lifocyte.com

বায়োকেমিক ঔষধ

বায়োকেমিক ঔষধ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 

বায়োকেমিক ঔষধ

বায়োকেমিক ঔষধ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া  নাই বললেই চলে। মনে রাখবেন যার ক্রিয়া আছে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবেই। ক্রিয়া অপেক্ষা প্রতিক্রিয়া অতি নগন্য হলে তা উপেক্ষা করা হয়। সেই সূত্র ধরেই বলা হয় বায়োকেমিক ঔষধ এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

কিছু কিছু বায়োকেমিক ঔষধ প্রয়োগে বিধিনিষেধ জুড়িয়ে দেয়া আছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে কিছু ঔষধজ বৃদ্ধি কিংবা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

ফেরাম ফস

যেমন রাত্রি বেলায় ফেরাম ফস প্রয়োগ করলে ঘুমের সমস্যা হয় এজন্য শিশুদের বা যাদের ঘুমের সমস্যা আছে। কিংবা যাদের ঘুম কম হলে পীড়া বৃদ্ধি পেতে পারে তাদের জন্য ফেরামফস প্রয়োগকালীন সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। যদি একান্তই রোগীকে ফেরামফস দিতে হয় তাহলে ১২এক্স এর নিচে প্রয়োগ করবেন না।

ক্যাল্কেরিয়া

ক্যালকেরিয়া ফস -পুনঃপুনঃ অধিকদিন প্রয়োগ করা যায় না। দির্ঘদিন ব্যবহারের ফলে উহা দ্বারা ক্ষয়রোগ হওয়ার সম্ভবনা থকে।শিশুদের ঘন ঘন  প্রয়োগ করা গেলেও শিশুদের হাড় পূর্ণতা প্রাপ্ত হলে বা পূর্ণ বয়স্কদের বেলায় এর ব্যবহারে সংযত হতে হবে। একান্তই দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে হলে ১২ এক্স শক্তির নিম্নে ব্যবহার করা অনুচিত।

ম্যাগফস

ম্যাগফস — এর তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না তবে অনেক সময় এর ঘন ঘন প্রয়োগে আশানুরূপ ফল পাওয়া না গেলে এর সাথে পর্যায়ক্রমে ক্যালকেরিয়া ফস দিলে খুব দ্রুত আরোগ্য হয়।

কেলি গ্রুপ

কেলিফস — যদিও এর তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। তবুও অনেকের মতে এর 6x বা নিম্নশক্তি অধিক দিন ব্যবহার করা ঠিক নয়। আমার মতে এর অধিক ব্যবহার তাকে একপ্রকার নেশায় আসক্ত করতে পারে অর্থাৎ পরবর্তীকালে সে কেলিফস না হলে ঘুম সহ নানাবিধ মানসিক ব্যধিতে ভুগিতে পারে।

কেলি-মিউর, কেলি ফস, কেলি সালফ৷ অর্থাৎ কেলিয়াম বা পটাসিয়াম এর চাহিদা মানব দেহে খুবই কম এবং কেলিয়াম অত্যন্ত সুগভীর। তাই এই ঔষধ ঘন ঘন অধিক ব্যবহার ঠিক নয়। কেলি-গ্রুপের মেডিসিন সঠিক নির্বাচন হলে, কয়েক মাত্রাতেই রোগ আরোগ্য হতে দেখেছি তাই এর অধিক মাত্রা ঘন ঘন প্রয়োগের আবশ্যকতা নেই।বায়োকেমিক  কেলি সালফ 12x এর অধিক সেবন না করা। যদি উচ্চশক্তি দিতেই হয় তবে হোমিও মতে শততমিক ৩০ বা ২০০ বা ১ এম দিয়ে চিকিৎসা দিবেন। 

ন্যাট্রাম

ন্যাট্রাম মিওর — এর নিম্নশক্তি অধিক দিন বা ঘন ঘন সেবনে ঔষধজ বৃদ্ধি পেতে পারে তবে প্রয়োজনে নিম্ন শক্তি ব্যবহার করা যাবে।  তাই এর ১২ এক্স এর নিচে  প্রয়োগ না করা উচিৎ।  আমি মনেকির হোমিও মতে  চিকিৎসা করা উচিৎ।

ন্যাট্রাম_ফস – সিপিয়া ও এপিসের সহিত এর শত্রুতা ভাব বিদ্যমান। তাই এর সাথে বা পর্যায়ক্রমে এই মেডিসিন গুলো প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।

ন্যাট্রামসালফ — মিশ্রঔষধের সূক্ষ্মমাত্রা মূর্তপ্রতিক। সালফার ও ন্যাট্রাম মিওরের মিশ্র লক্ষণ এর মাঝে বিদ্যমান। তাই এর প্রয়োগে এই চিন্তা মাথায় রাখতে হবে এর প্রয়োগ যেন সালফার ও ন্যাট্রাম মিওরের নীতি অনুসারে হয়।

সাইলেসিয়া

সাইলেসিয়া সম্পর্কে সকল হোমিওপ্যাথ অবগত আছেন যে, এটি অত্যন্ত সুগভীর ঔষধ। এর নিম্ন শক্তি দ্রুত ফোঁড়া পাকাতে ও পূঁজ উৎপন্ন করতে সক্ষম। তাই বর্তমান যুগে ঔষধ প্রয়োগের পূর্বে জানতে হবে রোগী অপারেশন করেছেন কি না? অভিজ্ঞ চিকিৎসক গনের মতে অপারেশনের ছয়মাসের মধ্যে সাইলেসিয়া নিম্নো শক্ত প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সিজারের রোগীকে সাইলেসিয়া দ্বারা চিকিৎসা দিতে হলে বায়োকেমিক ৩০এক্স এর নিচে না দিয়ে হোমিওপ্যাথিক ২০০ শক্তি কিছুদিন অন্তর প্রয়োগ করা উচিৎ। আমি নিজেও কিছু রোগীতে লক্ষ্য করেছি অপারেশনের স্থানে অসুবিধা অনুভব করে। বিশেষ করে সিজার, ব্রেনটিউমার, অন্ত্রের অপারেশন, পাইলস অপারেশন, টনসিল অপারেশন ইত্যাদি নরম টিস্যু অপারেশন হলে সতির্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। 

মার্কসলের আগে বা পারে সাইলেসিয়া কখনই প্রয়োগ করা যাবে না।অথচ অজ্ঞতাবশত অনেকেই দাতের সমস্যায় মার্কসল এবং সাইলেসিয়া বায়োকেমিক দিয়ে থাকে বা অন্য চিকিৎসক মার্কসল দিয়েছ আপনি দিলেন সাইলেসিয়া এতে রোগ যন্ত্রণা বেড়ে যেতে পারে।

মন্তব্য

আমরা হোমিওপ্যাথ খুব ভালো করেই বুঝি কোনো ঔষধ ঘন ঘন প্রয়োগ করলে তার ঔষধজ বৃদ্ধি দেখা দেয়। আর বায়োকেমিক দশমিক মাত্রার ঔষধ বিধেয় এর মাঝে পরিপূর্ণ ঔষধ বিদ্যমান। তাই এর প্রয়োগে কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আসবে। তবে এর প্রতিক্রিয়া বেশি দিন বা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না বিধেয় আমরা বলে থাকি এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। অনেকের মতে এটি লাবণিক উপাদান বলে এর মাত্রাতিরিক্ত হলে তা মল মূত্র বা ঘামের মাধ্যমে অর্থাৎ রেচন অঙ্গের মধ্যমে বেড়িয়ে যায়। তবে যিনি যত মতই দিন একথা মেনে নিতে হবে যার ক্রিয়া আছে তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে। তাই বায়োকেমিক ঔষধ  এর  চিকিৎসা কালে উপরিউক্ত বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করবেন।

বায়োকেমিক সম্পর্কে আরও পড়ুন

বায়োকেমিক ঔষধের প্রয়োগ বিধান ও মনে রাখার কৌশল

বায়োকেমিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দ্বন্দ্বের অবসান

Bioplasgen Biochemic Combination ব্যাচনং-১থেকে২৮  এর পরিচিতি

বায়োকেমিক ঔষধ কি -বায়োকেমিক ঔষধের আশ্চর্য ক্রিয়া

2 thoughts on “বায়োকেমিক ঔষধ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ”

  1. Pingback: ক্যালকেরিয়া ফ্লোর - বায়োকেমিক ঔষধের প্রয়োগ ক্ষেত্র ,শক্তি ও মাত্রা - lifocyte.com - the biggest website on homoeopathy

  2. Pingback: ক্যালকেরিয়া ফসফরিকাম - বায়োকেমিক এর লক্ষণ ভিত্তিক শক্তি ও মাত্রা - Site titl

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *