lifocyte.com

ট্যালিপ্যাথি

ট্যালিপ্যাথি কি,মনোদৈহিক সমস্যার চিকিৎসায় ট্যালিপ্যাথি বিদ্যার প্রয়োগ

   ট্যালিপ্যাথি

কারো মনের অব্যক্ত কথাগুলো দিব্যলোকের ন্যায় বুঝতে পারা বা কারো অনুভূতিকে দিব্যচোখে দেখার যোগ্যতাই ট্যালিপ্যাথি। কোনো বিষয় ঘটার পূর্বাভাষ বোঝার যোগ্যতাই ট্যালিপ্যাথি।একে অনেকে ষষ্ঠ  ইন্দ্রিয় বলেও আক্ষায়িত করে থাকে ।

ট্যালিপ্যাথি কি বিজ্ঞান সম্মত?

ট্যালিপ্যাথি সরাসরি বিজ্ঞান সম্মত নয় এটি প্যারাসাইকোলজির বিষয়। অনেক বিজ্ঞানি, দার্শনিক ও গবেষক ট্যালিপ্যাথিকে মেনে নেয় । কিন্তু বিজ্ঞান এর কোন প্রমান করতে পারেনি ।

ট্যালিপ্যাথির স্বরুপ

প্রত্যাকের কিছু না কিছু ট্যালিপ্যাথি আছে। জীবনের চলার পথে অনেক স্মৃতিই বিস্মৃত হয়ে যায়।তাই বলে তা একেবারেই মুছে যায় না।আচমকা দেখবেন কিছু মুহুর্ত, কিছু কথা, কিছু সস্মৃতি, কিছু মুখ সামনে ভেসে আসে। কেন আসে জানেন?সেই অতীত যা আপনি ভুলে গেছেন তা আপনাকে স্মরণ করছে ।মোবাইলের মিস কলের মত  আপনার হৃদয়ে মিস কল দিচ্ছে।এফ বি তেও দেখবেন ফ্রেন্ড না হয়ে যদি কেউ আপনাকে ফলো করে সেই প্রফাইল আপনার ফ্রেন্ড সাজেশন এ এসে গেছে।কোনো ঘটনা বা কারো আগমনের আগাম চিন্তা বা ধারনা মাথায় চলে আসা অর্থাৎ ভবিষ্যৎ কালের বিষয় আগেই অনুধাবন করাকে বিজ্ঞানে ট্যালিপ্যাথি বলা হয়।যার ট্যালিপ্যাথি যতবেশি সে অনেক বিষয় সম্পর্কে আগেই অবগত হয়ে পারে। উল্লেখ্য যার সাথে সম্পর্ক যত গভীর তার সঙ্গে ততবেশি ট্যালিপ্যাথি ঘটে থাকে।এজন্য বলা হয় মায়ের মন সন্তানের বিপদের কথা আগেই বুঝতে পারে – ইহাই ট্যালিপ্যাথি।

ট্যালিপ্যাথির প্রয়োগ

 

দেখবেন কিছু কিছু পাগলের সামনে গেলে সে আপনার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এর অনেক কথা বলে ফেলে। আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই সে আপনার বিষয়ে নিরপেক্ষ তাই সম্ভব হয়েছে।ট্যালিপ্যাথি ব্রেণের বা মস্তিষ্কের বিষয় নয় এটি মনের এক বিষেশ অবস্থা ।মনকে যত বেশি কন্ট্রল করতে পারবেন অর্থাৎ ব্যক্তি নরপেক্ষ রাখতে সক্ষম হবেন ততো বেশি সফল চিকিৎসক হতে পারবেন .একজন চিকিৎসক যদি তার রোগীর ব্যাপারে নিরপেক্ষ হতে পারেন তবে তিনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন রোগের তীব্রতা, উৎপত্তি,পরিণত। কি দ্বারা আরোগ্য হবে তাও অবগত হতে পারবেন। একদিন তারাই হয়ে যায় কালজয়ী বরেণ্য চিকিৎসক।ট্যালিপ্যাথিকে  সম্মোহনী বিদ্যা বলাযায় । এই বিদ্যা দ্বারা অনেকে সম্মান প্রতিপত্তি যশ বা সাফল্য বা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

আবার ট্যালিপ্যাথি বিদ্যার অপব্যাবহার কারিরা ব্লাক মেজিক বা কালযাদুর পারদর্শি হয়ে কুখ্যাত ও ঘৃণিত হয়েছে। এই কালযাদুক কারিদের প্রমান ও দমন করতে বিজ্ঞান অক্ষম। তাই এদের প্রতিহত করতে ইতিবাচক সাধনা করতে হয়। সুফি সাধক গন যুগে যুগে মানবতার মুক্তির জন্য সে সাধনা করে থাকেন।আমরা এর ইতিবাচক দিকটা নিয়ে আলচনা করব।

কিভাবে ট্যালিপ্যাথি বিদ্যার্জন করবেন?

একবাক্যে বলা যায় নিরপেক্ষ হতে পারলেই আপনি এই বিদ্যায় প্রখর হয়ে উঠবেন।
একজন চিকিৎসক কিভাবে রোগীর প্রতি নিরপেক্ষ হবেন তার স্বরুপ তুলে ধরা হলো-
১।লোভ সংবরণ করুন।
২।রোগীর কথাগুলো এতো মনোযোগ দিয়ে শুনুন যেন আপনি তার বাধ্যগত ভৃত্য।
৩।চিন্তাকরুন কিভাবে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে, স্বল্প সময়ে তাকে আরোগ্য করা যায়।(ঠকানোর কল্পনাও যেনো না আসে)
৪।ঔষধ, পথ্য,নিয়ম কানুনে তার ভুলগুলোকে নিজের ত্রুটি জ্ঞান করুণ।(ভাবুন আপনি তাকে পরামর্শ দিতে পারেননি।)
৫।তার থেকে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ উদ্ধারের চিন্তাও করবেন না ( শুধু তার জন্যই তাকে সময় দিবেন)।
৬।রোগীকে নিজের শিশু সদৃশ মনে করলেই তার সব অভিযোগ মন থেকে মুছে যাবে এবং একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি হতে পারবেন।

ট্যালিপ্যাথির ফলাফল

দেখবে অকল্পনীয় ভাবে ঔষধ নির্বাচন করতে পারবেন এবং আশাতীত ভাবে রোগীদের আরোগ্য হচ্ছে ।  আল্পদিনের মধ্যেই আপনার নাম, যশ দিগ্বিদিক ছড়িয়ে পড়ছে ।হয়ে যাবেন বরেণ্য সাধক চিকিৎসক। একই ভাবে, আবিষ্কারক, শিক্ষক,রাজনীতিবিদ,উকিল ইত্যাদি পেশার লোকেরাও কালজয়ী হতে পারেন।  ট্যালিপ্যাথি জ্ঞানার্জনের একমাত্র চাবিকাঠি নিরপেক্ষতা। টালিপ্যাথি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।