lifocyte.com

মানসিক

মানসিক ও শারিরীক চিকিৎসা-সাইকোথেরাপিস্ট ও হোমিওপ্যাথের মধ্যে সম্পর্ক-১

 

 

সাইকো(Psyco) বা মানসিক রোগী কথা বললেই আমাদের মনে পাগলের ধারণা এসে যায়। এজন্য নিতান্ত উপায় না থাকলে আমরা মানসিক চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হই না । প্রকৃত পক্ষে মানসিক রোগী বলতে পাগলকে বুঝায় না বরং মানসিক রোগ লালন করতে করতে সে পাগল হয়ে যায়।বিস্তারিত পরে আসছি।

সাইকোথেরাপিস্ট

  চিকিৎসা বিজ্ঞানের যে শাখায় মনোরোগের চিকিৎসা করা হয় তাকে সাইকোপ্যাথি বলা যায়।যারা চিকিৎসা দেন তাদের বলা হয় সাইকোপ্যাথ বা মনোরোগ চিকিৎসক। আর তারা যে চিকিৎসা দেন তাকে বলে সাইকোলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট। সাইকো কথাটা এক ধরনের ট্যাবু হয়ে গেছে তাই আমি এখানে মানসিক সমস্যা লিখব।যিনি মনরোগের মানসিক চিকিৎসা দেন তাকে বলে সাইকথেরাপিস্ট ।

মানসিক সমস্য

পরিজ্ঞান(Insight)বা অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানসিক ব্যাধি, উদ্বেগ(Anxeity), বাধ্যতাধর্মি উপসর্গ (Obsession), মনোদৈহিক ব্যাধি (Psycosomatic illness) ইত্যাদি রোগকে মানসিক রোগের পর্যায়ে নেয়া হয়।

কিভাবে মানসিক রোগী চিনবেন?

কমবেশি সকলের মধ্যে মানসিক সমস্যা আছে, এই সমস্যার স্থায়ী রুপটাই মানসিক ব্যাধিরুপে আত্মপ্রকাশ করে।

সেই ব্যাধি গুলো হলো:- অগভীর আবেগ, কম ভয়, উদাসীন সহানুভূতি, ঠাণ্ডা মাথায় অন্যায় করা, নিজ দোষ স্বীকার না করা, নিজেকে অনেক কিছু মনে করা।

মানুষকে মিথ্যা দিয়ে প্রভাবিত করা, সন্দেহ প্রবণতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, পরিকল্পনা করে খারাপ কাজ করা, ধান্দাবাজি, মানুষের ক্ষতি করে অনুতপ্ত না হওয়া ।মানুষের কষ্ট দেখে উপহাস করা এবং অসামাজিক আচরণ যেমন খারাপ চরিত্রের দিকে ধাবিত হওয়া, স্বার্থ হাসিলের জন্য নিজের চরিত্র নষ্ট করা ।

পরের সাফল্যের বা শ্রমের উপর নিজ জীবনধারা বিন্যাস করা এবং ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে অপরাধিত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি ।

মানুষের মধ্যে এসব আচরন বিদ্যমান থাকলে বুঝবেন সেই মানুষটি একজন সাইকোপ্যাসেন্ট বা মানসিক রোগী। তার জন্য প্রয়োজন একজন সাইকোথেরাপিস্ট।

সাইকোথেরাপি

নানা রকমের চিকিৎসা পদ্ধিতির মধ্য যেখানে মানসিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে বলা হয় সাইকোথেরাপি। উন্নত বিশ্বে বিজ্ঞানসম্মত সাইকোথেরাপিস্টদের যথেষ্ট অবদান আছে। কিন্তু আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে অবৈজ্ঞানিক সাইকোথেরাপিস্ট এর সংখ্যা আগণিত।অবশ্য মন্দের ভালো অনেকেই উপকৃত হচ্ছে না তা নয়।সেকথা এখন বলতে চাচ্ছি না।

মানসিক ব্যাধির চিকিৎসায় কেনো সাইকোথেরাপি লাগবে?

মেডিকেল মডেল হচ্ছে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে শরীরের বিশেষ অংশকে অস্বাভাবিক করে দেয়, ফলে উপসর্গ দেখা দেয়। অতঃপর উপসর্গ অনুযায়ী রোগ নির্ণয় করে ঔষধ দিয়ে তার চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু মনের স্বাভাবিকতা বা ব্যাধি একটিও জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট নয়। মন একটি অবস্তুগত ধারণা(Abstract concept). মস্তিষ্ক মন নয় আর স্নায়ু নয় মনের শাখা-প্রশাখা। জন্ম থাকে মস্তিষ্ক মনকে সাজাতে থাকে, পারিপার্শ্বিক জগতের সাথে মনের সংযোজক মাত্র।মস্তিষ্ক মনকে সতর্ক বার্তা দিতে পারে কিন্তু চালিকা শক্তি মন। মনের চিকিৎসায় ঔষদের থেকে সাইকোথেরাপি অনেক কার্যকর। স্নায়ুর চিকিৎসক ও মনোচিকিৎসক একই হতে পারে না। অবশ্য স্নায়ু চিকিৎসকগন যদি ট্রেনিং ও অভিজ্ঞতা নিয়ে মেডিসিন ও সাইকোথেরাপির সমন্বয় সাধন করেন তা আমাদের দেশের জন্য অনেক মঙ্গল বয়ে আনত।

মনোরোগে কিছু কিছু ক্ষেত্রে (সিজোফ্রেনিয়া) মেডিসিন ফলপ্রদ হলেও অনেক চিকিৎসায় বড়োজোর ঘুম বাড়াতে পারে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না।

মানিসিক ব্যাধি উৎপত্তিরকারণ:

অন্যতম কারণ শিশুকাল ও বাড়ন্ত বয়সে পিতা-মাতার উদাসিনতা,পারিবার ও আর্থসামাজিক অবস্থার কুপ্রভাববিস্তারিত ডিপ্রেশন আর্টিকেল দেখুনএকটি উদাহরণ: একব্যক্তি স্ত্রীকে/প্রেমিকাকে খুব ভালো বাসতো যেকোনো কারণে হোক তাদের বিচ্ছেদ ঘটে গেলো।কিন্তু সে মেনে নিতে না পারায় মাদকাসক্ত হয়ে গেলো এবং ধিরে ধিরে অসংলগ্ন কথা কাজ এমন কি অসামাজিক কর্মে লিপ্ত হলো।মেডিকেল মডেল মতে জীবাণুর আক্রমন নেই।অতএব এখানে তার রোগের একমাত্র চিকিৎসা সাইকোথেরাপি। মেডিসিন কেবলমাত্র তার উদ্ভ্রান্ত চালচলনে সৃষ্ট কিছু রোগ সারাতে পারে; তার মনের উপর ক্রিয়া করতে পারে না।

হোমিওপ্যাথের সাথে সাইকোথেরাপিস্ট সম্পর্ক

হোমিও প্যাথির চিকিৎসা হচ্ছে রোগের তথা জীবাণু কেন্দ্রিক নয়,রোগী কেন্দ্রিক। রোগীর আচরণ, মানসিকতা, অনুভূতি, ইত্যদি চারিত্রিক লক্ষণ দেখে হোমিও চিকিৎসা দেয়া হয়। অতএব কারণে এর সাথে সাইকোথেরাপির নিগুড় সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশ্লেষণ মূলক তথ্য পেতে #Relation between Psychotherapist and Homoeopath-2 (সাইকোথেরাপিস্ট ও হোমিওপ্যথের  মধ্যে সম্পর্ক-২) পড়ুন।

বিস্তারিত জানুন ।

1 thought on “মানসিক ও শারিরীক চিকিৎসা-সাইকোথেরাপিস্ট ও হোমিওপ্যাথের মধ্যে সম্পর্ক-১”

  1. Pingback: রোগ মুক্তি সম্পর্কে ইসলামে নামাজ ও অন্যান্য আমলের ভূমিকা lifocyte.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *