lifocyte.com

ট্যারেন্টুলা

ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকার রোগী ও রোগ নির্বাচন

ট্যারেন্টুলা

ট্যারেন্টুলার রোগী জীর্ণ শীর্ণ , বিশেষ করে হাত পা গুলো । কিন্তু হাত পা গুলোতে স্নায়বিক প্রকৃতির উত্তেজনা ও সংকোচনের জন্য অনবরত অস্থিরতা থাকে । হাটা চলা তার পক্ষে কষ্টকর হলেও ক্রমাগত স্থান পরিবর্তন করেতে থাকে । শিশু ও উন্মাদ রোগীরা অনবরত হাটতে থাকে , দৌড়াদৌড়ি করতে থাকে, সাথে সাথে হাত গুলিও নাড়াচাড়া করতে থাকে ।
এ অবস্থায় সে কাউকে কিলঘুষি, চিমটি কাটে, লাথি মারে বা কামড় বসায়, কেউ দেখা বা বুঝার আগেই স্থান ত্যাগ করে ।
অত্যন্ত ধূর্ততা ও দ্রুততার সাথে মানুষের শখের/প্রিয় জিনিস গুলো নিয়ে লুকিয়ে রাখে বা নষ্ট করে ফেলে । এ জন্য অনেকেই তাকে চোর বলে ।এটাকে চুুুরি বলে মানসিক সমস্যা বলাই উচিৎ।

রোগ ও রোগীর চিকিৎসা

ডাঃ মোঃ আঃ আউয়াল লেখেন – আমি দু’টি উন্মাদিনী এবং একটি উন্মাদ রোগী পর্যবেক্ষণ করে যে লক্ষণ গুলি পেয়েছিলাম, তা নিম্নরূপঃ

১ নং উন্মাদিনী

হাত পা গুলো একে বারে জীর্ণ শীর্ণ ছিল তথাপি সে ক্লান্তিহীন ভাবে দৌড়াদৌড়ি ছোটাছুটি করতো, তার পা গুলো ঠিক ভাবে মাটিতে পারতো না । হাত গুলো উপরের দিকে অনবরত নাড়াচাড়া করতো যেন উলের কাপড় বুনছে ।(হায়োস)।

২ নং উন্মাদিনীর

লক্ষণ গুলো ১ নং এর অনুরূপ ছিল। তার মধ্যে আরো যে দু’টো উৎকট লক্ষণ ছিল । সবাই কে উদ্দেশ্য করে বলতো, মেরে ফেলবো, কেটে ফেলবো। হঠাৎই ক্ষেপে গিয়ে কারো কারো উপর চড়াও হয়ে যেতো ,তার জামা কাপড় ছিড়ে ফেলতো ।

৩ নং উন্মাদের

লক্ষণারাজি আরো ভয়াবহ এবং ভয়ংকর ছিল । সে রাস্তা ঘাটে, হাটে বাজারে হাত পা গুলো অন্তহীন ভাবে সচল রেখে নেচে গেয়ে ঘুরে বেড়াতো । হঠাৎই রাস্তার পাশের দোকান গুলোর বিভিন্ন মালামাল মূহুর্তের মধ্যে নষ্ট করে ফেলতো । কাপর, গামছা ছিড়ে ফেলার ঝোঁক প্রবল ছিল । কখনো কখনো নিজের পরনের কাপড় ছিড়ে ফেলে হাটে বাজারে বিরামহীন ভাবে উলঙ্গ হয়ে নেচে গেয়ে বেড়াতো (হায়োস)।

কোন দোকানে উচ্চ শব্দে গান বাজনা হলে তার নাচ চলতে থাকতো যতক্ষণ বাজনা চলতো বা ক্লান্ত হয়ে একেবারে অবসন্ন না হতো ।

ট্যারেন্টুলা এর পরিচয়

প্রতিদানহীন ভালোবাসার কুফল ।উদ্বেগ, উত্তেজনা প্রবণতা ও অত্যধিক অস্থিরতা।উদ্দেশ্যহীন ব্যস্ততা । এক দন্ডও স্থির থাকতে পারে না । কিছু না কিছু কাজে ব্যস্ত থাকতেই হয় (কেলি ব্রোম )।হাত পা অত্যন্ত অস্থির, পেশিগুলো অনবরত নেচে উঠে । নর্তন রোগ ।অসংযত পদচারণা, চলার সময় ঠিক জায়গায় পা পড়ে না । (এলু, হেলোডা ) ।

মেরুদন্ড খুবই স্পর্শকাতর । সামান্য চাপে বুকে ব্যথা অনুভব।স্পর্শকাতর হলেও আক্রান্ত স্থানে হাত বুলালে বা জোর চাপ দিলে উপশম ।

সংগীতের প্রতি প্রবল আকর্ষণ । আবার সংগীতের সুরে ও শব্দে ভয়ংকর উত্তেজিতও হয় । কখনো কখনো সংগীতে উপশম আবার আবার কখনো বা বৃদ্ধিও হয় ।

উন্মাদনায় কিছু লক্ষণ

উন্মাদ রোগিণী সবাইকে কেটে ফেলবে, মেরে ফেলবে বলে ভয় দেখায় ।উন্মাদ অবস্থায় জামা কাপড়, চুল প্রভৃতি ছিঁড়ে ফেলে ।নিলজ্জ উন্মাদ, উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়ায় (হায়োস )।উন্মাদ রোগীরা অনেক সময় মনে করে তাকে প্রহার করা হবে তাই লুকিয়ে পড়ে ।হিস্টিরিয়াঘঠিত মৃগী । তীব্র যৌনউত্তেজনা।

কিছু বদ স্বভাব

রোগের ভান করা (প্লাম্বাম )।চুরি করা অভ্যাস । (এবসিন্থিয়াম )।অত্যধিক কামুক,  বিশেষতঃ রমণীগণ ।শেয়ালের মত প্রচন্ড ধূর্ত, ফন্দিবাজ , দুষ্টু ও বদমাশ।

মানুষের সঙ্গ চায় আবার গোলমাল এদের পছন্দ নয়, লাইকোপোডিয়ামের রোগীর মতো এরা চায় একজন লোক তার কাছাকাছি থাকুক।

বিভিন্ন রোগে ট্যারেন্টুলা

মাথায় যন্ত্রণাঃ রোগী মনে করে হাজার হাজার ছুঁচ তার মস্তিষ্কে ফোটানো হচ্ছে ।তীব্র আলো, উজ্জ্বল রং (লাল, হলুদ, সবুজ, কালো ) ,গোলমালে, স্পর্শে মাথা যন্ত্রণার বৃদ্ধি ।বালিশে মাথা জোরে জোরে ঘসলে,চুল আঁচড়ালে উপশম হয় ।শিশুদের মধ্যেও মাথা বালিশে ঘসতে দেখা যায় ।

চোখের পীড়ায়ঃ ক্ষীণ দৃষ্টি, চোখে বালি পরার অনুভূতি,চুলকানি, জ্বালা ও যন্ত্রণা অধিক । ডান চোখই বেশি আক্রান্ত।

নাক – কানের পীড়াঃ  কানে স্রাব । শ্রবণশক্তির ক্ষীণতা । ভীষণ যন্ত্রণা। ডান দিকেই অধিক।নাকের নতুন ও পুরনো সর্দিজ অবস্থা, হাঁচি ও নাক দিয়ে রক্তস্রাব । জ্বালা ডান দিকেই বেশি ।

ফোঁড়াঃ ছোট বড় সব ধরনের ফোঁড়া, কর্বোঙ্কল, আঙুলহাড়া- আক্রান্ত স্থান বেগুনি বা কালো (ল্যাকে) এতে অসহ্য জ্বালাযুক্ত অসহ্য যন্ত্রণা (ট্যারেন্টুলা কিউবেন,এন্থাসি, আর্স-এ ) । রোগী সারারাত ঘুমুতে পারে না, মেঝেতে পায়চারী করতে বাধ্য হয় ।

রোগ যাইহোক বা যত সামান্যই হোক ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকার রোগী তার প্রকৃতিগত স্নায়বিকতার জন্য তিলকে তাল বানিয়ে অত্যন্ত উত্তেজিত ও অস্থির হয়ে বাড়ির সবাই কে অস্থির করে তোলে।

ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকার অভিনব তথ্য জানতে  এখানে ক্লিক করুন। 

1 thought on “ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকার রোগী ও রোগ নির্বাচন”

  1. Pingback: ট্যারেন্টুলা হিস্পানিকা -এর অভিনব কিছু তথ্য - lifocyte.com - the biggest website on homoeopathy

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *