lifocyte.com

ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা -এর অভিনব কিছু তথ্য

ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা

ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা  Tarentula Hispanica স্প্যানিশ মাকড়শা জাতীয় প্রাণী দ্বারা প্রস্তুত করা হয়। সর্বপ্রথম ডাঃ নোনেঝ ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা ঔষধটি প্রুফ করেন।এটি দেখতে কালো কুচকুচে। আটটি লোমশযুক্ত পা বিশিষ্ট গোলাকৃতি এবং  ভয়ংকর প্রকৃতির মাকড়শা । মাকড়শা জাতীয় ওষুধ গুলোর মধ্যে যেমনঃ এরেনিয়া ডায়ডেমা, ট্যারেন্টুলা কিউবেনসিস, থেরেডিয়ান কুরাসসাভিকাম প্রভৃতি ওষুধের মধ্যে  Tarentula Hispanica অধিকতর প্রুভিংকৃত ।

  • ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা এন্ট্রি সোরিক, এন্টি সাইকোটিক এবং এন্ট্রি টিউবাকুলার ওষুধ ।
  • ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা সাধারণতঃ ডান দিকে গভীরভাবে ও দীর্ঘকালব্যপী ক্রিয়াশীল ।
  • এটি  অন্যান্য মাকড়শা জাতীয় ওষুধের ন্যায়  শীতকাতর এবং বর্ষাকাতরও।
  • হ্রাস-বৃদ্ধিঃ সন্ধ্যায়, গোলমালে, স্পর্শে, আবহাওয়ার পরিবর্তনে, ঠান্ডা ও ভেজা আবহাওয়ায় , শয়নে ও ধূমপানে বৃদ্ধি । অস্থিরতা ভোর ৫টায় বৃদ্ধি ।
  • শুষ্ক মুক্ত বাতাস পছন্দ করে।
  •  কাঁচা সব্জি , ঝাল, মসলাযুক্ত খাবার, কাঁচা লবণ এবং ধূমপানে ইচ্ছা । রুটি ও মাংসে অনিচ্ছা ।
  • এর প্রকৃত পরিচয় হচ্ছে  -স্নায়বিকতা ; উদ্বেগ, উত্তেজনা ও অস্থিরতা ।
  • হিস্টিরিয়া ঘটিত মৃগী । তীব্র যৌনউত্তেজনা জনিত উলঙ্গ হওয়া, কামুকতা প্রকাশ করা স্বভাব।

বিভিন্ন ঔষুধের সাথে এর তুলনা

ট্যারেন্টুলার উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা শারীরিক ও মানসিক।একোনাইট ও আর্সেনিকের উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা মানসিক । অপরদিকে রাস টক্সের অস্থিরতা কেবলমাাাত্র  শারীরিক । একোনাইট ও আর্সেনিকের মৃত্যু ভয় প্রবল।ট্যারেন্টুলার নির্লজ্জতা ও ধূর্ততা প্রবল ।

এদের সমস্ত শরীর অথবা ডান হাত ও বাম পা কাঁপতে থাকে নাচতে থাকে(বাম হাত ,ডান পা – এগারিকাস মস )। সে জন্য রোগী এক স্থানে স্থির হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না অনবরত স্থান পরিবর্তন করে ।তার দেহের মাংসপেশী গুলো  খিঁচতে থাকে ।
হাঁটাচলা করা কষ্ট হলেও স্নায়বিকতার কারনে স্থির হয়ে থাকতে পারে না, যা  রাস টক্স ও রুটার বিপরীত।

মহামতি ডাঃ কেন্ট বলেনঃ
এর স্নায়বিক বিকাশগুলি প্রায় অবর্ণনীয় এবং এত বেশি সংখ্যক যে লিখে শেষ করা যায় না। এর সব অবস্থার ভিতরেই উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা দেখা যায় ।ট্যারেন্টুলা অনেকটাই  ‘আর্স’ এর সাথে সদৃশপূূর্ণ। 

ক্রিয়াস্থল

ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা এর মন, মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড , স্নায়ুমন্ডলী, শ্বাস তন্ত্র, হৃদপিণ্ড , যৌনাঙ্গ ও হাত-পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগ।ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকার রোগী খুব বেশি স্নায়বিক প্রকৃতির । সামান্য কারণেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে । খিটখিটে মেজাজের । 

মানসিক অবস্থা

ডিসকো নাচ, ডিজে বা উচ্চ শব্দের ব্যান্ডসংগীত  এদের পছন্দ ।এসব আসরে এরা যোগদান করে । নিজেও বাজনার তালে তালে নাচতে থাকে । এদের নাচের মধ্যে কোন ছন্দ বা সৌন্দর্য বলতে কিছু থাকে না ।বিশ্রী লম্পাট্য ভঙ্গিমা প্রকাশ করে। অসংলগ্ন, অশ্লীল, অঙ্গভঙ্গি করে কিন্তু দুর্ভাগ্য ওরা মানুষের অনুকম্পা পায় না ।

ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা  নির্ভিক, সাহসী, চতুর, অস্থির, অসামাজিক, অমানবিক, ফন্দিবাজ, বিমর্ষ, ক্রোধী, প্রবন্চক আবেগপ্রবণ ও স্নায়বিক প্রকৃতির চরিত্রের হয়ে থাকে ।এত বদগুণে পূর্ণ এবং প্রচন্ড অস্থির প্রকৃতির ওষুধ আমাদের মেটেরিয়া মেডিকাতে আর নেই বললেই চলে।

মানুষকে আকর্ষণ করার জন্য উজ্জ্বল লাল, নীল,কালো ও সবুজ বর্ণের পোষাক পরে । অসুস্থ অবস্থায় অবাঞ্ছিত রং অর্থাৎ যে রং তার পছন্দ নয় তা দেখতে পারে না, তাতে অস্থিরতা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, হৃদপিণ্ড প্রদেশে অস্বস্তিবোধ করে ।

কুপ্রবৃত্তির চরম পর্যায়

বালেগগণ বিপরীত লিঙ্গের কাউকে আকর্ষণ করার নানা ছল চাতুরীপূর্ণ কলা কৌশল অবলম্বন করে । দুঃখজনক হলেও বাস্তবত সত্য যে  তাদের দ্বারা কেউ প্রভাবিত হয় না । এরা  ব্যর্থ প্রেম নয় বরং প্রতিদানহীন  ভালোবাসা চায়  কিন্ত পায় না,  ফলে এক সময় এরা মানসিক রোগীত পরিণত হয় ।

কামুকতা

নারী পুরুষ উভয়ের জননেন্দ্রিয়ে এক প্রকার সুড়সুড়ি বা কাতুকুতুর অনুভূতির  জন্য প্রচন্ড যৌন উত্তেজনা। ফলে ভীষণ কামোত্তেজনায় উন্মত্ত হয়ে উঠে। বিশেষ করে স্ত্রীলোকদের যোনিকপাটে এবং অভ্যন্তরে এক প্রকার চুলকানির কারণে আক্ষেপ বা মূর্ছা দেখা দেয় । এদের যোনি শুষ্কতার জন্যে সঙ্গম ক্রিয়াও কষ্টকর হয় তবু এরা সঙ্গম না করে থাকতে পারে না। সঙ্গমে এদের সঙ্গমেচ্ছা আরো বেড়ে যায় ।
বিভিন্ন কারণে এ অবস্থা অবরুদ্ধ হলে হিস্টিরিক্যাল নানা সমস্যা এবং উন্মাদ অবস্থা দেখা দেয় ।

এরাই সঙ্গমেচ্ছা চিরতার্থে  পরকীয়া বা পতিতাবৃত্তির ন্যায় সাংঘাতিক ধরনের যৌন অপরাধমূলক।কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়।একমাত্র ট্যারেন্টুলা এদের এই মানসিক ব্য্যাধি  মুক্ত করতে পারে । বর্তমানে সামাজিক অবস্থা দেখে মনে হয় , সমাজ পরিবর্তনে  ট্যারেন্টুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ।

অনুভূতি ও স্পর্শকাতরতা

ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা এর রোগী দেহের সর্বত্র পিঁপড়া বা পোকা হাঁটার অনুভূতির কথা বলে । স্পর্শকাতরতা সত্ত্বেও গায়ে  হাত বুলালে আরামবোধ করে ।
কল্পনায় ভূত-প্রেত এবং নানা প্রকার বিরাটকায় মূর্তি দেখে ভীত সন্ত্রস্ত হতেও দেখা যায় ।

ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা এর বিশেষত্ব
  1. হঠাৎ আক্রমণের বাতিক ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকাএর বিশেষত্ব ।
  2. মেরুদন্ডে সমান্য ছোঁয়া লাগলেই বুকে ও হৎপিন্ডে আক্ষেপিক বেদনা শুরু হয় ।
  3. ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকার রোগী খুবই জীর্ণ শীর্ণ। ডাঃ কেন্ট বলেন যে, শরীর থেকে যেন মাংস খসে পড়েছ ।
  4. হাতের আঙ্গুলের অস্থিরতা দূর করতে অনেক সময় সৃজনশীল কাজেও ব্যস্ত থাকে ।
    যেমনঃ ছবি আঁকা এবং তাতে নিজের পছন্দসই রং করা ।
  5. অত্যন্ত ধূর্ততা ও দ্রুততার সাথে মানুষের শখের/প্রিয় জিনিস গুলো নিয়ে লুকিয়ে রাখে বা নষ্ট করে ফেলে । এ জন্য অনেকেই তাকে চোর বলে ।

 ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকার রোগী ও রোগ নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন। 

1 thought on “ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা -এর অভিনব কিছু তথ্য”

  1. Pingback: ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকার রোগী ও রোগ নির্বাচন - Site titl

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *