lifocyte.com

হোমিও ঔষধ

হোমিও ঔষধ এর শক্তি, মাত্রা প্রয়োগ পদ্ধতি

হোমিও ঔষধ

হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। সঠিকভাবে হোমিও ঔষধ নির্বাচন করতে হলে রোগী ও রোগের লক্ষণগুলোর প্রকৃত পরিচয় নির্ণয় করতে হবে । রোগীর শারীরিক ও মানসিক  লক্ষণগুলি সংগ্রহ করতে হবে। লক্ষ্মণ না মিললে  হাজার বার হোমিও ঔষধ পাল্টিয়ে এবং হাজার ডোজ ঔষধ খেয়েও সামান্য ছোটখাট রোগ সারানো সম্ভব না।লক্ষ্মণ মেলার পর যদি শক্তি, মাত্রা সঠিক দেয়া যায় তবে খুব সহজেই আরোগ্য হয়।

লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথিতে রোগের নামে কোন ঔষধ নাই।অব্যর্থ সিরিজের বইগুলোতে যে সকল ঔষধের মান লেখা থাকে  তা নতুন চিকিৎসকের জন্য সহায়ক বা ক্যটালগ বই বলা চলে। এর সাহাজ্যে অবগত হওয়া যায় কোন কোন ঔষধ গুলোর দিকে মনোনিবেশ করা যায়। একই রোগের জন্য সব রোগীকে একই ঔষধ দিলে কোন কাজ হবে না। যেমন ধরুন জ্বরের কথা, জ্বরের সাথে প্রবল পিপাসা, ঘন ঘন পানি পান, মৃত্যুভয় ছটপটানি থাকলে এক ঔষধ আর দেরিতে পানিপান হয় তবে অন্য ঔষধ হবে। আবার চুপ করে শুয়ে থকলে এক ঔষধ। হিট স্ট্রোকের জন্য জ্বরে  এক ঔষধ  বিকার লক্ষ্মণ থাকলে অন্য ঔষধ। জ্বর হওয়ার কারণ ও রোগীর চারত্রিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করেও হোমিও ঔষধ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।মূলকথা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা একটি লক্ষণ ভিত্তিক চিকিৎসা বিজ্ঞান।

হোমিও ঔষধ এর শক্তি পরিচয়

শততমিক পদ্ধতিতে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের শক্তিগুলো হলো মাদার টিংচার(Q) , ৩, ৬, ১২, ৩০, ২০০, ১০০০ (বা 1M), ১০০০০ (বা 10M), ৫০০০০ (বা 50M), ১০০,০০০ (বা CM) ইত্যাদি। সবচেয়ে নিম্নশক্তি হলো মাদার টিংচার (Q)। তাদের মধ্যে ৩, ৬, ১২, ৩০ কে বলা হয় নিম্নশক্তি আর ২০০ শক্তিকে বলা হয় মধ্য শক্তি। (অনেকের মতে ৩০ শক্তি মধ্যম ২০০ শক্তি উচ্চশক্তি)।প্রকৃতপক্ষে  ১০০০, ১০০০০, ৫০০০০ এবং ১০০০০০(সি এম) উচ্চ শক্তির হোমিও ঔষধ ।

শক্তি প্রয়োগ কৌশল
  • হোমিওপ্যাথির আবিষ্কারক ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের মতে, ৩০ শক্তি হলো স্ট্যান্ডার্ড শক্তি।
  • নতুন রোগ বা ইমারজেন্সী রোগের ক্ষেত্রে নিম্নশক্তি এবং মধ্যশক্তির ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা দিতে হয় উচ্চশক্তি না দেয়া উত্তম।
  • উচ্চ শক্তির ঔষধ প্রয়োগ করতে হয় অনেক দিনের পুরনো রোগে বা  ক্রনিক ডিজিজে।
  • রোগীর জীবনীশক্তি যদি খুব দূর্বল হয় তবে নিম্নশক্তি দিয়ে চিকিৎসা দেয়া উচিৎ যদিও তার রোগ ক্রনিক হয়ে থাকে। প্রয়োজনে ধিরে ধিরে উচ্চশক্তিতে নেয়া যায়।
  • জীবনীশক্তি দৃঢ় হলে এবং ক্রনিক ডিজিজ হলে শুরুতেই নির্বাচিত উচ্চশক্তি দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে ফাইটাম দিলে খুব অল্প সময়ে দ্রুত আরোগ্য হয়।
  • মায়াজম ঘটিত প্রকট রোগগুলো সাধারণত নিম্নশক্তিতে তেমন কাজ হয় না, তাই এই সকল ক্ষেত্রে উচ্চশক্তির হোমিও ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়।
  • ক্রনিক ডিজিজে সাইলেসিয়া, হিপার সালফার,  থুজা,  টিউবারকুলিনাম, মেডোরিনাম, সিফিলিনাম ইত্যাদি ঔষধ গুলো ২০০ শক্তির নিচে না দেয়ায় উচিৎ। 1m, 10m  দিয়ে চিকিৎসা দেয়া কর্তব্য।
  • নসোডস মেডিসিন গুলো নিম্নশক্তি দিয়ে চিকিৎসা করা উচিৎ নয়। 200 বা তার থেকে উচ্চশক্তি বাঞ্চনীয়।

ঔষধের মাত্রা নির্বাচন

হোমিওপ্যাথিক মূল ঔষধটি তৈরী করা হয় তরল আকারে যা রেক্টিফাইড স্পিরিট যুক্ত ।রোগীকে সরাসরি মূল ঔষধটি  দেওয়া হয় অথবা সেগুলো  পানিতে মিশিয়ে, (চিনির) বড়িতে মিশিয়ে অথবা দুধের পাউডারে মিশিয়ে।  তবে সরাসরি মূল ঔষধটি কেনা বা খাওয়া উচিত নয়। কেননা এতে ঔষধ বেশী খাওয়া হয়ে যায়; ফলে তার সাইড-ইফেক্টও  হতে পারে। এক ড্রাম গ্লোবিউলস বা চিনির বড়িতে ৫ ফোটা মূল ঔষধ দিয়ে সিক্ত করে কর্ক দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখবেন।  চিনির বড়িতে সিক্ত করা ঔষধের  ৪/৫ টি বড়ি এক ডোজ বা মাত্রা হিসেবে সেবন করা উচিৎ।  এছাড়াও ডিস্টিল্ট ওয়াটার এ মিশ্রিত করে নিয়ে ৪/৫ ফোটা ঔষধ মিশ্রিত পানি এক মাত্রা হিসেবে সেব্য।

দিনে কত বার সেব্য?

এই বিষয়টি খুবই সেন্সিটিভ কেউ মুখ খুলে কিছু বলতে চায় না। অর্গাননের ভাষা আর চিকিৎসকগের প্রয়োগ অনেক ভিন্ন। ২০০ শক্তি একটি ডোজ দিয়ে তিন দিন  অপেক্ষা করতে হবে।  অত:পর কেইস টেকিং নিয়ে দ্বিতীয় ঔষধ বা মাত্রা নির্বাচন করুন।

বাস্তবে আমি ছোট থেকে যা বিভিন্ন চিকিৎসকগনকে চিকিৎসা দিতে দেখেছি ২০০ শক্তি দিনে দুইবার করে দিতে। ৩০ বা নিম্নশক্তি  ৩/৪ বার করে সেবন করাত। অব্যর্থ শ্রেণির বইগুলোতে দেখবেন চিকিৎসকগন লিখে দিয়েছেন ২০০ শক্তি দিনে ২বার, ৩০ শক্তি দিনে ৩/৪ বার। এখন সমাধান কি?  হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নয় সকল বিজ্ঞান পরিবর্তনশীল। প্রগতিশীলরা যৌক্তিক নতুনত্বকে গ্রহন করতে পারে কিন্তু সংকির্ণমনাদের নিয়ে যত যঞ্জাল, তারা ভুলকে আকরে ধরে থাকবে তা নয়, সঠিককে পদদলিত করতে  কুন্ঠাবোধ করে না ।

উচ্চশক্তি প্রয়োগ কৌশল

১ এম সপ্তাহে একমাত্রা, ১০এম ১৫ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় মাত্রা না দেয়াই উত্তম। আমি অনেক রোগ ১০ দিয়ে নির্মূল হতে দেখেছিব্ল।৫০ এম বা সি এম  তখনি প্রয়োগ করা উচিৎ যখন আপনি নিশ্চিত যে এই ঔষধই তার জন্য উপযুক্ত । আর উপযুক্ত হলে একডোজই যথেষ্ট। একডোজে কাজ না হলে বুঝবেন হয়তো আপনার ডায়গোনোসিস সমস্যা হয়েছে। অতএব রোগীকে নিয়ে ভালো করে ভাবুন, বই দেখুন। উচ্চশক্তি দিয়ে চিকিৎসা দেয়ার সময় একডোজ ঔষধ দিবেন। আর ফাইটাম দিবেন দিনে একবার।

কোন রোগীতে কি মাত্রা দিবেন?

শিশুদের ও দূর্বলদের জন্য তিরুন পীড়ায় যেমন – জ্বর, ডায়রিয়,কাশি, নিউমোনিয়া  নিম্নশক্তি(৬,৩০) ঘন ঘন (দিনে ৩/৪ বার) প্রয়োগে করা যেতে পারে৷ শিশুদের জন্য মাদার টিংচার দিয়ে চিকিৎসা দেয়া অনুচিত। বয়স্কদের বেলাতেও চিন্তা করা দরকার।

অনেক ভয়ে ভয়ে লিখলাম কেননা, এখন  মিডিয়া পন্ডিতমন্য ব্যক্তি দ্বারা ভরপুর । কিছু ঔষধ আছে নিম্নশক্তি ক্ষতিকর আবার কিছু আছে উচ্চশক্তি ক্ষতিকর তাই প্রত্যেক চিকিৎসকে মেটেরিয়া মেডিকা নিয়মিত পাঠকরা উচিৎ। মেটেরিয়া মেডিকা অধ্যায়ন ছাড়া প্রকৃত হোমিওপ্যাথ হওয়া যায় না। মেটেরিয়া মেডিকা অর্গাননে প্রতিচ্ছবি আর রেপার্টরি তার ক্যাটালগ বলা যায় এবং অব্যর্থ বইগুলো প্রবেশদ্বার।সাথে থাকুন, গঠনমূলক পরামর্শ দিন [পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করা হবে ] শেয়ার করু,, মাঝে মাঝে পড়ুন ( আপডেট পেতে)।

 

শিশু রোগের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ  নির্বাচন  কৌশল 

কাতরতা দিয়ে হোমিও ঔষধ নির্বাচন ও ফ্রি পিডিএফ

কস্টিকাম (Causticum) – মেটেরিয়া মেডিকার পরশমণি [পক্ষাঘাত ও আঁচিল ]

 

টিউবারকুলিনাম ( Tuberculinum )-এর পরিচায়ক লক্ষণসমূহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *