lifocyte.com

শিশু রোগের

শিশু রোগের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ  নির্বাচন  কৌশল 

শিশু রোগের লক্ষণ

শিশু রোগের চিকিৎসা খুবই জটিল কেনোনা সে তার অভিব্যক্তি বলে প্রকাশ  পারে না । আচরণ দেখে বুঝে নিতে হয় সে কোন ঔষধের উপযুক্ত । শিশুরে কিছু ব্যতিক্রম আচরণ আছে যা ঔষধ নির্বাচনে সহায়ক । হোমিওতে রোগ নয় রোগীর  চিকিৎসা দেয়া হয় । তাই শিশুর কোন কোন আচরণে কি কি মেডিসিন অগ্র গন্য তার একটি  তুলনামূলক চিত্র দেয়া হলো ।

লক্ষণ ভেদে হোমিও ঔষধ

  • ১) ঘুমের মধ্যে শিশুদের দাঁত কটমট করার জন্য Cina অথবা Cannabis indica প্রতিদিন দুইবার করে তিনদিন খাওয়ান (মোটা শিশুদের অথবা পেট মোটা শিশুদের বেলায়- Calcarea carb একই নিয়মে খাওয়ান)।
  • ২) শিশুদের শরীর বৃদ্ধি না হয়ে বামন হতে থাকলে- Thyroidinum অথবা Aurum metallicum (শক্তিঃ- ৩০, ২০০) নামক ঔষধটি সাতদিন পরপর একবার করে দুই/তিন মাস খাওয়ান। যথেষ্ট উন্নতি না হলে প্রয়োজনে ছয়মাস পর আবার খাওয়াতে পারেন।

  • ৩) শিশুরা বুকের দুধ খাওয়ার সময় যদি স্তনের বোটায় কামড় দেয়, তবে শিশুকে Cuprum metallicum খাওয়ান। যদি তাতে কাজ না হয়, তবে পোডোফাইলাম (Podophyllium) ঔষধটি খাওয়াতে পারেন।
  • ৪) শিশুর হাঁটা শিখতে বা দাঁত ওঠতে দেরী হলে- Calcarea carb (শক্তিঃ- Q, ৩, ৬, ১২, ৩০) সপ্তাহে একমাত্রা করে তিনমাস খাওয়ান।
  • ৫) শিশুর কথা শিখতে বা পড়াশোনা শিখতে দেরী হলে- Natrum mur সপ্তাহে একমাত্রা করে তিনমাস খাওয়ান (বিশেষত যাদের পা মোটা, কিন্তু ঘাড় চিকন এবং লবণযুক্ত খাবার বেশী খায়)।
  • ৬) শিশু জন্ম থেকেই বোকা হলে- Calcarea phos এক সপ্তাহ পরপর একমাত্রা- এভাবে তিনমাস খাওয়ান। ব্যারাইটা কার্ব বা  ব্যারাইটা মিউর কে স্মরণ করতে হতে পারে । এতে কাজ না হলে বিশেষজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • ৭) পক্ষান্তরে শিশু গোঁয়ার্তুমী এবং দুষ্টুমিতে ওস্তাদ হলে- Medorrhinum (শক্তিঃ-১০০০) একমাত্রা খাওয়ান। পরবর্তীতে শক্তি বাড়িয়ে খাওয়াতে পারেন। ক্যামোমিলা কোনো অংশ কম নয়  Chamomilla (শক্তিঃ- ৩০, ২০০) পাঁচ/দশটি বড়ি রোজ দুইবেলা করে এক সপ্তাহ খাওয়ান। প্রয়োজনে সিনাকেও স্মরণ করতে হতে পারে ।
  • ৮) যেসব শিশুরা ঘরের ভেতর স্বৈরাচার কিন্তু বাইরে গেলে ভদ্রলোক তাদেরকে Lycopodium (শক্তিঃ- ১০,০০০) মাসে একমাত্রা করে তিনমাস খাওয়ান। পরবর্তীতে শক্তি বাড়িয়ে খাওয়াতে পারেন।
  • ৯) যেসব শিশু ঘরে-বাইরে সর্বত্র সমান দুষ্টুমি এবং শয়তানী করে তাদেরকে Bacillinum (শক্তিঃ- ১০,০০০) দুইমাস পরপর একমাত্রা করে ছয়মাস খাওয়ান। পরবর্তীতে শক্তি বাড়িয়ে খাওয়াতে পারেন।
  • ১০) যেসব শিশু সর্বদা মায়ের আচঁল ধরে থাকে অর্থাৎ হাত ধরে থাকে, তাদের যেকোন পেটের রোগে Bismuthum ঔষধটি খাওয়াতে ভুলবেন না।
  • ১১) যেসব শিশু দেখতে বৃদ্ধদের মতো দেখায়, তাদের চিকিৎসায় প্রায়ই- Argentum nitricum (মিষ্টি খাবার বেশী পছন্দ), Calcarea carbonica (থলথলে স্বাস্থ্য) অথবা Natrum muriaticum (লবণ বেশী পছন্দ) দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে হয় (শক্তিঃ- Q, ৩, ৬, ১২, ৩০)।
  • ১২) যেসব শিশু অপরিচিত মানুষের সামনে পায়খানা করতে পারে না, তাদের অধিকাংশ রোগ-ব্যাধি Ambra grisea ঔষধটি ব্যবহারে সেরে যাবে। এমনকি তাদের এই অদ্ভূত স্বভাবটি পযর্ন্ত দূর হয়ে যাবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব শিশুদের মধ্যে কোষ্টকাঠিন্য, পাইলস প্রভৃতি রোগের উৎপাত বেশী দেখা যায়।
  • ১৩) শিশুর দুধ সহ্য হয় না , খেলেই বমি করে দেয় লক্ষণে Silicea বা Aethusa cynapium (শক্তিঃ- Q, ৩, ৬, ১২, ৩০) তিনবেলা করে খাওয়ান।
  • ১৪) যে শিশু সারাক্ষণ ঘ্যান ঘ্যান করে আর কোলে ওঠে থাকতে চায়, তাকে Chamomilla (শক্তিঃ- ৩০, ২০০) পাঁচ/দশটি বড়ি রোজ দুইবেলা করে এক সপ্তাহ খাওয়ান।

  • ১৫) মায়ের দুগ্ধ গাঢ়, নোনতা, বিস্বাদ প্রভৃতি হওয়ার কারণে শিশু না খেতে চাইলে Calcarea carb অথবা Calcarea phos অথবা Phytolacca (শক্তি Q, ৩, ৬, ১২, ৩০) তিনবেলা করে পনের দিন খাওয়ান।
  • ১৬) শিশু ক্রমশ শুকিয়ে গেলে কিংবা ভাল খেয়েও শুকিয়ে গেলে- Calcarea phos (শক্তিঃ- ২০০) চারদিন পরপর একমাত্রা করে দুইমাস খাওয়ান।
  • ১৭) শিশু অন্ধকারকে ভয় পেলে Medorrhinum (শক্তিঃ- ১০,০০০) একমাত্রা খাওয়ান।
  • ১৮) শিশু সর্বদাই ক্রুদ্ধ থাকে, মাত্রাতিরিক্ত ক্ষুধা লক্ষণে- Staphisagria (শক্তিঃ- ২০০) রোজ দুইবেলা চার দিন খাওয়ান।

  • ১৯) গোসল করানোর সময় শিশু কান্নাকাটি করলে- Sulphur (শক্তিঃ- ২০০) সপ্তাহে একমাত্রা করে একমাস খাওয়ান।
  • ২০) শিশুদের শরীর, মল থেকে টক গন্ধ বের হলে- Magnesium carbonium (শক্তিঃ- ২০০) আর দুর্গন্ধ বের হলে- Psorinum (শক্তিঃ- ২০০) সপ্তাহে একমাত্রা করে একমাস খাওয়ান।
  • ২১) শিশু বা বয়ষ্ক যে কোনো লোক কুকুরকে খুব ভয় পেলে- Bacillinum (শক্তিঃ- ১০,০০০) দুইমাস পরপর একমাত্রা করে ছয় মাসে তিন মাত্রা খাওয়ান।

এইলেখাটি একটি অমূল্য রত্ন বলে মনে হয়েছে কবে কোথায় পেয়েছি জানা নেই সকল চিকিৎসকের জন্য খুবই সহায়ক ও শিশুদের জন্য উপকারী বলে পোস্টি শেয়ার করলাম । শিশুর অন্যান্য রোগের বিষয়ে জানতে নিচের লেখাগুলো পড়তে পারেন ।

 

1 thought on “শিশু রোগের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ  নির্বাচন  কৌশল ”

  1. Pingback: কৃমি – কৃমির হোমিওপ্যাথিক  চিকিৎসা [কৃমির জম] - Lifocytex.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *