতা ও বাচালতাঃ

বিষন্ন , সকল কাজকর্মে অনীহা , মারাত্মক অলস হইয়ে পড়ে , জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা দেখা দেয় । প্রচুর কথা বলা এর প্রধান পরিচায়ক লক্ষণ । অসংলগন অপ্রাসঙ্গিক কথা, এক বিষয় শেষ না করতেই অন্য বিষয়ের অবতারণা করা ।

অল্পে ঠান্ডালাগাঃ

সিজেন চেঞ্চ হলেই দেখবেন সর্দি ,কাশি, নিউমোনিয়া , ব্রংকাইটিস লেগেই আছে । অর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করেও সর্দি পিছু ছাড়ে না । বিশেষ করে প্লুরিসিতে টিউবারকুলিনাম এর সফলতা অনেক  তবে সালফারের কথা স্মরণ রাখবেন।

গ্রন্থির বিবৃদ্ধিঃ ঘাড়ে বা কুচিকিতা গ্লাণ্ড বা গ্রন্থির বিবৃদ্ধি , প্লীহার বিবৃদ্ধি , বিড়াট বড় পেট বা ভূড়ি(ঢাকের ন্যায়)।

উপরের লক্ষণগুলো টিউবারকুলিনামের পরিচয় করে দেয় কিন্তু এতোটুকুই যথেষ্ট নয় ।  গভীর চিন্তা , প্রচুর দর্শন ও অভিজ্ঞদের অভিজ্ঞতা আর নিজে ফলপ্রদর্শন দেখে এগিয়ে চলতে হবে । Tuberculinum একটি গভীর ক্রিয়াশীল ঔষধ শুধুমাত্র আন্দাজে দিলে অন্যায় হবে । তাই এই মেডিসিনের উপর বিভিন্ন বই পড়ুন । সাধারণত এক মাত্রার বেশি কখোনই প্রয়োগের দরকার পড়ে না।

5 thoughts on “টিউবারকুলিনাম ( Tuberculinum )-এর পরিচায়ক লক্ষণসমূহ”

  1. Pingback: টিউবারকুলিনাম ব্যাসিলিনাম -এর একডোজের অবিশ্বস্য ক্রিয়া - lifocyte.com

  2. Pingback: দাঁতের চিকিৎসা -য় হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মন্ত্রবৎ ক্রিয়া - lifocyte.com

  3. Pingback: হোমিও ঔষধ এর শক্তি, মাত্রা প্রয়োগ পদ্ধতি - lifocyte.com

  4. খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন যা বহু ডাক্তার, নব শিক্ষার্থীদের এবং হোমিওপ্যাথি অনুরাগীরা খুবই উপকৃত হচ্ছেন।
    আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  5. Pingback: দাঁতের চিকিৎসা -য় সেরা কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ – Lifocytex

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *