lifocyte.com

পলিপাস কি ?বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

নাকের পলিপাস

নাকের অন্যতম সমস্যা পলিপাস ,এটি খুবই বিব্রতকর সমস্যা । চোখ ,নাক, কান ও গলা মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এগুলোর সামান্য সমস্যা হলে মানুষ অস্থির হয়ে যায় । এজন্য নাক কান গলা বিষেশজ্ঞ , চক্ষু বিশেষজ্ঞ নামে এলোপ্যাথিতে আলাদা আলাদা চিকিৎসা ব্যাবস্তা আছে ;চলছে  প্রতিনিয়ত নানা প্রকার গবেষণা। তাঁদের একমাত্র চিকিৎসা অপারেশন  ।  কনাকের পলিপাস এক বা উভয় নাকের ভেতর হতে পারে। হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা যেহেতু লক্ষণ ভিত্তিক তাই আমাদের কোনো বিশেষজ্ঞ হয় না ;তবে মায়াজমের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হলে অনেক সময় শত হোমিও ঔষধ দিয়েও কাজ হয় না । অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথ দিয়ে চিকিৎসা নিলে পলিপাস নির্মুল হতে পারে ।

পলিপাস কি

নাসিকার্বুদ বা পলিপাস নাসারন্ধ্রের  শৈষ্মিক ঝিল্লি হতে উদ্ভুত  হয়। প্রথমে একে একটি মটরশুটির মতো ফোলা দেখা যায়। আস্তে আস্তে তা বড় হয়ে নাকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে । অনেক সময় এই পলিপাস থেকে রক্ত বাহির হতে দেখা যায়। এ রোগ লক্ষণে নাসারন্দ্রের অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়। যেমন নাকের ছিদ্র বন্ধ হলে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে হয়। নাসিকা প্রদাহ বেড়ে যেতে পারে । নাসাবুর্দ নরম, নীল বর্ণ, মসৃণ শ্বেতময় ,দেখতে আঙ্গুরের মতো ও পুঁজময় ক্ষত হতে দেখা যায়।

উৎপত্তির কারণ

ঘন ঘন  ঠান্ডা ,সর্দ্দি, হাঁচি-কাশি ও নাক দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়া থেকে স্থায়ি ভাবে নাকের ভেতরের শৈষ্মিক ঝিল্লিগুলোতে এলার্জিক প্রদাহ সৃষ্টি হয়;ফলে ধিরে ধিরে ঝিল্লি থেকে এক ধরনের পিন্ড বা অর্বুদের সৃষ্টি  হয়।   পলিপাস  মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের অধিক হতে দেখা যায়।  এটি বংশানুক্রমিকও হতে পারে।

আমার অভিজ্ঞয়াতায়  পলিপাস

পলিপাস সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে এলার্জি বলে দাবী করা হয় তাহলে অ্যালার্জি জাতীয় খাবার, ঠান্ডা ও ধুলা-বালি হতে দূরে থাকলে অনেকটাই সুস্থ থাকা যায় । কিন্তু নির্মূল হয়েছে এমন রোগীর সংখ্যা অতিনগণ্য । আমি এর পিছনে প্রধান কারণ দেখি সাইকোসিস মায়াজম। কয়েকটি রোগীতে দেখেছি পাইলস বন্ধ হওয়ার কিছুদিন পর নাকে পলিপাস এসেছে । এলোপ্যাথিতে পলিপাস ,টিউমারের  একমাত্র চিকিৎসা অপারেশন । কিন্তু অনেকের পলিপ অপারেশনের পর আবার দেখা যায় ।গাছের মুলোৎপাঠন না করে গাছ কেটে ফেললে তা আবার গজাতে পারে । আমাদের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় বিনা অপারেশনে  টিউমার ,আঁচিল ,পলিপাস সমূলে উফরে ফেলা সম্ভব ।

আমি অনেক গুলো রোগীতে থুজা ১০এম দ্বারা নাকের পলিপাস নির্মুল হতে দেখেছি ।  টীকার কুফল জনিত কারণ হিসেবে যদি পলিপাস , অর্বুদ , আঁচিল ,পাইলস এর উদ্ভব হয়ে থাকে তাকে থুজা দেয়ার বিকল্প নাই বললেই চলে । বর্তমান যুগে যেভাবে টীকা নেয়ার প্রতিযোগিতা চলছে হয়তো একসময় থুজা ছাড়া কোনো গত্যান্তর থাকবে না । পলিপাস নির্মূল না হওয়ার জন্য বেশিরভাগ দায়ী রোগী নিজেই ।এটাতে প্রথমত তেমন প্রকট সমস্যা দেখা যায় না । ন্যাজাল ড্রপ দিলে নাক ফাকা হয়ে যায় এজন্য বছরের পর বছর ধরে ড্রপ নিতে থাকে স্থায়ী কোনো চিকিৎসায় মনোযোগী হয় না ।দুই এক দিন ঔষধ খেয়ে উপকার না পেলে আবার অন্য চিকিৎসকেরে নিকট ঔষধ নেয় । এভাবে দীর্ঘদিন ঔষধ খেয়েও কাজ না হওয়ায় অবশেষে হোমিওপ্যাথি খারাপ বলে বিবেচিত হয় ।

খুব বেশি সমস্যা হলে থুজা মাদার টিংচারে কটন বাড ভিজিয়ে নাকের ভিতর একটু ছুয়ে দেয়া যেতে পারে । তবে এটি ঘন ঘন বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে না । শ্বাস প্রশ্বাসে নিতে  সমস্যা হলে  ন্যাজাল ড্রপের বিকল্প হিসেবে অল্প কিছু দিন ব্যাবহার করবেন ।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

পলিপাস চিকিৎসায় লক্ষণভেদে সাধারণত  যে সকল হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহৃত হয় তা নিম্নে দেয়া হলোঃ

  • স্যাঙ্গুনেরিয়া নাইট্রিকাম (Sangunaria nitricum): এটিকে পলিপাসের পেটেন্ট ঔষধ বলা চলে । স্যাঙ্গুনেরিয়া সাধারণত শরীরে ডান দিকে অধিক ক্রিয়া করে তাই ডান নাসার্বুদে এই ঔষধটি অধিক কার্যকর । ৩০ শক্তি দিয়ে আরাম্ভ করে ২০০ , ১এম বা ১০এম শক্তি লাগতে পারে ।
  • ক্যালি বাইক্রম(Kali bitch) :– নাকের মধ্যে তরুণ বা দীর্ঘকালস্থায়ী পলিপাস ; নাসারন্ধের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর স্ফীতি সহ নাসিকা অবরোধ ও জ্বালাবোধ  ; রন্ধমধ্যে জ্বালাজনক শুষ্কতা সহ কপালের ছিদ্রমধ্য পর্যন্ত বিস্তৃত চাপচপ বেদনা ; ভোরবেলায় বা সকালে  দক্ষিণ নাসিকা হইতে রক্ত অথবা রক্তযুক্ত শ্লেষ্মা স্রাব ;সন্ধ্যায় সর্দির প্রকোপ বৃদ্ধি । সর্দি স্রাবের জন্য নাসিকাপক্ষ ও ওষ্ঠ হাজিয়া দড়ির ন্যায় বা সুতার ন্যায় আঠালো যেকোনো স্রাব কেলি বাই এর অন্যতম লক্ষণ । যায়।  অনেকের মতে কেলি বাইক্রম ১২শক্তি দ্রুত কাজ করে থাকে ।
  • কার্বনিয়াম সালফ(Carbo Sulph):– পুনঃ পুনঃ হাঁচি সহ তরল সর্দি ও শীতার্ততা । নাকের অগ্রভাগ লালিমাভাব  ও জ্বালাকর।  নাসিকারন্ধ্রে শুষ্কতা, চুলকানি ও অবরুদ্ধতা বোধ ।  নাকেরগোড়ায় বেদনা ও জ্বালা ; প্রাতে ও সন্ধ্যায় এবং নাক ঝাড়িলে নাসিকা হইতে কালচে রক্তবের হয় ।  ইত্যাদি লক্ষণসহ নাসিকা মধ্যে পলিপাস।
  • এলুমিনা(Alumina ) :–বাম নাকের ছিদ্রে পলিপাস এবং তৎসহ স্নায়বিক শিরঃপীড়া এবং মুখমণ্ডল ও সমগ্র দেহ খসখসে রুক্ষ্ চর্মের।  প্রায়শই সর্দি হেতু টনসিলের বিবৃদ্ধি ও কাঠিন্য দেখা যায় ।  কোষ্ঠবদ্ধতা, ক্রমাগত কয়েকদিন কোন   মলবেগ হয় না ও পরে ঝামার(পাথরের) ন্যায় কঠিন মল নির্গত হয়। মলত্যাগকালে সামান্য রক্তপাত হয় এবং মলদ্বারে  দপদপানি বেদনা অনুভূত হয় ।
  • গ্রাফাইটিস(Graphytis):শীতকালে বা শীতল বায়ুতে পুনঃ পুনঃ সর্দির আক্রমণ । পলিপাস সহ নাসিকার দৃঢ় ও কোমলাস্থিসমূহে স্পর্শকাতর বেদনা । নাসিকার পক্ষদ্বয় ফেটে যাওয়া ও তৎসহ জ্বালা।  নাসিকা হইতে রক্তযুক্ত শ্লেষ্মা নিঃসরণ, নাসিকার অবরোধ । গাত্রত্বকে নানা প্রকার চর্মপীড়া ও কোষ্ঠবদ্ধতাপ্রবন ব্যক্তিগনের পক্ষে বিশেষ উপযোগী । সুন্দর ,থলথলে, মেদযুক্ত চেহারার  ব্যক্তিদের জন্য অধিক প্রযোজ্য ।
  • এপিস মেল (Apis mel): পলিপাস সহ সমগ্র নাসিকা লালাভ ও শোথবৎ স্ফীত দেখায় । ডান নাসারন্ধ্রে পলিপাস স্ফীত হইয়া জলপূর্ণ থলীর ন্যায় দেয়া গেলে এবং উষ্ণতায় নাসা অবরোধ বৃদ্ধি পায় । মেটেরিয়া মেডিকা আনুসারে এপিস মেলের লক্ষণ মিলিয়ে দেখবেন ২০০ শক্তি বা ১এম কয়েক মাত্রাই যথেষ্ট ।
  • অরাম মেটিলিকাম(Aurum met) : পলিপাস সহ বাম নাসিকায় বেদনা ও উত্তেজনা বোধ ; শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী হইতে রক্তস্রাব ; গলমধ্যে সুড়সুড়ানি ও জ্বালাবোধ । মানসিক অবসাদ ও দুর্বলতা , আহারের পর নিদ্রালুতা ।
  • এলিয়াম সিপা (Allium cepa): বাম নাসারন্ধে পলিপাস এবং নাসারন্ধ্র থেকে পলিপাস জনিত রক্তস্রাব। পুনঃ পুনঃ সর্দির আক্রমন; প্রবল হাঁচি সহ নাসিকা ও চক্ষু হইতে জল নিঃসৃত হইতে থাকে । সর্দির আক্রমণ সময়ে পলিপাস বৃদ্ধি পেলে এবং নাক বন্ধ  জনিত অস্বস্তি ,উষ্ণ গৃহমধ্যে বৃদ্ধি পায় ও খোলা বাতাসে হ্রাস হয় ।  প্রথমে ৩০ শক্তি পরে উচ্চশক্তি দিয়ে চিকিৎসা করতে হয় ।
  • বায়কেমিক চিকিৎসাঃ ক্যাল্কেরিয়া ফস ,কেলি মিউর , কালি সালফ ,ন্যট্রাম সালফ লক্ষণ বিশেষে কিছুদিন ব্যাবহার করলে উপকার পাওয়া যায় ।

সতর্কতা

অপচিকিৎসা , ইঞ্জেকশন , টীকা ইত্যাদির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে নাকের পলিপাস সৃষ্টি হতে পারে বিধেয় রোগি পর্যবেক্ষণ কালে অবশ্যই রোগের উৎস খুঁজে বের করে হবে । শুধু পলিপাস আর কিছু  লক্ষণ বিবেচনায় ঔষধ দেয়া হোমিওপ্যাথের কাজ নয় ।

অপারেশন কোন সমাধান নয় । অনেকের অপারেশনের পর আবার পলিপাস দেখা যায় । হালাকা মাংসবৃদ্ধি হলে তার জন্য বেশি চিন্তা করার দরকার নেই ; স্বভাবিক জীবন যাপন করুন । অনেক সময় বয়স হলে আপনা আপনি ভালো হয়ে যেতে পারে । নিতান্তই সমস্যা হলে হোমিওমতে কিছুদিন ধৈর্য্য সহকারে ঔষধ সেবন করলে সেরে যেতে পারে । শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির এলার্জি জনিত কারণে ফুলে ওঠা মাংশপিন্ডকে(পলিপাস) কেটে ছেটে ফেলে দেয়ার কিছুদিন পর আবার সেখানে মাংসপিণ্ড তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক । এর উৎপত্তির কারণ নির্মূলের জন্য মায়াজমিক চিকিৎসা জরুরী। এজন্য থুজা , টিউবারকুলিনাম ,মেডিরিনাম প্রয়োজন পরতে পারে । তাই প্রত্যেক হোমিওপ্যাথকে  এন্টি মায়াজমের বিষয়ে সাম্যক জ্ঞান রাখা আবশ্যক।

4 thoughts on “পলিপাস কি ?বিনা অপারেশনে নাকের পলিপাসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *