lifocyte.com

হ্যানিম্যান

হোমিওপ্যাথি এক বিস্ময়কর সুন্দর ও প্রকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি

হোমিওপ্যাথি

হোমিওপ্যাথি নিয়ে একটি সুন্দর ও মৌলিক আলোচনা লেখায়  ডা. মো. নাছির উদ্দিন খান স্যারের লেখাটি আমাদের ওয়েবসাইটে ওনার নামেই প্রকাশ করা হলো । ফেসবুকে অনেক সময় অনেক অভিজ্ঞতা ও দূর্লভ লেখা কালের আবর্তে হারিয়ে যায় । দুই দিন আগের লেখাও অনেক সময় খুঁজে পাওয়া যায় না । তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিজ্ঞ চিকিৎসকগণের  অভিজ্ঞতা এই ক্যাটাগরিতে কুড়ানো মানিক হিসেবে লেখকের নামেই প্রকাশ করব  ইনশাআল্লাহ ।

 হোমিওপ্যাথি-এক বিস্ময়কর সুন্দর চিকিৎসা পদ্ধতি

হোমিওপ্যাথি মানবকল্যানমুখী এক আদর্শ চিকিৎসা পদ্ধতি ।ইহার একটি নিজস্ব দর্শন আছে ।প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের চিরন্তন বিধানসমূহের উপর ইহার প্রতিটি নীতি সুপ্রতিষ্ঠিত । বিশ্বখ্যাত জার্মান চিকিৎসা-বিজ্ঞানী মহাত্মা স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ১৭৯৬ সালে এই বৈপ্লবিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রবর্তন করেন ।এই পদ্ধতি প্রচলিত সমস্ত চিকিৎসা-পদ্ধতি থেকে নীতি ও প্রয়োগ-পদ্ধতিতে সম্পূর্ন স্বতন্ত্র ।

”আমি আর রোগ যন্ত্রনা সহ্য করতে পারছি না, আমাকে বাচান।”-একজন রুগ্ন মানুষই আর্তকন্ঠে চিকিৎসকের কাছে এই আকুল আবেদন জানায় ।আর তাই এই রুগ্ন মানুষই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার কেন্দ্র বিন্দু ।যে মানুষটি কোন রোগাবস্থায় ভুগছে, তাকে সেই অবস্থা থেকে মুক্ত করে তার পূর্ব স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনাই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য ।যে কষ্টকর উপসর্গ গুলোতে সে ভুগছে সেগুলা শুধু দূর করা বা সাময়িকভাবে চাপা দেওয়া হোমিওপ্যাথির লক্ষ্য নয় ।

মানুষ বলতে শুধু তার মাথা, হাত, পা ইত্যাদি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বুঝায় না ।মানুষ বলতে একজন পূর্নাঙ্গ মানুষকেই বুঝায়, যার রক্ত-মাংসের দেহ আছে, দেহে প্রান আছে, মন আছে ; যার আনুভূতি ও চিন্তাশক্তি আছে ; আছে সাধ-আহ্লাদ, ইচ্ছা-অনিচ্ছা । মানুষ যখন অসুস্থ হয়, তখন এই সম্পূর্ন মানুষটিই অসুস্থ হয় ।তার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাম্যাবস্থা বিনষ্ট হয় ।তার মনের ভাললাগা-বোধ নষ্ট হয়ে যায় ।তার আর কিছুই ভাল লাগে না ।এইজন্য আমরা যদি অসুস্থতার প্রকৃত ও পূর্ন চিত্র পেতে চাই, তাহলে কেবল রোগীর প্রধান সমস্যাকে বিবেচনা করলেই চলবেনা ; বরং বিবেচনা করতে হবে দেহের সব অঙ্গের লক্ষনগুলো ; সেই সাথে মনের লক্ষনগুলোও ।

তাই একজন সুদক্ষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক রোগীর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করেন এবং একজন পূর্নাঙ্গ মানুষ রোগীর চিকিৎসা করেন । তিনি হোমিওপ্যাথির সুনির্দিষ্ট নীতি অনুসরন করে সকল কষ্ট দূর করার জন্য রোগীকে একটিমাত্র ওষুধ সূক্ষমাত্রায় প্রয়োগ করেন । মাথার জন্য একটি, চোখের জন্য একটি, পেটের জন্য একটি – এভাবে কখনোই নয় ।সুনির্বাচিত একটি মাত্র ওষুধ রোগীদেহে সামগ্রীকভাবে কাজ করে এবং তার সমস্ত কষ্টগুলো অপসারন করে ।এর ফলে রোগীর দেহতন্ত্রে শৃঙ্খলা ফিরে আসে । রোগীর ভাললাগা-বোধ আবার জাগ্রত হয় । সে তার পূর্বস্বাস্থ্য ফিরে পায় ।

একজন যোগ্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে রোগীর কী নামের রোগ হয়েছে তা সনাক্ত করার জন্য অসহায়ভাবে বসে থাকতে হয় না । প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নীরিক্ষার রিপোর্টের জন্যও তাকে সময় ব্যয় করতে হয় না । তিনি প্রথমে বিস্তারিতভাবে রোগীর বিবরনী সংগ্রহ করেন ; লক্ষন ও চিহ্নের সাহায্যে তিনি রোগীর দেহ ও মনের ভাষা বুঝেন । এরপর তিনি হোমিওপ্যাথিক নিয়ম-নীতি অনুসরন করে ওষুধ প্রয়োগ করেন ।রোগী সুস্থ হয়ে উঠে ।

হোমিওপ্যাথিতে রোগের নামের চিকিৎসা হয় না ; রোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা হয় ।এটাই হোমিওপ্যাথির সৌন্দর্য ।এই জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সাফল্য বিস্ময়কর । অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য বহু জায়গায় ঘুরে বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় করেও কোন উপকার পায় না । এরপর যখন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় স্বল্প খরচে এবং অতি অল্প সময়ে রোগমুক্ত হয়, তখন সে মুগ্ধ হয়ে চিরদিনের জন্য হোমিওপ্যাথর ভক্ত হয়ে যায় ।

হোমিওপ্যাথি যেকোন রোগকে তার অংকুরেই বিনাশ করে দিতে পারে ।যেমন ধরুন : একজন বয়ষ্ক ব্যাক্তি মূত্রপাথরী রোগে আক্রান্ত হয়ে কষ্ট পাচ্ছে ।তার খাওয়ার রুচী নাই ।সামান্য খেলেই পেট ভরে যায় ।তার প্রস্রাবের সাথে ইট রঙের বালিকনা নির্গত হয় ।এছাড়া অন্যান্য লক্ষনও আছে ।সাধারনত: বিকাল ৪ টার পর তার লক্ষনগুলো বেড়ে যায় ।একজন যোগ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক শুধুমাত্র ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে এই রোগীর কিডনীর পাথর অপসারন করে কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে সম্পূর্ন সুস্থ করে তুলতে পারেন । কোন পরীক্ষা-নীরিক্ষা বা অপারেশানের দরকার হয় না ।আবার, যে অবুঝ শিশু আজ কেবল কামড়া কামড়ি করে, যা পায় তাতেই কামড় দেয়; মায়েক বুকে কামড় দেয়, মা চিৎকার করে; অন্য কোন চিকিৎসা পদ্ধতি এই শিশুর জন্য কিছু করতে না পারলেও, হোমিওপ্যাথি সামান্য ওষুধের সাহায্যে এই শিশুর কামড়া কামড়ি বন্ধ করে তার মাকে শান্তি দিতে পারে ।সেই সাথে শিশুটিকেও ভবিষ্যতের মারাত্বক রোগের আক্রমন থেকে বাচাতে পারে ।

সমস্যা হলো, মানুষ প্রথমে হোমিওপ্যাথক চিকিৎসা গ্রহন করে না ।প্রায়ই দেখা যায়, সব চেষ্টা শেষ করে ব্যর্থ হয়ে,নিরুপায় হয়ে,রোগকে আরো জটিল করে মৃতপ্রায় আবস্থায় আসে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে । অথচ যদি রোগাক্রান্ত হয়ে শুরুতেই সে প্রকৃত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহন করত,তাহলে সহজেই সুস্থ হয়ে যেত ।
সমাজের বহু মানুষ আজও হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে জানেই না । মানবকল্যানমুখী এ চিকিৎসা পদ্ধতিটি যে কত উপকার করতে পারে, সে সম্পর্কে অনেক মানুষের কোন ধারনাই নাই ।এইজন্য সকলের কাছে আমার পরামর্শ, যদি নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্যের জন্য হোমিওপ্যাথি নির্বাচিত হয়,তাহলে একজন যোগ্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক খুজে বের করুন ।আপনার জন্য রইল আমার শুভকামনা ।

 প্রকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি

আমরা অনেকেই হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে জানি না ।আবার কেউ কেউ এ সম্পর্কে যা জানি তা আসলে সঠিক না । হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে আমাদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কতটুকু সমাধান সম্ভব সে সর্ম্পকে আমাদের অনেকেরই প্রকৃত ধারনা নেই ।

হোমিওপ্যাথি সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকের জানা উচিত ।আর তা জানতে হবে আমাদের নিজেদের প্রয়োজনেই ।
বিশ্বখ্যাত জার্মান চিকিৎসা বিজ্ঞানী স্যামুয়েল হ্যানিম্যান এই চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করেন ।

কেন করলেন ? তিনিতো ছিলেন এলোপেথিক চিকিৎসক ।তিনি ছিলেন তৎকালিন পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় ।
তারপরও মানব জাতির প্রকৃত কল্যান কামনায় আবিষ্কার করলেন প্রাকৃতিক চিকিৎসা পদ্ধতি- হোমিওপ্যাথি ।
তিনি ছিলেন মানবপ্রেমী ।তাইতো বিরোধীদের সকল জুলুম নির্যাতন সহ্য করে নিজের জীবন বাজী রেখে আবিষ্কার করলেন প্রকৃত চিকিৎসার এই পদ্ধতি ; যে পদ্ধতিতে মানুষ আসলেই যেকোন রোগ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে পারে ।

https://lifocyte.com/category/homeopathy/

তাই আসুন আমরা আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঠিক উপায় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি ।
রোগাক্রান্ত অসুস্থ মানুষ রোগমুক্ত হওয়ার আশায় কত কিছু করে । বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির নানা রকম ওষুধ সেবন করে ।
অধিকাংশ সময়ই মানুষ কেবল সাময়িক কিছুটা শান্তি লাভ করে ।
প্রকৃত পক্ষে রোগী স্থায়ীভাবে সুস্থ হয় না ।রোগ আবার পূর্বের মতই অথবা আরও জটিল আকার ধারন করে ফিরে ফিরে আসে ।

প্রকৃত সুস্থতার জন্য পৃথিবীতে একটাই চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে । আর তা হল হোমিওপ্যাথি ।
সূক্ষমাত্রার শক্তিকৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ রোগকে চাপা দেয়না , বরং নির্মূল করে ;
সাময়িকভাবে উপসম করে না , বরং স্থায়ীভাবে আরোগ্য করে ।
এর জন্য দরকার প্রকৃত হোমিওপ্যাথি বা ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি ।

ডা. মো. নাছির উদ্দিন খান
B.Sc(Hon’s); M.Sc(Zoology); D.H.M.S.(Dhaka)
বোর্ডস্ট্যান্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক
Govt. Reg. No. 24253
চেম্বার: ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথি সেন্টার
বেগম মসজিদ সংলগ্ন, নতুন বাজার, চাদপুর ।

2 thoughts on “হোমিওপ্যাথি এক বিস্ময়কর সুন্দর ও প্রকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি”

  1. Pingback: কৃমি – কৃমির হোমিওপ্যাথিক  চিকিৎসা [কৃমির জম] - Lifocytex.com

  2. Pingback: বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড এর দেয়া তিন প্রস্তাব - Lifocytex.com

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *