lifocyte.com

প্রতিষ্ঠিত হওয়ার

প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ১৩টি গুরুত্বপুর্ণ টিপস

   প্রতিষ্ঠিত হতে বল কে না চায়!

উন্নতি, উন্নয়ন ও উন্নত জীবন সকলের কাম্য।এর জন্য চাই অদম্য স্পৃহা, সাধনা ও ধৈর্য্য।একটা বীজ পুর্ণাঙ্গ বৃক্ষ হয়ে ফুলে ফলে সুশোভিত হতে যেমন প্রয়োজন বীজ নির্বাচন, পরিচর্যা, অপেক্ষা ।জীবন নামের বৃক্ষটাকে আনন্দঘন, প্রতিষ্ঠিত ও স্বার্থক করতে লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্য সুনিবিড় সম্পর্ক থাকতে হবে। একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্য, লক্ষহীনতার শামিল।জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রথম ধাপ লক্ষ্য নির্ধারণ করা। আমি কি হতে চাই এটা হচ্ছে লক্ষ্য। কি কি ভাবে হতে চাই সেগুলো হলো উদ্দেশ্য। লক্ষ্যে পৌছুতে, উদ্দেশ্য পুরণের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ড করতে হবে। কর্মকাণ্ড আর লক্ষ্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে আশায় গুড়েবালি হয়ে যায়। ব্যর্থতা নামাক অপশক্তিটা এমনভাবে চেপে বসবে তখন শুধু পতন আর পতন। তাই নিজের যোগ্যতা, সামর্থ্য ও সীমার মধ্যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা। গগনচুম্বী চিন্তাভাবনা বেশিরভাগ সময় অধঃপতন বয়ে আনে।

প্রতিষ্ঠিত হতে শিক্ষার্থীদের কর্তব্য

একজন শিক্ষার্থীর লক্ষ্য যা কিছু হোক না কেন,তার প্রথম ও প্রধান কাজ হবে একাডেমিক রেজাল্ট ভালো করা। এই কাজটা সবচেয়ে সহজ এবং আপনার নিজের ইচ্ছাধীন।ছাত্র বয়সে দেশপ্রম, স্বেচ্ছাসেবা, ব্যাবসা-বানিজ্য, চাকুরী, প্রেম-বিবাহ ইত্যাদি বিষয়ে জড়িয়ে পরলে সাধারণত সে শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল আশানুরূপ হয় না।একটা কথা মনে রাখবেন শিক্ষা দিয়ে যত সহজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় অন্য কোনো উপায়ে ততো সহজ নয়।যে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়েও নানা অজুহাতে তা হারিয়ে ফেলে বা ভালো ফলাফল করতে পারে না। সে জীবনে একধাপ নিচে নেমে গেলো। অর্থাৎ ব্যর্থতা তাকে টেনে ধরেছে।।

একাডেমিক শিক্ষা ছেড়ে দিয়ে পার্টি দেয়া, অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবায় ব্রত, অতিরিক্ত ধর্মব্রত,সিঙ্গার,আর্টিস্ট;ফেসবুক,ইন্টারনেটে ইনকামের চিন্তা। ওয়েবডিজাইন, সাংবাদিকতা ইত্যাদি বিষয়ে ধারণা নেয়া যেতে পারে ডুব দেয়া ঠিক হবে না। লেখাপড়া ঠিকঠাক, অন্যসব টুকটাক তাহলে আপনি সঠিক পথে চলছেন।উল্টোটা হলে আপনি নেতিবাচক হয়ে পরেছেন। হ্যা যদি লেখাপড়া ভালো না লাগে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট অর্জন উদ্দেশ্য হয় তবে ভিন্ন কথা।যেমন পড়াশুনায় মন বসাতেই পারছেন না বা রেজাল্ট খারাপ করে ডিপ্রেশনে ভুগছেন। এমতাবস্থায় অবশ্যই একটা ট্যাক্নিক্যাল বিষয়ে আত্মনিয়োগ করা দরকার। মনে রাখবেন ছাত্রজীবন ভবিষ্যৎ এর প্রসূতি। এই বয়সে যে বিদ্যা শিখবেন তা পরবির্তীতে প্রভাব ফেলবে।
একজন ভালো শিক্ষক কিংবা প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির পরামর্শ নিয়ে চলুন।

প্রতিষ্ঠিত হতে ধৈর্য্য লাগে

আমার বাবা প্রায়শই বলতেন হুরমুর যাত্রা যা করেন বিধাতা। ছাত্র জীবন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি পর্ব। এখন স্বপ্ন দেখেন, ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিতে থাকেন । প্রিতিষ্ঠার জন্য বেশি লাফালাফি না করে, নিজের বয়স, মেধা ও সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তুলুন। মানব শিশু জন্মে হাটতে শুরু করে না।অন্যান্য প্রানির সাবক জন্মেই হাটতে,খাইতে সক্ষম।তার মানে এই নয় সে মানব শিশুর চাইতে বেশি প্রতিষ্ঠা পাবে।মজবুতি আনতে বিল্ডিং এর ছাদ ঢালাই দিয়ে অনেক দিন খুটি দিয়ে রাখতে হয়।ছাত্র জীবন এমনি একটা সময় যে সময় খেলবেন, গাইবেন,ঘুরবেন, পড়বেন মন ও ব্রেণ সুদৃঢ় হয়ে আসবে। বার্ধক্য স্পর্শ করতে পারবে না অথচ এই বয়সে অতিরিক্ত চাপ নেয়ার ফলে ডিপ্রেশনে ভুগে অকাল বার্ধক্য এসে যেতে পারে।অনেকেই বলে পৃথীবিতে যারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তারা অল্পবয়সে হয়েছে। আমি মেনে নিলাম আপনাদের যুক্তি সঠিক কিন্তু আমার মনে হয় আপনি একটা কথা ভুলে গেছেন ‘ব্যতিক্রম উদাহরণ হতে পারে না।’ সত্যি যদি আপনি সেই কালপুরুষ হয়ে থাকেন তবে এই পরামর্শ আপনার জন্য নয়।

প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ১৩টি টিপস

আপনাকে উপদেশ দিতে চাই না কারন আপনি আমার থেকে অনেক বিষয়ে হয়তো বেশি জানেন ।

আপনি মাস্টার্স বা সমকক্ষ ডিগ্রিধারী একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি।

শুধু কয়েকটি নির্দেশনা দিব:

১। চিন্তা করুন আপনার বেকার থাকার জন্য কি কি ত্রুটি আপনার মধ্যে লক্ষ্য করছেন।
২।যেগুলো আপনার সীমার মধ্যে (ইংরেজি,কম্পিউটার, সাধারণ জ্ঞান,গণিত ইত্যাদি বিষয়ের দূর্বলতা ) তা দ্রুত সনাধান করে ফেলুন।
৩।সব বিষয়ে পারফেক্ট কেউ নয়, তাই ঘাবড়ানোর কিছু নেই যতুটুকু সম্ভব নিজেকে আপডেট করতে থাকুন।
৪।হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না। বড় চাকুরী, সরকারি চাকুরীর আশায় থেকে হাতের নাগালের সুযোগ হারানো ঠিক না।

দেশের যে আর্থসামাজিক অবস্থা জীবনের যে দিকটা এগিয়ে নেয়া যায় এগুতে থাকুন।
৫।চাকুরী করার মানসিকতা থাকলে কখনো ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন না। এতে দু’কূলই হারাবেন।
৬।সরকারি চাকুরীর ইচ্ছে,সাহস ও সামর্থ্য থাকলে প্রাইভেট কোম্পানিতে জব না করে প্রাইভেট স্কুল, কলেজ এ পার্টটাইম জব করুন।

প্রাইভেট পড়ান এবং  চাকুরীর প্রিপারেশন নেয়া সহজ হবে।
৭।মনে রাখবেন অস্পষ্ট অনেক জানার চেয়ে স্পষ্ট অল্প জানা শ্রেয়। প্রত্যেক ব্যাপারে ট্রিপল সি(Clear Concrete Concept) রাখবেন।
৮।হতাশ হবেন না, হতাশা গতি কমিয়ে দেয় বরং নিজেকে নিজেই সাহস দিতে থাকুন।
৯। কারো সাহায্য পাওয়ার প্রত্যাশা কল্পনাতেও আনবেন না। নির্ভরশীলতা মানুষকে অকর্মণ্য করে দেয়।
১০।নিজের পায়ে দাড় না হওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবা, সংগঠন, সোসালমিডিয়ায় যত কম আসা যায় ততো উত্তম।
১০।বাশি মানুষের নিকট পরামর্শ নিতে যাবেন না। আপনার সম্পর্কে জানেন, সহানুভূতিশীল এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তির নিকট পরামর্শ নিন।

মনে রাখবেন জীবন আপনার সিদ্ধান্ত আপনাকে নিতে হবে।
১১।পিতামারার প্রতি শ্রদ্ধাবান ও যত্নশীল হবেন। তাদের দোয়া, আশির্বাদ আপনার সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে।
১২।ইতিবাচকতা, পরমতসহিষ্ণুতা ও সামাজিকতা পোষণ করুন প্রতিষ্ঠা আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকবে।
১৩।বিশ্বাসী, সত্যবাদী ও নির্ভীক হয়ে যান।নিজের প্রতি আস্থা ও ভাগ্যের উপর বিশ্বাস রেখে কাজ করুন ডিপ্রেশন মুক্ত থাকবেন।ডিপ্রেশনমুক্তথাকতে পারলে ইনশাআল্লাহ দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবেন ।

4 thoughts on “প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ১৩টি গুরুত্বপুর্ণ টিপস”

  1. Pingback: ডিপ্রেশনে কি,ডিপ্রেশনের লক্ষণ ও ডিপ্রেশন কাটানোর উপায় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস lifocyte.com

  2. Pingback: ট্যালিপ্যাথি কি,মনোদৈহিক সমস্যার চিকিৎসায় ট্যালিপ্যাথি বিদ্যার প্রয়োগ - lifocyte.com

  3. Pingback: ব্যর্থতা কে ভুলে থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং জীবনে সফল হওয়ার ৫টি টিপস - lifocyte.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *