lifocyte.com

শিশুর বিছানায় প্রস্রাব -এর হোমিওপ্যাথিক ও বায়োকেমিক চিকিৎসা

শিশুর বিছানায় প্রস্রাব

শিশুর বিছানায় প্রস্রাব করা অস্বাভাবিক কিছু নয় ,মাঝে মধ্যে বিছানা বা মা-বাবার জামা-কাপড় নষ্ট  না করলে সে আবার শিশু হল নাকি । কথা হচ্ছ এটি যখন সীমা অতিক্রম করে তখন তা আর মেনে নেয়া যায় না ।  এর একটা  বিহিত করতেই হবে এর জন্য অন্য প্যাথিতে কোনো ঔষধ আছে কিনা ,আমার জানা নাই ।  কিন্তু হোমিওপ্যাথিতে এর চমৎকার চিকিৎসা আছে ।  হোমিও চিকিৎসক মাত্রই জানেন সিনা , মার্কসল , কষ্টিকাম , ক্রিয়োজোট, সিপিয়া ইত্যাদি ঔষধে  শিশু স্বাভাবিক হয়ে যায় ।

ছোট বেলায় আমি বিছানায় প্রস্রাব আর কৃমির ঔষধ বলতে একমাত্র সিনা কে জানতাম । বাবাকে এই রোগে প্রায় সময় সিনা দিতে দেখেছিলাম । কথা হচ্ছে সেই সময় ( ১৯৯০ এর দশকে ) এই বাংলার  মানুষ  গুড়া কৃমি থেকে শুরু করে নানা প্রকার কৃমিতে জরজরিত ছিল ।  আর এজন্য হয়তো সে সময় সিনা ছিল কৃমির ও বিছানায় প্রস্রাব বন্ধ করার মহৌষধ।  বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় স্কুলে স্কুলে বিনামূল্যে কৃমি নাশক খাওয়ানোয় শিশুদের আর কৃমির প্রত্যক্ষ যন্ত্রণা পোহাতে হয় না । কিন্তু তাই বলে কি বিছানায় প্রস্রাব বন্ধ হয়েছে ; কৃমি কি নির্মূল হয়েছে ?

বিছানায় প্রস্রাবের কারণ

  • বিছানায় প্রস্রাব করার অন্যতম কারণ শিশুর স্নায়ুবিক দুর্বলতা।
  • কৃমি জনিত কারণে বা অন্য কারণে পুষ্টিহীনতা ।
  • সারা দিন খেলখুলা , দৌর ঝাপ জনিত ক্লান্ত থাকা ।
  • রাতে বেশি বেশি পানীয় বা দুধ পান করা ।
  • শোয়ার সময় প্রস্রাব না করা ।
  • শারিরীক ও মানসিক অবসাদ জনিত অলসতা ।
  • যৌনাঙ্গ বা প্রস্রাবদ্বারে বা প্রস্রাবে ইনফেকশন থাকা ।
  • ঘুমে স্বপ্নে প্রস্রাব করা দেখে প্রস্রাব করা ।
  • শিশুর ঘুমে ঠান্ডা পাওয়াও অনেক সময় বিছানায় প্রস্রাব এর কারণ হতে পারে ।
  • একটানা অধিক সময় ধরে শিশুর ঘুমপারা ইত্যাদি নানা কারণে বিছানায় প্রস্রাব করে।

প্রতিকারের উপায়

  • শিশু বিছানায় প্রস্রবের চিকিৎসার পাশা পাশি পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে ।
  • নিয়মিত ঘুম,পরিমিত জীবণ যাপনে অভ্যস্ত করেত হবে
  • শিশু যাতে বেশী বেশী টি ভি বা গেম খেলে নিজেকে ক্লান্ত করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা ।
  • শোয়ার পূর্বে অবশ্যই প্রস্রাব করে শোয়ানো ।
  • অতিরিক্ত মানসিক(পড়াশুনা) বা শারিরীক(মারধর) প্রেশার না দেয়া ।
  • ছেলেদের দ্রুত খতনা করা , মেয়েদের সাদাস্রাব সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা ।
  • মাঝারাতে উঠায়ে টয়লেটে প্রস্রাব করালে অভ্যাস হয়ে যাবে ।
  • নিয়মিত কৃমি নাশক খাওয়ানো ।
  • হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এই সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধসমুহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
সিনা(Cina):

ক্রিমিগ্রস্ত  শিশুর বিছানায় প্রস্রাব এর অন্যতম ঔষধ । চিনি বা মিষ্টিদ্রব্য খুব প্রিয় । রাতে ঘুমের ঘোরে দাঁত করমর করে । জিহ্বা পরিষ্কার স্বচ্ছ ও প্রচন্ড জিদি । সর্বদা ঘ্যান ঘ্যান প্যান প্যান করে ও কলে চরে বেড়াইতে চায় এমন শিশুর বিছানায় প্রস্রাব সহ যেকোনো পীড়ায় (জ্বর ,অজীর্ণ,পুস্টিহীনতা) সিনা অমোঘ । সেবন বিধিঃ ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ সকাল বিকাল দুই মাত্র সেব্য।

মার্কসল(Merc sol):

যদি ঘুমের ঘোরে বিছানায় প্রস্রাব করে এবং অসারে প্রস্রাব করতে থাকে। শিশু হাত দিলে লিঙ্গ মর্দণ করেত থাকে  সর্বদা ফোটা ফোটা প্রস্রাব করে। এজন্য প্যান্ট ভিজা থাকে তবে তার জন্য মার্কসল উপযুক্ত ।    সেবন বিধিঃ ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ সকাল বিকাল দুই মাত্র সেব্য।

ক্যালকেরিয়া কার্ব(Cal Carb):

মোটা থলথলে ,সিদ্ধডিম প্রিয়, প্রচুর গা ঘামে এরুপ শিশুর বিছানায় প্রস্রাব হলে তার জন্য ক্যালকেরিয়া কার্ব দারন কাজ করে ,গত মাসে আমি ৭ বছরের এক শিশুকে এই ঔষধ ২০০ শক্তি এক ড্রাম দিয়েছিলা । এখন আর ঘুমের মাঝে বিছানায় প্রস্রাব করে না  ;খুব চাপ পরলে ঘুম থেকে নিজে উঠে টয়লেটে যায় ।

কষ্টিকাম(Causticum):

শিশু প্রথম ঘুমেই বিছানায় প্রস্রাব করে কষ্টিকাম তাদের পরম বন্ধু।বিছানায় মোতার চিকিৎসার কথা মনে হলেই এই ঔষধের নাম স্মলণ হয়। সেবন বিধিঃ ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ সকাল বিকাল দুই মাত্র সেব্য।

ক্রিয়োজোট(Kreasotumn):

বালক-বালিকা,যুবক-যুবতি যে কোন রোগী  স্বপ্ন দেখে সে নির্দৃষ্ট সাথানে অর্থাৎ টয়লেট বা উপযুক্ত প্রস্রাব করিতেছে। কিন্তু ঘুম হতে উঠে দেখে নিজের বিছানায়ই প্রস্রাব করিয়াছে; এবং প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব হয় । বিশেষ করে দাঁতের পোকা লাগা, পাইরিয়া ইত্যাদি  সমস্যা ও মেয়েদের সাদাস্রাব জনিত সমস্যা থাকলে, তাহার জন্য ক্রিয়োজোট চমৎকার কাজ করে ।   সেবন বিধিঃ ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ সকাল বিকাল দুই মাত্র সেব্য।

এসিড বেঞ্জোয়িক(Acid Benzoic ):

রোগীর প্রস্রাব ঘোড়ার প্রস্রাবের ন্যায় দুর্ঘন্ধ থাকে এবং রাত্রে বিছানায় প্রস্রাব করে তবে  তিনি এসিড বেঞ্জোয়িক এর উপযুক্ত রোগী ।  সেবন বিধিঃ ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ সকাল বিকাল দুই মাত্র সেব্য।

সিপিয়া(Sepia)

যে শিশু প্রথম ঘুমেই বিছানায় প্রস্রবের এবং প্রস্রাবে দুর্ঘন্ধ থাকে তার জন্য সিপিয়া পরম বন্ধু। বিশেষহ করে মেয়ে শিশুর সাদাস্রাব সমস্যা সহ বিছানায় প্রস্রাব করার সমস্যায় সিপিয়া উপযুক্ত ঔষধ ।   সেবন বিধিঃ ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ সকাল বিকাল দুই মাত্র সেব্য।

বার্ভাসকাম বা মুলেন ওয়েলঃ

শিশু অভ্যাস বশত বিছানায় প্রস্রাব করে তবে সেই অভ্যাস দুর করতে মুলেন ওয়েল প্রয়োজন। সেবন বিধিঃ ৬ বা ২০০ শক্তির ঔষধ সকাল বিকাল দুই মাত্র সেব্য।

ব্লুমিয়া অডোটেডা(Blumia Adho):

শিশুর বিছানায় প্রস্রাবের চিকিৎসায় সকল ঔষধ ব্যার্থ হলে এই ঔষধটি পরীক্ষা করা জরুরী। মাদার টিংচার অথবা ৩ শক্তির ঔষধ সামান্য পানিতে দিনে তিন বার সেব্য।

এপোসাইনাম(Apocynum):

শিশুর বিছানায় প্রস্রাব অভ্যাসটি দুর করতে এই ঔষধটি জরুরী প্রয়োজন।  ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ দিনে দুই মাত্রা সেব্য।

রাস টক্সঃ ঘুমের ঘোরে বিছানায় প্রস্রবের একটি অব্যার্থ ঔষধ–সুত্র জে এম মিত্র।  সেবন বিধিঃ ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ সকাল বিকাল দুই মাত্র সেব্য।

শিশুর বিছানায় প্রস্রাব  বায়োকেমিক চিকিৎসা

নেট্রাম ফস( Natrum Phos):   ক্রিমিগ্রস্ত  শিশুর জন্য বিছানায় প্রস্রাব হলে  নেট্রাম ফস – 3X; ১/৪  বড়ি দিনে তিন বার বয়স অনুসারে সেব্য ।

ক্যালকেরিয়া ফস(Calcarea phos):  রক্ত শুন্য দুর্বল পুষ্টিহীন শিশুর  বিছানায় প্রস্রাব  বন্ধের জন্য ক্যালকেরিয়া ফস- 6x বা  12;  ১ /৪  বড়ি দিনে তিন বার বয়স অনুসারে সেব্য

কেলি ফস(Kali phos):   স্নায়ুবিক দুর্বল শিশুর জন্য কেলি ফস 3x বা 6x , ১ /৪  বড়ি দিনে তিন বার বয়স অনুসারে সেব্য।

 

শেষ কথা

শিশুর বিছানায় প্রস্রাব সহ যাবতীয় চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথিক যেকোনো ঔষধ কাজ করেত পারে।  ক্যামিমিলার লক্ষণ মিলিলে একডোজ ক্যামোমিলায় বা সিফিলিনাম , টিউবার কুলিনাম , মেডরিনাম এক মাত্রা দিয়েও শিশুর বিছানায় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে ,দরকার ডায়াগনোসিস পাওয়ার ।  এজন্য মেটেরিয়া মেডিকা দেখে শিশুর  সামগ্রিক রোগীচিত্র নির্ণয় করে চিকিৎসা দিলে খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যায় ।

আমি সকলের আবিস্কারকে  সন্মান করি ,সাধুবাদ জানাই কিন্তু না বুঝে সমালচককে এরিয়ে চলি । এরা না সমাজ কে কিছু দিতে পারে না নিজে কিছু করতে পারে ।বরং এরা সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃস্টিকারি । হোমিওপ্যাথ হিসেবে নিজকে পরিচয় দিতে চাইলে  আসুন অর্গাননে মেনে চলি , মেটেরিয়া মেডিকা অনুসরণ করে হোমিও চিকিৎসা দেইকরি ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *