lifocyte.com

সাইলেসিয়া

সাইলেসিয়া [ Silicea ]-হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শতগুণ

সাইলেসিয়া

সাইলেসিয়া হোমিওপ্যাথির এক অমূল্য সম্পদ।মহাত্মা হ্যানিম্যান ১৮২৮ খ্রীঃ এটি  প্রথম পরীক্ষা করে ক্রনিক ডিজিজ নামক পুস্তকের তৃতীয় খন্ডে লিপিবদ্ধ করেন ।একে সিলিকা, SiIicea নামে ডাকা হয়। সাইলেসিয়া [ Silicea ] এর  রাসায়নিক সংকেত SiO2 (সিলিকন ডাই-অক্সাইড)। সাধারণত সাইলেসিয়া মানব দেহের সংযোজক তন্তুর মধ্যে থাকে। Silicea মানুষের চুল, নখ ও ত্বকে কিছু বেশী পরিমাণে থাকে।

মায়াজম ও কাতরতা

সাইলেসিয়া  সোরিক, সাইকোটিক, টিউবারকুলার, সিফিলিটিস অর্থথাৎ সব মায়াজমের উপর ক্রিয়া করে থাকে। সাধারণত Silcea শরীরের ডানপাশ, বামপাশ, ওপরে ডানপাশ ও নিচে বামপাশ বেশি আক্রান্ত হয় । সাইলেসিয়া শীতকাতর

ক্রিয়াস্থল

রক্ত, মাংস, মস্তিস্কের স্নায়ু, পিত্ত, মুত্র, পরিপোষণ, গ্লান্ডস ,অশ্রুস্থলী, ফিসচুলা, অস্থি, মিউকাস মেমব্রন, চামড়া ইত্যাদির উপর এর ক্রিয়া দেখা যায়।

অপারেশনের ঘা শুকাতে সাইলেসিয়া

একটি  ৮ বছরের শিশুর খতনা করার পর তাকে একটি ভালো কোম্পানির এন্টিবায়োটিক দিয়ে সাত দিন ( কোর্স শেষ) চিকিৎসা করায়ে ঘা না শুকানোয় হোমিও সাইলেসিয়া -২০০ দিলাম । তিনটি ডোজ খায়নোর পরেই দেখি ঘা শুকে একদম চকচকে হয়ে গেছে ।

একজন ছ- মিলের কর্মির পায়ে জি আই তার বা পেরেক জাতীয় কিছু ফুটে ছিল বিধেয় সে এলোপ্যাথিক চিকিৎসকের নিকট যায় । তিনি কেটে কুটে ময়লা পরিষ্কার করে তাকে অনেকগুল ঔষধ লিখে দেন । ঘা এবং ব্যাথা নির্মুল হয় না বরং কষ্ট বেড়ে যাচ্ছে কাজ কর্ম করতে পারছে না । অনেকটা অনীহা বসে আমার নিকট তার অভিযোগ করল(২০০৭ সালে ) প্রতিদিন ৩৫ টাকার ঔষধ খাচ্ছি কোন কাজ হচ্ছে না ।হোমিওতে কি সারবে ? আমি তাকে  সাইলেসিয়া -২০০ মাত্রা ৬য় টা পুড়িয়া বেধে দেই প্রতিদিন দুই বার । আলহামদুলিল্লাহ তাকে ঐ সমস্যারর জন্য আর চিকিৎসা করতে হয়নি ।

মাছের কাঁটা বিধলে সাইলেসিয়া

আমার এক ভায়ের বউ ভাবি আসলেন তাঁর নাতনীর গলায় মাছের কাঁটা বিধেছে। আমি তাকে সাইলেসিয়া ৩০ কয়েকটি পুড়িয়া বেধে দেই । কয়েকদিন পরে দেখা হলে আমি জিজ্ঞাস করলাম  নাতনীর কি অবস্থা ?  তিনি অবজ্ঞার সুরে বললেন একবার মাত্র ঔষধ খাইছে মনে হয় কাঁটা একা একা খুলে গেছে  পরে আর ঔষধ  খাওয়াইনি । কষ্ট পেলাম , কিন্তু দু’এক দিন পরেই সেই ভাবীর গলায় মাছের কাঁটা বিধে গেল । এখন উপায় কি ? আমার নিকট আগমন আমিও উত্তর দিতে নাছরবান্দা  ।আরে টেনশনের কিছু নাই নাতনীর মত  এমনি খুলে পড়বে ঔষধ লাগবে না। কিন্তু না, এবার নিজে রোগী কি আর করে  ।শেষে ঔষধ নিয়েই গেলো Silicea -30  কয়েক দিন ঔষধ খেতে হইছে । এবার তাঁর বিশ্বাস হইছে ঔষধে কাঁটা বের হয়ে যায় ।

আমার এক অফিসারের গলায় মাছের কাঁটা এই এক সাইলেসিয়া [ Silicea ]  দিয়ে সারছে । এছাড়াও ফ্যামিলির , আত্মিয় ও ছাত্রদের অনেকের মাছের কাঁটা বিধা কয়েকমাত্রা Silicea  -30  অপারেশন বা যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করেছে । মাছের কাঁটা, সুঁই, ভগ্ন অস্থি খণ্ড বা কাঁটা বিঁধে যাদের ভীষণ কষ্ট দেয়। ( লিডাম ,এনাগেলিস , হাইপেরিকাম কে ভুলে যাবেন না )  ।অনেক ইগনেসিয়াকে মাছের কাঁটা ফোটায় বলে থাকে ।

নোখকুনীতে Silicea

হিপারের অনুপুরক হিসেবে নোখকনীতে সাইলেসিয়া চমৎকার ক্রিয়া প্রদর্শন করে ।বিশেষকরে  যাদের নখ শুষ্ক ও ভগ্ন প্রবণ , নখের চারিদিকে ও নীচে পুঁজ হয়।পদ ঘর্ম বা ঘর্ম লুপ্ত হয়ে নোখকুনী পেকে যন্ত্রণায় কয়েক মাত্রাতেই উপশম হয় । হিপারে স্পর্শ্ব কাতরতা থাকবে নড়াচড়া বা হাটাচলা দুরের কথা নোখ স্পর্শ্ব  পর্যন্ত করেতে দিবে না । সাইলেসিয়া পরিষ্কার করতে দিবে গাঢ় হলদে পুঁজ হলে সাইলেসিয়া ২০০ ,১এম বা আরও উচ্চ শক্তি দুই এক মাত্রা ।

দাঁতের  সমস্যায় 

পায়োরিয়াতে ভালো কাজ করে ( ক্রিয়োজট) সামান্য চাপ দিলে মাঢ়িতে বেদনা অনুভব করে। দাঁতগুলি আলগা। রাত্রিতে অত্যন্ত দন্তশূল। ঠাণ্ডা বা গরম প্রয়োগে আরাম বোধ হয় না। ঠাণ্ডা লাগার জন্য অত্যন্ত দন্তশূল। কষ্টকর দন্তোৎগম। দাঁতের মাঢ়ীতে বেদনা ও ফোস্কা, মাঢ়ীতে স্ফোটক। মার্কসল ও সাইলেসিয়া পরস্পরের শত্রু  তাই প্রায় একই লক্ষণ বিবেচনায় কেউ ভুল করে এই দুইটি ঔষধকে  একত্রে বা পাশাপাশি প্রয়োগ করবেন না ।

কর্ণ রোগে 

থুজা ও সাইলেসিয়া অনুপুরক তাই উচ্চ শক্তির থুজা  দুই একমাত্রা দিয়ে সাইলেসিয়া প্রয়োগে কানের গেজ বের হয়ে সুস্থ হতে দেখেছি । উচ্চ শব্দ সহ্য করতে পারেনা। কর্ণের স্ফীতি জনিত কারণে  শ্রবন শক্তির হ্রাস। পুঁজসহ কর্ণ প্রদাহ, পুঁজ গাঢ় দধির ন্যায়, স্নানের পর কর্ণ প্রদাহ। বধিরতা, কখনও, কখনও শব্দে কর্ণ খুলে যায় বা শুনতে পায়। এরুপ লক্ষণে সাইলেসিয়া উত্তম ।

যৌনরোগে Silicea

অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ,হস্তমৈথুন,অতিরিক্ত স্ত্রী সহবাস ইত্যাদি কুফল এর সাথে  সাইলেসিয়ার  সর্বদৈহিক লক্ষণ মিললে তার জন্য Silicea ( সাইলেসিয়া ) অধিক কার্যকর ।
রোগ দিয়ে নয় রোগীর সার্বদৈহিক লক্ষণ বিবেচনায় ঔষধ দিতে হবে ।  মটেরিয়া মেডিকা জ্ঞান নিয়ে সাইলেসিয়া চিকিৎসা দিতে হয় । উপরে Silicea এর কিছু প্রয়োগ ক্ষেত্র দেয়া হলো । প্রতিটি মেটেরিয়া মেডিকায় অনেক অনেক দূর্ল্ভ তথ্য দেয়া আছে সেগুলো থেকে সহজ কিছু টেকনিক সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো

সাইলেসিয়ার মানসিক লক্ষণ
  • বিবেচনা শক্তি কম, সর্বদা চুপ করে থাকে, কোন কার্যে মনোনিবেশ করতে পারেনা।
  • স্নায়বিক অবসন্নতা। মানসিক পরিশ্রম করতে পারেনা।
  • রোগী ভরসাহীন, আশাহীন, অবসন্ন ও ভীত। জীবনকে তুচ্ছ ও বিরক্তিজনক ভাবে।
  • মেজাজ অত্যন্ত খিটখিটে, সদাই রেগে আগুন হয়ে থাকে। সর্বদা ক্রন্দনশীল।
  • আলপিনের কথা ভাবে ও আলপিন পেলে গননা করে।
  • কোনও কাজ আরম্ভ করার সময় তার খুব ভয় হয় কিন্তু কোন প্রকারে যদি তাকে সে কাজে লাগাতে পারা যায় তবে সে চমৎকার ভাবে শেষ করতে পারে।

চরিত্রিক লক্ষণঃ

  • যাদের পেট বড়, গোড়ালী দুর্বল, বিলম্বে চলতে শেখে, স্নায়বিক ও উত্তেজিত প্রভৃতি রোগী।
  • ঘর্ম বন্ধ হয়ে পীড়া পায়ের ঘামে দুর্গন্ধ এবং পদ ঘর্মহেতু রোগ হলে।
  • ঘাম না হয়েও যাদের পায়ের তলায় খুব দুর্গন্ধ বার হয়।
  • যাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব, জলে কাজ করার জন্য ঋতু স্রাব। হাজাকর শ্বেতপ্রদর।
  • স্তন্যদানকালে স্ত্রীলোকের যোনির রক্তস্রাব।
  • টিকা দেওয়ার কুফল।দুর্দম্য কোষ্ঠ বদ্ধতা। সর্বাধিক নালী ক্ষত।
  • প্রস্তর খোদাইকারিদের ফুসফুসের পীড়া ; যক্ষার দুর্বলতা ও নৈশ ঘর্ম।
  • অতিশয় রাক্ষুসে ক্ষুধা। দুর্বল ও কৃমি প্রধান বালকের পীড়া।
  • ইচ্ছা অনিচ্ছাঃ গরম খাদ্য ও রান্না খাদ্য খেতে অনিচ্ছা।শীতল খাদ্য ও কাঁচা ফলমূল খেতে ইচ্ছা। দুধ ও মাছ অসহ্য।
  • ছানি, চক্ষুর তারা সংকুচিত।
  • দুই ঋতুর মধ্যে রক্ত মিশ্রিত স্রাব নিঃসরণ।  ঋতুর পরিবর্তে সাদা জলের মত স্রাব। অনিয়মিত স্রাব।
  • পৃষ্ঠব্রন, ব্রন, আঙ্গুলহাড়া থেকে গাঢ় হলুদ বর্ণের পুঁজ নিঃসরণ।চর্মরোগ চুলকালেই বৃদ্ধি।বৃদ্ধদের ব্রংকাইটিস পীড়া।

    >>>>>>>>>>পীড়ার হ্রাস 

  • মস্তক ঢাকা দিলে, চেপে বাঁধলে ও স্থির হয়ে থাকলে শিরঃপীড়ায় হ্রাস ।
  • গ্রীষ্ম কালে , উষ্ণ আবরণ, উষ্ণগৃহ ও উত্তাপে বহু লক্ষণ হ্রাস।
  • উত্তাপে উদরের বেদনা, কাশি ও বাত বেদনার হ্রাস।
  • আহারকালে মাথার বেদনার হ্রাস।

    <<<<<<<<<<পীড়ার বৃদ্ধি

যে সকল পীড়ায় প্রযোজ্য

লক্ষণ মিলাতে পারলে  শিরঃ পীড়া, চক্ষু রোগ, পাকস্থলীর লক্ষণ,  স্নায়বিক সমস্যা ,  চর্মপীড়া ,  মুত্র যন্ত্রের পীড়া ,  পুংজননেন্দ্রিয়ের ও ,স্ত্রী-জননেন্দ্রিয়ের পীড়ায় খুবই আশচর্য ক্রিয়া করে ।

 বিশেষ বিজ্ঞপ্তি

এগুলো ঔষধ প্রয়োগের কিছু দিক  বর্ণনা করায় অনেক নবীন চিকিৎসক ঔষধের প্রয়োগ ক্ষেত্র সম্পর্কে অবগত হতে পারে। মাসেঞ্জারে অনেকে হোমিও চিকিৎসক বন্ধু তাদের চাহিদা দিয়ে থাকেন এই বিষয়ে লিখেন অনেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকেন । এতে করে লেখার  প্রেরণা পাই   তাই লিখি । কষ্ট পাই তখনি যখন দেখি ফেসবুকে ১০টা লেখা পেন্ডিং হয়ে আছে অথচ তিনি বইয়ের ব্যবসা বা ঔষধের বোতলের প্রচার এপ্রুভ করছেন । তারা হোমিওপ্যাথির প্রচারে নয় ব্যবসায় লিপ্ত আমি ভাবছি তাদের একটা লিস্ট পাঠক বৃন্দের নিকট উপস্থাপন করব । আমার সর্বোচ্চ পোষ্ট হয়েছে ‘হোমিওপ্যাথিক পাঠশালা গ্রুপে’ এবং ম্যাসেঞ্জারে তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন । এজন্য আমি জনাব ডাঃ মোঃ ইয়াকুব স্যারের নিকট কৃতজ্ঞ । কিন্তু পঞ্চাশ সহস্রতমিক নামক একটা গ্রুপে ১০টা পোস্ট ঝুলে আছে সত্যি লজ্জ্বাকর অথচ তারা বই,ঔষধের পোস্ট এপ্রুভ করছেন।

এজন্য আমি একটি পাবলিক গ্রুপ “হোমিওপ্যাথিক উন্মুক্ত আলোচনা” সকলের আলোচনার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছি । আপনারা এই গ্রুপে এড হলে হয়তো আমার লেখাগুলোর নোটিফিকেশন পাবেন ।আপনাদের মুল্যবান লেখা পোস্ট করতে পাবেন । দয়া করে ঔষধের ব্যাবসা , বই বিক্রির বিজ্ঞাপন দিবেন না । হ্যা আপনার লেখা বা বইয়ে নামের তালিকা বা বইয়ের তথ্য দিলে খুব ভালো লাগবে ।অনেক গ্রুপকে দেখলা ২০০, ৫০০ মেম্বার থাকায় পোস্ট এপ্রুভ করে কিন্তু যখনি ৫/৭ হাজার হয়ে যায় তখন আর পোস্ট এপ্রুভ হয় না শুরু হয় তাদের বই আর ঔষধের বিজ্ঞাপন ।

আমি কারো পক্ষে বা বিপক্ষে নই , নিরবে হোমিওর খেদমতে ব্যস্ত । আমার লেখায় ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে , ভুল পেলে সংগে সংগে  সংশোধন করে দিবেন । এই প্রত্যাশায় আজকের মত সমাপ্ত ।

1 thought on “সাইলেসিয়া [ Silicea ]-হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শতগুণ”

  1. Pingback: বায়োকেমিক ঔষধ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া  - Site titl

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *