lifocyte.com

হেপাটাইটিস কী? লক্ষণ, প্রতিরোধ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

 হেপাটাইটিস

হেপাটাইটিস বলতে যকৃতের প্রদাহ (ফুলে যাওয়া) বোঝায়। ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ বা অ্যালকোহলের মত ক্ষতিকারক পদার্থের কারণে ঘটা যকৃতের একটি রোগ। হেপাটাইটিস অল্প কিছু উপসর্গসহ বা কোনো উপসর্গ ছাড়াই ঘটতে পারে। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে জন্ডিস, এনরেক্সিয়া (ক্ষুধমান্দ্য) ও অসুস্থতাবোধ এর লক্ষণ বা উপসর্গ। দুধরণের হেপাটাইটিস দেখা যায় : তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী। তীব্র হেপাটাইটিস ৬ মাসেরও কম স্থায়ী হয়, অন্য দিকে দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকে। মূলত হেপাটাইটিস ভাইরাসের কারণে এই রোগটির সূত্রপাত, তাছাড়া অ্যালকোহল, নির্দিষ্ট কতগুলো ওষুধ, শিল্প-জৈব দ্রাবক এবং উদ্ভিদের টক্সিক জাতীয় পদার্থের কারণে এই রোগটি ঘটে।

বর্তমানে প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন মানুষ হেপাটাইটিস “বি” ও প্রায় ৭১ মিলিয়ন মানুষ হেপাটাইটিস “সি” ভাইরাসে আক্রান্ত। ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ হেপাটাইটিস “বি” আক্রান্ত লোকদের মধ্যে মাত্র ৯ ভাগ ও হেপাটাইটিস “সি” আক্রান্ত লোকদের মধ্যে মাত্র ২০ভাগ লোকের পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মাত্র ৮ ভাগ হেপাটাইটিস “বি” এবং মাত্র ৭ ভাগ হেপাটাইটিস “সি” রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। হেপাটাইটিস “বি” এবং “সি” ভাইরাসের আক্রান্ত ৯০ শতাংশ রোগীই চিকিৎসার বাইরে থাকছে। শুরুতে হেপাটাইটিস চিকিৎসা না করলে তা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশে বেশ কয়েক লক্ষ মানুষ আজ হেপাটাইটিস-বি ব্যাধিতে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে আবার অনেকেই সংক্রামিত। যারা হেপাটাইটিস-বি দ্বারা আক্রান্ত তাদের ২৫ শতাংশ লিভারের দোষে ভোগেন। প্রতি বছর কয়েক হাজার বছর শিশু এই রোগে সংক্রমিত হয়। শরীরে এই ভাইরাস আসে কীভাবে? ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। ধরুণ মার শরীরে হেপাটাইটিস বির সংক্রমণ হয়েছে তা থেকে শিশুর শরীরে সংক্রামিত হয়। অধিকাংশ সময়ে শিশুর সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। দ্বিতীয় কারণ হল হরাইজন্টাল ট্রান্সমিশন অর্থাৎ এক শরীর থেকে অন্য শরীরে রোগের সংক্রমণ। যেমন ব্লাড ট্রান্সমিশন, যৌন সংসর্গ, ডায়ালিসিস, সূঁচ, সেলুনের ব্লেড ইত্যাদি।হেপাটাইটিস শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রীক শব্দ “হিপার ” যার অর্থ লিভার এবং ল্যাটিন শব্দ আইটিস যার অর্থ প্রদাহ, অর্থাৎ হেপাটাইটিস বলতে বুঝায় লিভার কোষের গঠনগত পরিবর্তন ও প্রদাহ । আমেরিকান হেরিটেইজ ডিকশনারী অনুসারে হেপাটাইটিস হল লিভারের প্রদাহ যার কারণ সংক্রামক বা বিষক্রিয়ার দ্বারা জন্ডিস, জ্বর, লিভার ইনলার্জ এবং পেটের বেদনা প্রভৃতি ।

হেপাটাইটিসের_প্রকারভেদ

– ১. হেপাটাইটিস ‘ এ ‘ ভাইরাস ২. হেপাটাইটিস ‘ বি ‘ ভাইরাস ৩. হেপাটাইটিস ‘ সি’ ভাইরাস ৪. হেপাটাইটিস ‘ ডি’ ভাইরাস এবং ৫. হেপাটাইটিস ‘ ই ‘ ভাইরাস , নিম্মে হেপাটাইটিস ৫ ধরনের ভাইরাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো.

হেপাটাইটিস্_এ:

হেপাটাইটিস্ এ রোগটির কারণ হল হেপাটাইটিস্ এ ভাইরাস। এটি সবচেয়ে পরিচিত হেপাটাইটিস্ রোগ। এটি সাধারণত সেইসব জায়গায় দেখা যায় যেখানে স্যানিটেশন ও বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুব খারাপ। সাধারণত দূষিত খাদ্য ও জল-আহারের মাধ্যমে এর সংক্রমণ ঘটে। এটি স্বল্পমেয়াদি রোগ, যার উপসর্গগুলো সাধারণত তিন মাসের মধ্যে চলে যায়। হেপাটাইটিস এ রোগ হলে ইবুপ্রোফেন জাতীয় পেনকিলার দেওয়া ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। টিকাকরনের মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ প্রতিরোধ করা যায়। সংক্রমণের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে যেমন; ভারতীয় উপমহাদেশ, আফ্রিকা, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, দূরপ্রাচ্য এবং পূর্ব ইউরোপ যাঁরা ভ্রমন করেন তাঁদেরকে হেপাটাইটিস রোগের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।

হেপাটাইটিস_বি:

হেপাটাইটিস্ বি রোগটির কারণ হল হেপাটাইটিস্ বি ভাইরাস। রক্ত ও বীর্য এবং যোনি তরলের মত শরীরের তরলে এটি সংক্রমিত হয়। এটি সাধারণত অসুরক্ষিত যৌন মিলন বা ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে রক্তের মধ্যে সংক্রমিত হয়। ড্রাগ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সাধারানত এটি ঘটে। এই রোগটি সাধারণত ভারতবর্ষ ও চীন, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উপ-সাহারান আফ্রিকায় হয়ে থাকে। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজে থেকে এই সংক্রমণটিকে প্রতিরোধ করতে পারে ও প্রায় দু-মাসের মধ্যে সংক্রমণমুক্ত হয়ে যায়। তবে, সংক্রমিত ব্যক্তি সংক্রমণের সময় অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ে, কিন্তু এটি সাধারণত সুদূরপ্রসারী কোনো ক্ষতি করে না। অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে অবশ্য এর সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদী হয়, যাকে বলা হয় দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস বি। হেপাটাইটিস বি’র টিকা পাওয়া যায়। ড্রাগ ব্যবহারকারী ও উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন অঞ্চলে যাঁরা বসবাস করেন তাঁদেরকে এই টিকাকরণের পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।

হেপাটাইটিস_সি:

হেপাটাইটিস্ সি রোগটির কারণ হল হেপাটাইটিস্ সি ভাইরাস। এটি সাধারণত রক্তে ও খুব অল্প ক্ষেত্রে সংক্রামিত ব্যক্তির লালা, বীর্য বা যোনি তরলে পাওয়া যায়। এটি সাধারণত যেহেতু রক্তে পাওয়া যায় তাই রক্ত থেকে রক্তের সংস্পর্শে এই রোগটি ছড়ায়। এই রোগের লক্ষণগুলো অনেকটা ফ্লুয়ের মত, তাই অনেকে সাধারণ ফ্লুয়ের সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেলেন। অনেক রোগীই নিজে থেকে এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারেন ও ভাইরাসমুক্ত হয়ে ওঠেন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর থেকে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে একে বলা হয় দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস সি। দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস সি’তে যাঁরা ভুগছেন তাঁরা এন্টিভাইরাল কতগুলো ওষুধ নিতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে কতগুলো অপ্রীতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও দিতে পারে। হেপাটাইটিস সি’র নির্দিষ্ট কোন টিকা এখনও পাওয়া যায় না।

অ্যালকোহলজনিত_হেপাটাইটিস:

প্রচুর পরিমাণে মদ্যপান করলে এটি দেখা যায়। প্রচুর পরিমাণে মদ্যপানে যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে এটি ক্রমশ: হেপাটাইটিস রোগ ডেকে আনে। এটির সাধারণত কোনো উপসর্গ দেখা যায় না, একমাত্র রক্ত পরীক্ষা করলে ধরা পড়ে। অ্যালকোহলজনিত হেপাটাইটিসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি যদি মদ্যপান
চালিয়ে যায় তবে তা অত্যন্ত ঝুঁকির হতে পারে। সেক্ষেত্রে , অন্ত্রের কঠিনীভবন (সিরোসিস) ও যকৃতের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আরো বিভিন্ন ধরণের হেপাটাইটিস

হেপাটাইটিস_ডি :

হেপাটাইটিস্ ডি রোগটির কারণ হল হেপাটাইটিস্ ডি ভাইরাস। একমাত্র যাঁদের হেপাটাইটিস্ বি হয়েছে তাঁদের মধ্যে এটি দেখা দিতে পারে। একমাত্র হেপাটাইটিস্ বি’র সঙ্গে হেপাটাইটিস্ ডি বাঁচতে পারে।

হেপাটাইটিস্_ই:

হেপাটাইটিস্ ই রোগটির কারণ হল হেপাটাইটিস্ ই ভাইরাস। এটি হল স্বল্পস্থায়ী ও এর তীব্রতা কম। এক্ষেত্রে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির সংক্রমণ কম।

অটোইমিউন_হেপাটাইটিস:

এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগ নয়। এক্ষেত্রে শ্বেত রক্ত কণিকা যকৃতের মধ্যে আক্রমনণ ঘটায়। এরফলে যকৃতের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত সাংঘাতিক কিছু ঘটতে পারে। এই রোগটির সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। এর উপসর্গগুলোর মধ্যে পড়ে ক্লান্তি, তলপেটে ব্যথা, গাঁটের ব্যথা, জন্ডিস (চোখ ও চামড়ায় হলুদাভ বর্ণ) ও সিরোসিস। .স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ (প্রিডনিসোলন ) ক্রমশ: কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফোলা ভাব কমাতে পারে ও রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

কারণঃ

মায়াজমেটিক কারণঃ *সোরা *সিফিলিস *সাইকোসিস *টিউবারকুলার।
ভাইরাস- হেপাটাইটিস ‘ এ ‘ ভাইরাস; হেপাটাইটিস-বি ‘ ভাইরাস; হেপাটাইটিস-সি’ ভাইরাস; হেপাটাইটিস’ ডি’ ভাইরাস ; হেপাটাইটিস’ ই ‘ ভাইরাস * ছোঁয়াচে (একের থেকে অন্যের ) মল মূত্র থেকে হতে পারে । সরাসরি মুখ থেকে যেমন এক গ্লাসে পানি খাওয়া বা আক্রান্ত ব্যক্তির মুখে চুমু খাওয়া; পরোক্ষভাবে আসতে পারে যেমন কাপড় চোপড় থেকে আসতে পারে । *ঘনবসতি এলাকায় যদি আক্রান্ত ব্যক্তি থাকলে তাহলে ছড়াতে পারে । * শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয় । *সহজে পানি , দুধ এবং সীল মাছ ইত্যাদি মাধ্যমে সহজে ছড়ায় । *অস্বাস্থ্যকর পরিবেশজনিত কারণে । * রক্ত দেওয়া ও নেওয়ার মাধ্যমে । * এ্যালকোহল।
যেই সব লক্ষণ দেখা প্রকাশ পাইতে পারে.
*জন্ডিস,* বমি বমিভাবওবমি, *জন্ডিস থাকতে পারে,* ডায়ারিয়া।*
পেশী ও গাঁটের ব্যথা,* কম্পন *ক্ষুধামন্দা ।
* জ্বর থাকতে পারে,*উচ্চ তাপমাত্রা (৩৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেট অর্থাৎ ১০০.৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তারও বেশী।*
অসুস্থ বোধ, *ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায় ।
*মাথা ব্যথা*সমস্ত শরীরে ব্যথা,
*মাঝেমধ্যে চোখ ও চামড়ার হলুদ হয়ে যাওয়া (যা জন্ডিস হতে পারে)
*দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিসের লক্ষণের মধ্যে পড়ে
*সময় সময় ক্লান্ত হয়ে যাওয়া,
*প্রসাবে হলুদ হয় । *হতাশা বা বিষণ্নতা *ওজন হ্রাস পায়
*সার্ভাইক্যাল লিস্ফনোড বৃদ্ধি পেতে পারে।
*অসুস্থতার সাধারণ অনুভূতি *রক্ত স্বল্পতা
*লিভার স্থান স্পর্শকাতর।
*শরীরে আমবাত, চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

রোগানুসন্ধান (Investigation)

* Blood CBC.
* LFT (Liver Function Test)
* Serrum Billirubin Test
* HBs AG
* SGPT
* SGOT
* Liver Biopsy.
* Urine RME C/S
* Stool RME C/S
* USG of W/A
#জঠিলতা (Complication)ঃ-
* হেমোরেজ।
* ব্রঙ্কাইটিস।
* এসাইটিস।
* ইডিমা।
* সিরোসিস অব লিভার।
* ক্যান্সার অব লিভার
* হেপাটিক ফেলিউর।
* লিভারের কার্যক্ষতা নষ্ট হয়ে যায়।
* কিডনীর সমস্যা।
* রক্তের ধমনীতে প্রদাহ।
* উচ্চ রক্তচাপ।
* হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি।
* হেপাটোথেলুলার কার্সিনোমা।

ভাবীফলঃ

হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাস চিকিৎসা ছাড়া আরোগ্য হতে দেখা যায়। HBV এবং HCV অত্যান্ত জটিল প্রকৃতির। ইহা চিকিৎসা ছাড়া আরোগ্য হয় না। যদি উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয় কোন কোন ক্ষেত্রে লিভার সেগুলো অস্বাভাবিকতার কারণে লিভার সিরোসিস হতে পারে। এমন কি লিভার ক্যান্সর ও হতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে উপযুক্ত চিকিৎসা না দেওয়ার কারণে রোগী মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।
প্রতিরোধ (Prevention:- যে কোন রোগের চিকিৎসা থেকে প্রতিরোধ ব্যবস্থাই উত্তম। হেপাটাইটিসের প্রতিরোধের উপায় নিম্নে দেওয়া হল-
* যৌন সম্ভোগের সময় কনডম ব্যবহার করুন। অর্থাৎ নিরাপদ যৌন চর্চা করুন।
* কাঁচা সালাদ, ফল-মূল বেশি খাবেন কিন্তুু পরিস্কার করে খাবেন।
* লবন খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ।
* তৈলাক্ত বা চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
* নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ম করুন।
* পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
* তিন মাস পর পর রক্ত পরীক্ষা করুন।
* ব্যক্তিগত দ্রব্যদি সহব্যবহার্য বর্জন করুন।
* একই সুঁই ও সিরিঞ্জ বার বার ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
* নিরাপদ রক্তসঞ্চালন করা।
* সময় মত টিকা গ্রহণ করা।
* হেপাটাইটিস সম্পর্কে গনসচেতনতা গড়ে তোলা।
* সার্জারী ও দাঁতের চিকিৎসায় নিরাপদ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা।
* সূচের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য গ্রহণ না করা।
* গ্রামগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ডিসপজেবল নিডল ব্যবহার করা নিশ্চিত করা।
* বিশুদ্ধ পনি পান করা।
* টাটকা শাকসবজি এবং কাঁচা ফলমূল ভাল কওে ধুঁয়ে তারপর খাওয়া।
* টয়লেট ব্যবহারের পর এবং রান্না করার আগে ও খাওয়ার আগে হাত ভালভাবে সাবান দিয়ে ধুঁয়ে নেওয়া।
* হেপাটাইটিস সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করা।
* জনগণকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের গণসচেতনতামুলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

ব্যবস্থাপনা (Management):-

A) ঔষধ (Medicine):- সাদৃশ্য লক্ষণ অনুসারে নিম্নেলিখিত ঔষধ যোগ্যতাসম্পন্ন হোমিওপ্যাথ এর পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন-চেলিযোনিয়াম (Cheledonium), কার্ডুয়াস (Carduus), লাইকোপোডিয়াম (Lycopodium), হাইড্রাসটিস ক্যান (Hydrastis can), ব্রায়োনিয়া (Bryonia), আর্সেনিক এলবাম (Arsenic Album), ক্যালি কার্বনিকাম (Kalicarbonicum), ফসফরাস (Phosphorus), চায়না অফিসিনালিস (China Officinalis) প্রভৃতি।
এখানে ঔষধের নাম দেয়া হলো বিস্তারিত লক্ষণ পেতে ক্লিক করুণ

B_উপদেশ (Advice):-

i) পালনীয়/করনীয় (Should Do):-
* সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
* শৃঙ্খলিত জীবন যাপন করুন।
* নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করুন।
* স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করা।
* আক্রন্ত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিহার করুন।
* খাবার প্রস্তুুত ও খাওয়ার আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর ভাল করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

ii) নিষেধ (Avoid):

* ধুমপান ও তামাক চিবানো।
* মদ্যপান বা এলকোহল।
* সকল প্রকার চর্বি জাতীয় খাবার।
* রাত্রীজাগরণ।
* মাছ, মাংশ নিষেধ।
* লবন বা সোডিয়াম সম্পূর্ণ নিষেধ।

iii) পথ্য (Diet):-

* সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।
* টাটকা সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল ধুঁয়ে খাওয়া।
* চর্বিহীন খাবার খাওয়া।
* উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার।
* ডাবের পানি পান করা।
* প্রচুর পরিমান বিশুদ্ধ পানি পান করা।

রচনায়ঃ

Dr. Md. Imamul Islam Imam
BHMS(University of Dhaka)  CSW(University of Dhaka)   
Ex House Physician
Govt. Homeopathic Medical College Hospital. Govt Reg. – H-1579
House#323, Road #04, Avenue #04, Mirpur DOHS, Dhaka
Contactঃ 01516180186

@আইবিএস এর লক্ষণ ও প্রতিকারে হোমিওপ্যাথি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *