lifocyte.com

ন্যাট্রাম ফসফরিকাম

ন্যাট্রাম ফসফরিকাম – বায়োকেমিক ঔষধের প্রয়োগ ক্ষেত্র শক্তি ও মাত্রা

ন্যাট্রাম ফসফরিকাম

Natrum  Phosphoricum (N.P) ১২টি বায়োকেমিক ঔষধের মধ্যে একটি  ব্যাতিক্রম  ঔষধ। ন্যাট্রাম ফসফরিকাম  ঔষধটি  ন্যাট্রাম মিউর ও ফসফরসের মিশ্র  অভাব মিটাতে সক্ষম । পিত্তথলি, জননেন্দ্রিয়, রক্ত, পেশি, অস্থি, গ্রন্থি , স্নাযু ও কৃমি  ইত্যাদির উপর কার্যকর প্রভাব ফেলে ।   এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে নেই আমার এই লেখাটি মেটেরিয়া মেডিকা নয় যে এতুটুকুতেই ঔষধের পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে উঠবে । ন্যাট্রাম ফসফরিকাম   ঔষধটিকে  সহজে চানার কৌশল মাত্র।  এখানে ঔষধটিকে সর্টিং করার সহজ উপায় ও কোন রোগে কোন শক্তি অধিক প্রয়োজন তার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ।

ক্যালকেরিয়া ফস  এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়

  • মায়াজমঃ সাইকোটিক, টিউবারকুলার।
  •  কাতরতাঃ শীতকাতর।
  • মানসিক লক্ষণঃ মানসিক  অবসাদ, বিষন্নতা, ভয়, সহানুভূতি পাবার আকাঙ্ক্ষা, ভ্রান্ত বিশ্বাস, ঔদাসীনতা, হতাশা, অতিরিক্ত অনুভূতিপ্রবণ ও চমকে ওঠা।
  • ক্রিয়াস্থলঃ মাথার পেছন, মিউকাস গ্ল্যান্ডগুলো, ডিওডিনাম,পিত্তথলি, জননেন্দ্রিয়, রক্ত, পেশি, অস্থি, গ্রন্থি , স্নাযু ও মস্তিষ্ক, ফুসফুস।
  •  অনুভূতিঃ জিবে চুল থাকার অনুভূতি।    অনুভূতি- যেন হৃদপিন্ডে এক প্রকার বুদবুদ শুরু হয়ে দ্রুতবেগে ধমনীগুলোতে ছড়িয়ে পড়লো।
  • বিশেষ লক্ষণঃ  গন্ধযুক্ত মল মূত্র ঘাম এমনকি শ্বাসপ্রশ্বাস হলে ন্যাট্রাম ফসফরিকাম অগ্রগন্য ।
  • <বৃদ্ধিঃ প্রাতে, বিকেলে, সন্ধাকালে, শুক্রপাতে, চর্বিতে, দুধে, চিনিতে, মানসিক পরিশ্রমে ও খালি পেটে বাড়ে।
  •  > হ্রাসঃ ঠান্ডায়, আহারের পরে ও গরম খাদ্যে কমে। সিঁড়ি বেয়ে ওপরের দিকে ওঠলে হৃদপিন্ড কাঁপতে থাকে।

মেডোরিনাম (হোমিওপ্যাথিক) এর পূর্ণাঙ্গ পরিচিতি ও প্রয়গ কৌশল

পীড়া উৎপত্তির কারণ

তৈলাক্ত দ্রব্য ,তিক্ত ও মিষ্টিদ্রব্য ,দুগ্ধ ,ঘৃত প্রভৃতি আহার ও বজ্রাঘাত  জনিত পীড়ায়  ন্যাট্রাম ফসফরিকাম কে স্মরণ করবেন । 

অম্লগন্ধযুক্ত মলে ন্যাট্রাম ফসফরিকাম  অতুলনীয় ।

পীড়ার লক্ষণভেদে ঔষধের শক্তি ও মাত্রা

অভিজ্ঞ চিকিৎসকগন সাধারণত বভিন্ন পীড়ায় যে সকল শক্তি ব্যবহার করে থাকেন তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো ।যদিও সকল শক্তি কাজ করে তার পরেও  দেখা যায় কিছু বিশেষ শক্তি কিছু বিশেষ পীড়ায় অধিক কার্যকর । ন্যাট্রাম ফসফরিকাম  এর  লক্ষণ ও  চিকিৎসায় কিরুপ শক্তি অধিক ক্রিয়াশীল তার একটি  ছক নিচে উপস্থাপন করলাম । মনে রাখবেন বায়কেমিক চিকিৎসায়  একটি পীড়ায় একাধিক ঔষধের প্রয়োজন পরে তাই পর্যায়ক্রমে বা মিশ্রন পদ্ধতিতে একধিক বায়কেমিক মেডিসিন লাগতে পারে । ইনশা-আল্লাহ ১২টি বায়োকেমিকের একটি পূর্ণাঙ্গ পিডিএফ কপি অল্পদিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন 

 

 

পীড়ার বিশেষ লক্ষণ

     শক্তি

   মাত্রা

কৃমি পীড়ায় এর নিম্ন শক্তি অধিক কার্যকর 3x বা 2x ২/৪ বড়ি করে দিনে ২বার সেব্য
অম্ল দাস্ত , অম্লবোধ , তরুন অম্ল পীড়ায় 3x
ছোট ছোট বালকদের কষ্ঠবদ্ধতায় খাদ্যের সাথে মিশ্রিত করে সেব্য 1X বা 3x
অম্লোদ্গার, জিহ্বায় হরিদ্রা প্রলেপ থাকেল ইহার নিম্ন শক্তি 3x
প্রস্রাব বন্ধ হওয়া পীড়ার শুরুতেই ইহার প্রয়োগ করলে ভালো থেক  3x
শূল পীড়ায় ( ম্যাগফসের সাথে ) 6x ২/৪ বড়ি করে দিনে ২ বার সেব্য । ঔষধ সেবনের পর গরম  পানীয় পান করা উত্তম ।

*ঘন ঘন প্রয়োগ করা উচিত নয়।

*শিশু ২ বড়ি পূর্ণবয়স্ক ৪ বড়ি

তরুন প্রমেহ পীড়ায় 6x
চোখে পিচুটি পড়তে থাকলে 6x
দগ্ধ স্থা হতে হরিদ্রা গাঢ় পুঁজ হলে ( ফেরাম ফস ও কেলি মিউর আগে) 3x, 6x
পুড়াতন অম্ল ও অজির্ণ পীড়ায় 12x ,30x
ক্ষুধামন্দায় ক্ষুধা বৃদ্ধির জন্য 12x ,30x
হিক্কার প্রধান ঔষধ ম্যাগ ফস হলেও তার সাথে ন্যাট্রাম ফস নিম্ন শক্তি 12x
নবজাতকের চক্ষু প্রদাহে কিন্তু স্ক্রুফুলা দুষ্ট চক্ষু প্রদাহে (200x) 12x
প্রমেহ পীড়ায় হরিদ্রা গাঢ় স্রাবে ( ক্যালি মিঊর প্রধ্ন ঔষধ ) 30x ,200x
শুক্রতারল্য রোগে অর্থাৎ বীর্য গারো করতে উচ্চশক্তি কার্যকর 200x
সতর্কতা

মেটেরিয়া মেডিয়া দেখে নিশ্চিত হয়ে নিবেন রোগীর মাঝে ন্যাট্রাম ফসফরিকাম  এর অভাব আছে কিনা । লক্ষণ মিললে বায়োকেমিক ঔষধের কয়েকমাত্রাতেই রোগী উপশম বোধকরে । এই ঔষধগুলো হোমিওপ্যথির সম্পুরক ঔষধ । তাই এর সাথে হোমিওপ্যাথির তেমন কোনো সংঘর্ষ হয় না বিধেয় বহুকাল থেকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগন বায়োকেমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছেন । যারা এর বিরোধিতা করেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন তাহলে ডিএইচএমএস কর্সে এর সংযুক্তি কেন ?

প্রবল হস্থমৈথুন জনিত সৃষ্টি রোগের লক্ষণভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

মনে রাখবেন বায়কেমিক চিকিৎসায়  একটি পীড়ায় একাধিক ঔষধের প্রয়োজন পরে তাই পর্যায়ক্রমে বা মিশ্রন পদ্ধতিতে একধিক বায়োকেমিক মেডিসিন লাগতে পারে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *